অ্যাপউন্নয়নটেকনোলজিবিকাশমোবাইল ব্যাংকিং

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম এবং বিস্তারিত

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশ্ব এগিয়ে চলেছে দূরন্ত গতিতে। আজকের সময়ে আমরা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছি। প্রযুক্তিগত নানা পরিবর্তনে আমাদের জীবন এখন অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে আমাদের প্রতিদিনের নানা কাজের সাথে সম্পর্কিত বহু ক্ষেত্রে। তারই ধারাবাহিকতায় আর্থিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আমরা এখন প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছি। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে আমাদের জন্য যেমন রয়েছে ই-ব্যাংকিং তেমনি অন্যান্য আর্থিক বিনিময়ের জন্যও রয়েছে নানা পরিষেবা। তেমনই মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদানেরই একটি পরিষেবা হলো বিকাশ। বাংলাদেশে অনেক মোবাইলফোন ব্যবহারকারি রয়েছে, সে কথা মাথায় রেখে আর্থিক সেবা দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রাথমিকভাবে বিকাশ নিয়ে গবেষণামূলক কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। দেশে বহু মানুষ যেহেতু মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে দেশজুড়ে বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং সেবা দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে পৌঁছানো যেতে পারে। এজন্য একটি দ্রুত ও দক্ষ মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে কোন একটি সঠিক পরিষেবা। এমন ধারণা থেকেই এ দেশে বিকাশ সার্ভিসের সূচনা হয়।

বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের মতো আমাদের দেশেও জীবিকার তাগিদে অনেকে গ্রাম থেকে শহরমুখী হয়। এমনসব কর্মজীবিদের জন্য এবং স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে ব্যাপক পরিসরে আর্থিক সেবা প্রদানই বিশেষত বিকাশ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মূল মৌলিক ভাবনা হিসেবে কাজ করে। বিকাশের মাধ্যমে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে ব্যাপক পরিসরে আর্থিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সাথেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত-

সূচিপত্রঃ

বিকাশ এর অগ্রযাত্রা

স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী, এবং নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গবেষণামূলক প্রাথমিক কিছু কাজ দিয়ে বিকাশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিস্তার লাভ করে নিজেদের কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করে। ২০১১ সালের ২১ জুলাই রবি আজিয়াটা লিমিটেডকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর সহযোগী হিসেবে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রদানের কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে বাংলাদেশ এবং মানি ইন মোশন, ইউএসএ এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড-এর একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে বিকাশ। পরে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিকাশের অন্যতম অংশীদার হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। বর্তমানে সারা দেশজুড়ে বিকাশের অর্থনৈতিক সেবা প্রদানের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক বিকাশ একাউন্ট কী কী উপায়ে খোলা যাবে এবং এর সম্পর্কে বিস্তারিত-

বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট

বর্তমানে ঘরে বসে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার রবি, এয়ারটেল, টেলিটক ইত্যাদি যে কোন নাম্বার থেকে একটি পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন। একজন পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট হোল্ডার তার বিকাশ একাউন্ট এর মাধ্যমে ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি, পে-বিল, ডোনেশান ইত্যাদি নানা অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঘরে বসে অনলাইনেই সেরে নিতে পারবেন। একটি বিকাশ পার্সোনাল একাউন্টে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যায়। এছাড়াও প্রতিটি বিকাশ একাউন্টে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত রাখা যায়।

কীভাবে খুলবেন বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট?

অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ একটি দ্রুত ও নিরাপদ মাধ্যম। সেন্ড মানি, ক্যাশ আউট, পে-বিল, অ্যাড মানি, মোবাইল রিচার্জ এবং অন্যান্য পেমেন্টসহ বিকাশ আপনাকে দেবে লাইফ সহজ করার মতো আরো অনেক সার্ভিস। আপনি বিভিন্ন উপায়ে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলতে পারবেন। যেকো্নো বিকাশ এজেন্ট, গ্রাহক সেবা কেন্দ্র ও গ্রাহক সেবা থেকে যেমন বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খোলা যাবে, তেমনি বিকাশ অ্যাপ দিয়ে সেলফ রেজিস্ট্রেশন করেও একাউন্ট খোলা যাবে।

একজন মোবাইল ফোন ব্যাবহারকারি যেকোনো উপায়ে দেশের যেকো্নো স্থান থেকে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলে নিতে পারেন। বিকাশ একাউন্ট খুলতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে একজন গ্রাহককে নির্দিষ্ট গ্রাহক নিবন্ধন ফর্ম বা কেওয়াইসি পূরণ করতে হয়।

ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পয়েন্টে ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে মোবাইল ফোন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি নিকটবর্তী ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পয়েন্টে নিয়ে আসুন-

এরপর বিকাশ এজেন্ট আপনার মোবাইল নাম্বার ও অপারেটর নিশ্চিত করে পার্সোনাল একাউন্ট খোলার জন্য অনুমতি নেবেন এবং আপনার নাম্বারে পাঠানো রেফারেন্স নাম্বারটি নেবেন। তারপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের ও পেছনের অংশের ছবি তুলবেন এবং এজেন্ট ই-কেওয়াইসি এন্ট্রির জন্য আপনার একটি ছবি তুলবেন। সব কাজের পর সফল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনি একটি কনফার্মেশন এসএমএস পাবেন।

একইভাবে, এজেন্ট পয়েন্টে কেওয়াইসি (KYC) ফর্ম পূরণ করে বিকাশ একাউন্ট খুলতে আপনার মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয় পত্র (মূল এবং ফটোকপি), এবং ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে নিকটবর্তী এজেন্ট পয়েন্টে চলে যান। এরপর এজেন্ট আপনার বিকাশ একাউন্ট রেজিস্ট্রেশানের জন্য পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন করার পরই আপনি আপনার মোবাইল ফোনে সফলভাবে একাউন্ট খোলার কনফার্মেশান ম্যাসেজটি পেয়ে যাবেন।

এছাড়াও বিকাশ কেয়ার এবং বিকাশ সেন্টারে গিয়েও আপনি বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলে নিতে পারেন। এজন্য আপনার মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল এবং ফটোকপি)/ মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স (মূল ও ফটোকপি) / পাসপোর্ট (মূল ও ফটোকপি) এবং ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে আপনার নিকটবর্তী বিকাশ কেয়ারে বা বিকাশ সেন্টারে চলে যান। এরপর একাউন্ট ওপেনিং ফর্মটি পূরণ করে আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ ও স্বাক্ষর দিন।

এসব কাজের পর বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলে গেলে আপনাকে আপনার বিকাশ মোবাইল মেন্যুটি অ্যাক্টিভেট করে নিতে হবে। আপনার মোবাইল মেন্যু অ্যাক্টিভেট করার জন্য *২৪৭# ডায়াল করে বিকাশ মোবাইল মেন্যুতে যান এবং সেখান থেকে ”অ্যাক্টিভেট মোবাইল মেন্যু” বেছে নিন। এরপর বিকাশ একাউন্টের জন্য ৫ ডিজিটের পিন নাম্বারটি প্রবেশ করান, আবার কনফার্ম করার জন্য আপনার পিন নাম্বারটি আবার প্রবেশ করান এবং আপনার পিন নাম্বারটি সবসময় গোপন রাখুন।

এ সকল প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার মোবাইল নাম্বারটি একটি বিকাশ একাউন্ট নাম্বার হিসেবে গণ্য হবে। সাধারণত, একজন গ্রাহক যদি বিকাশ সেন্টার অথবা বিকাশ কেয়ার থেকে একাউন্ট খোলেন তবে সাথে সাথে তিনি বিকাশ এর সকল সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আপনার বিকাশ পার্সোনাল একাউন্টটি খুলে যাওয়ার পর এই বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে আপনি মোবাইল রিচার্জ, ক্যাশ ইন এবং টাকা আদান-প্রদান  সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, পরবর্তী সময়ে তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে আপনার কেওয়াইসি (KYC) ফর্মের তথ্য যাচাই হয়ে গেলে এরপর থেকে ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জ, পেমেন্ট, বিদ্যুৎ বিল প্রদান ইত্যাদিসহ বিকাশের অন্যান্য সকল সেবাসমূহ আপনি উপভোগ করতে পারবেন। আপনার বিকাশ একাউন্টটি সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হওয়ার পর আপনি *২৪৭# ডায়াল করে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন বিকাশের সেবাসমূহ ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলা একদম সিম্পল একটি কাজ। আপনি আপনার স্মার্ট ফোনে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে সহজেই ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন নিচের দেখানো ধাপগুলো অনুসরণ করে।

অ্যাপ থেকে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন-

ধাপ ১ঃ

ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলতে প্রথমে আপনার মোবাইলের গুগল প্লে স্টোর(এন্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে)  অথবা অ্যাপেল স্টোর থেকে(আইফোনের ক্ষেত্রে) বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১

ধাপ ২ঃ

এবার বিকাশ অ্যাপটি ওপেন করুন এবং নিচের ছবিতে দেখানো লগ ইন / রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ 2

ধাপ ৩ঃ

রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করার পরে এবার নিচের ছবিতে দেখানো মোবাইল নাম্বার এর জায়গায় আপনি যে নাম্বার দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চান সেটি দিন এবং পরবর্তী বাটনে ক্লিক করে এগিয়ে যান।বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ 3

ধাপ ৪ঃ

এবার আপনার দেয়া সিমের নাম্বারটি গ্রামীণ বাংলালিংক, এয়ারটেল, টেলিটক, নাকি রবি অপারেটর এর তা নির্বাচন করুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৪

ধাপ ৫ঃ

নির্দিষ্ট অপারেটর বাছাই এর পরে আপনার মোবাইল নাম্বারে ভেরিফিকেশনের জন্য একটি কোড পাঠানো হবে, যা আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে পেয়ে যাবেন। এরপরে সেই কোডটি নিয়ে এসে নিচের ছবিতে দেখানো ফাঁকা জায়গাটিতে বসান। তারপর কনফার্ম করুন এবং এগিয়ে যান।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৫

ধাপ ৬ঃ

এবার নিচের ছবির মত একটি নিয়ম ও শর্তসমূহ এর পেজ দেখতে পাবেন, যেখানে আপনি ব্যবহারের শর্তাবলী, দায়িত্ব-কর্তব্য, সুরক্ষা এবং আরও বিভিন্ন ধরনের বিষয়াদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। এসকল ব্যবহারবিধি সম্পর্কে যদি আপনার সম্মতি থাকে তাহলে “আমার সম্মতি আছে” বাটনটিতে ক্লিক করুন এবং এগিয়ে যান।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৬

ধাপ ৭ঃ

এবার শুরু হবে বিকাশের আসল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে আপনার ৩ টি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

  • আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) এর সামনের এবং পেছনের অংশের ছবি।
  • আনুষঙ্গিক তথ্যাবলী।
  • আপনার ছবি

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৭

ধাপ ৮ঃ

এবারে আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর সামনের দিকের অংশ নিচের ছবিতে দেখানো ফ্রেমের মধ্যে রাখুন এবং ছবি তুলুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৮

ধাপ ৯ঃ

এবার আপনার তোলা ছবিটি স্পষ্ট হয়েছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করুন, যদি কোন কারণে ছবিটি অস্পষ্ট থাকে তাহলে আবার তুলুন। কারণ ভেরিফিকেশনের জন্য স্পষ্ট ছবি দেয়া বাঞ্ছনীয়। এবার সামনের অংশের ছবি তোলা হয়ে গেলে সাবমিট করুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ৯

ধাপ ১০ঃ

সামনের অংশের ছবি তোলা হয়ে গেলে এবার নিচের ছবির মত দেখতে পাবেন; এনআইডি কার্ড এর পেছনের ছবি তোলার জন্য পুনরায় বিকাশ অ্যাপের ভেতরে ক্যামেরা চলে এসেছে। এবার আগের মতো করে এনআইডি কার্ডের পেছন দিকের ছবি তুলুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১০

ধাপ ১১ঃ

এবারের ধাপে পুনরায় যাচাই করুন আপনার তোলা এনআইডি কার্ডের পেছন দিকের ছবিটি স্পষ্ট হয়েছে কিনা, স্পষ্ট না হলে আবার তুলে সাবমিট করুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১১

ধাপ ১২ঃ

পরিচয় পত্রের সামনের এবং পেছনের ছবি সাবমিট করা হয়ে গেলে নিচের দেখানো ছবিটির মত দেখতে পাবেন। এখানে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য অনুসারে সকল তথ্য নিশ্চিত করুন, কোন স্থানে ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিন এবং পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যান।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১২

ধাপ ১৩ঃ

এবার আপনার সম্পর্কে আনুষঙ্গিক কিছু তথ্যাবলী যেমনঃ লিঙ্গ, আয়ের উৎস, আনুমানিক মাসিক আয়, পেশা, এধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে পরবর্তী ধাপের জন্য এগিয়ে যান।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১৩

ধাপ ১৪ঃ

এবারের ধাপে মোবাইলের সেলফি ক্যামেরা দিয়ে আপনার নিজের ছবি তুলতে হবে। ছবি তোলার জন্য ৩ টি নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে হবে। যা নিচের ছবিতে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এটি আপনি নিজেই বিকাশ একাউন্ট খোলার সময় দেখতে পাবেন। এবার “ছবি তুলুন” এ ক্লিক করুন এবং পরবর্তী  ধাপের জন্য এগিয়ে যান।বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১৪

ধাপ ১৫ঃ

এবার আপনার মুখমণ্ডল ক্যামেরার সামনে নিয়ে এসে সঠিক ফ্রেম অনুসরণ করে ছবি তুলুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১৫

ধাপ ১৬ঃ

এবার বিকাশের নিকট প্রদান করা আপনার সকল তথ্য সঠিক এবং সত্য কিনা তা নিশ্চিত করুন।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১৬

ধাপ ১৭ঃ

এবার কনফার্মেশন এসএমএস এর জন্য অপেক্ষা করুন; কনফার্মেশন মেসেজ পাওয়ার পরে লগইন করে নিলেই হয়ে গেলো আপনার বিকাশ একাউন্ট।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, ধাপঃ ১৭

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট

বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট এবং বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ছাড়াও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আলাদা আয় করার জন্য রয়েছে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট। বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে চাইলে আপনার আগে একটি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলে নিতে হবে। আর বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম এবং এজেন্ট ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন আমাদের আরেকটি প্রবন্ধে।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট, বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট ছাড়াও রয়েছে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট। যদি আপনি বিকাশে পার্সোনাল একাউন্ট এর চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে চান কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে লেনদেনের বিষয়টি সহজ করে নিতে চান তবে আপনি একটি বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন। এই একাউন্টটি আপনি বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহার করতে পারেন এর বাড়তি সুবিধাগুলোসহ।

মার্চেন্ট একাউন্ট খুলবেন যেভাবে

বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট অনলাইনে খুলতে চাইলে আপনাকে বিকাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। “Bkash Marcent” – এই লিংকে ক্লিক করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনি দু’টি অপশান পাবেন এজেন্ট এবং মার্চেন্ট একাউন্ট। সেখান থেকে আপনি মার্চেন্ট একাউন্ট অপশানটি সিলেক্ট করলে আপনি মার্চেন্ট একাউন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্মটি পেয়ে যাবেন। এরপর আপনি যথাযথভাবে ফর্মটি পূরণ করে মার্চেন্ট একাউন্টের জন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারেন। সঠিক তথ্য দিয়ে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ফর্মটি পূরণ করে পাঠানোর কিছু সময় পরে আপনি এই মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য উপযুক্ত কিনা বা এই মার্চেন্ট একাউন্টটি সফলভাবে খোলা হয়েছে কিনা তার একটা কনফার্মেশান ইমেইল পাবেন। এভাবেই সহজ উপায়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে আপনি একটি মার্চেন্ট একাউন্ট খুলে ফেলতে পারবেন ঘরে বসেই। এছাড়াও বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনি বিকাশে কর্মরত অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা চলে যেতে পারেন নিকটস্থ বিকাশ পয়েন্টে।

মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি

বিকাশ পয়েন্টে গিয়ে কিংবা অনলাইনে মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দরকার রয়েছে আর সেগুলো হলো-

  • জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
  • ব্যাংক একাউন্ট (আনলিমিটেড ট্রানজেকশন সুবিধার জন্য)
  • প্রতি মাসে আনুমানিক পেমেন্টের পরিমাণ
  • ছবি
  • মোবাইল নাম্বার
  • ইমেইল এড্রেস (যদি থাকে)

মার্চেন্ট একাউন্ট ব্যবহারের সুবিধা

নিজের এলাকার বাইরের অনলাইন কেনা-বেচার সময় ক্রেতার সাথে খুব সহজে লেনদেনের ক্ষেত্রে আংশিক বা ফুল পেমেন্ট নেয়ার জন্য বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট বেশ জনপ্রিয়। আর মার্চেন্ট একাউন্টের বাড়তি কিছু সুবিধা এখানে উল্লেখ করা হলো-

১) ঝামেলাবিহীন দ্রুত এবং সহজ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের জুড়ি নেই। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসায় এ ধরনের লেনদেন বেশ সুবিধাজনক। এতে করে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে ক্রেতা তার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারেন বেশ সহজেই।

২) বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ট্রানজেকশানে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। কেননা, বিকাশ পার্সোনাল একাউন্টের চেয়ে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ট্রানজেকশান চার্জ তুলনামূলকভাবে বেশ কম। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের মাসিক ট্রানজেকশানের পরিমাণের উপর নির্ভর করে এই চার্জ কম বেশি হতে পারে।

৩) বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে কাস্টমারদের নেই কোনো বাড়তি খরচ। কারণ মার্চেন্ট একাউন্টে টাকা লেনদেনের সময় কাস্টমারদের থেকে কোনো এক্সট্রা চার্জ করা হয় না।

৪) এজেন্ট বা পার্সোনাল বিকাশ একাউন্টে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে যেমন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার লেনদেনের হিসাব বেঁধে দেয়া আছে। কিন্তু, মার্চেন্ট একাউন্টে টাকা লেনদেনের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব বেঁধে দেয়া নেই। আপনি দিনে যত খুশি ততবার যেকোনো পরিমাণ অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে আনলিমিটেড ট্রানজেকশান সুবিধা রয়েছে। আপনি দিনে যতবার চান ততবার আনলিমিটেড পেমেন্ট রিসিভ করতে পারবেন।

তবে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যকাউন্টের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আপনি কেবল পার্সোনাল একাউন্টের সাথেই লেনদেন করতে পারবেন। কেননা, এজেন্ট নাম্বার থেকে মার্চেন্ট একাউন্টে মানি ট্রান্সফার করা যায় না। এছাড়াও জেনে রাখা ভালো আপনি মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে সরাসরি কোনো টাকা ক্যাশ-আউট করে নিতে পারবেন না। মার্চেন্ট একাউন্ট করার সময়ই আপনাকে অবশ্যই একটি ব্যাংক একাউন্টের সাথে আপনার মার্চেন্ট একাউন্টটি কানেক্ট করে দিতে হবে। আর মার্চেন্ট একাউন্টের আগের দিনের সকল ট্রানজেকশান পরের কার্যদিবসেই ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে এবং আপনি ব্যাংক থেকেই আপনার টাকা সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র

বিকাশের আলাদা করে একটি হেড অফিস নয় বরং ঢাকাতেই বিকাশের তিনটি কর্পোরেট অফিস রয়েছে এই তিন ঠিকানায়, স্বাধীনতা টাওয়ার, ১ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ জাহাঙ্গীর গেট, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা -১২০৬, এসকেএস টাওয়ার, ৭ ভি আই পি রোড, মহাখালী, ঢাকা-১২০৬, এবং রাওয়া, বীর উত্তম জিয়াউর রহমান সড়ক, ঢাকা ১২০৫। 

এছাড়াও সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে বিকাশের অনেকগুলো গ্রাহক সেবা কেন্দ্র। এরমধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে তিনটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র এই ঠিকানায়, মহাখালী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – এসকেএস টাওয়ার, নীচ তলা, ৭ ভি আই পি রোড, ঢাকা-১২০৬, বাংলামোটর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – রূপায়ন ট্রেড সেন্টার, নীচ তলা, ১১৪ বাংলা মোটর মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, এবং যাত্রাবাড়ী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – রহমান প্লাজা, দ্বিতীয় তলা,  ৪০/১/এ, শহীদ ফারুক সড়ক। 

চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – মক্কা মদিনা টাওয়ার, দ্বিতীয় তলা, ৭৮ আগ্রাবাদ বা/এ, এবং চট্টগ্রাম মুরাদপুর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – ইসলাম টাওয়ার, নীচতলা, ৫৯ সিডিএ এভিনিউ, এই দুই ঠিকানায় চট্টগ্রামে রয়েছে দু’টি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র। 

এছাড়া বিকাশের দেশজুড়ে বিস্তৃত অন্যান্য গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলো হলো –  গাজীপুর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – বাতেন ভবন, দ্বিতীয় তলা,  ৪৯৪ বশির সড়ক, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – বাছেদ খান টাওয়ার, দ্বিতীয় তলা, হোল্ডিং নং ০১১৭-০০, ভিক্টোরিয়া রোড, ময়মনসিংহ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – ২১ জুবিলী ঘাট, দ্বিতীয় তলা, ময়মনসিংহ সদর, সিলেট গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – জে আর টাওয়ার, দ্বিতীয় তলা, ২৩ আবাস, জেল রোড, সিলেট- ৩১০০, খুলনা গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – ইসরাক প্লাজা, দ্বিতীয় তলা, প্লটঃ ৪৩-৪৪, মজিদ সরণী, শিব বাড়ী মোড়, বরিশাল গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – রহমত মঞ্জিল কমপ্লেক্স, দ্বিতীয় তলা, গোরাচাঁদ দাস রোড, বটতলা, রংপুর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – এ জেড টাওয়ার, দ্বিতীয় তলা, ৩৪-৩৫ ষ্টেশন রোড, রংপুর সদর, বগুড়া গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – ৩২৪ ঝাউতলা, বড়গোলা, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, বগুড়া সদর, রাজশাহী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – ৬১ চাঁদ সন্স শপিং কমপ্লেক্স, দ্বিতীয় তলা, নিউ মার্কেট, বোয়ালিয়া, যশোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – হাসান ম্যানশন, দ্বিতীয় তলা, এম এম আলি রোড, মাইক পট্টি, কুমিল্লা গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – রয় কমপ্লেক্স, নীচ তলা, ১১৫/২ নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়, ফরিদপুর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র – হোল্ডিং নং: ৪৬/খ, দ্বিতীয় তলা, থানা রোড, ঝিলটুলি 

এসব গ্রাহক সেবা কেন্দ্র শুধুমাত্র সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহের সাত দিন এবং অধিকাংশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র প্রতি সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এবং সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে। শুধুমাত্র ঢাকা বনশ্রী এবং মোহাম্মদপুর সেবা কেন্দ্র সাপ্তাহিক ছুটির দিন যথাক্রমে সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রাহক সেবা প্রদান করে। নির্দিষ্ট গ্রাহক সেবা কেন্দ্র খুঁজে পেতে গ্রাহক সেবার তালিকা দেখে নেয়ার জন্য ভিজিট করুন সেবা প্রদানকারী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র ও গ্রাহক সেবা তালিকা নামক পেইজে।

বিকাশ হেল্পলাইন

যে কোন রবি, এয়ারটেল, গ্রামীণফোন, টেলিটক, এবং টি এন্ড টি নাম্বার থেকে ১৬২৪৭ অথবা ০২-৫৫৬৬৩০০১ হেল্পলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে আর ০০৮৮-০২-৯৮৯৪৯১৬ নাম্বারে ফ্যাক্স করা যাবে। তাছাড়া ২৪/৭ নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য ইমেইল করুনঃ support@bkash.com এই ঠিকানায়।

আর লাইভ চ্যাট করতে ভিজিট করুন বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের লাইভ চ্যাট অপশন এ। আর এছাড়াও যোগাযোগ করতে পারেন বিকাশের ফেসবুক ফ্যান পেজে, এর বাইরে অনলাইনের বিকাশের সাইট থেকে যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করেও জমা দিতে পারবেন।

শেষ কথা

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। জনগোষ্ঠির প্রায় আশি শতাংশ মানুষ এখন এই মাধ্যমে লেনদেন করছে। বিভিন্ন ব্যাংক নানা নামে এই মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ তেমনই একটি মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম। আশা করছি, এই আর্টিকেল থেকে আপনার বিকাশ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এর ব্যবহার ও উপযোগীতা বিষয়ে ধারণা তৈরি হবে। সুতরাং, নিজের সুবিধামতো মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম খুঁজে নিন, নিয়ম মেনে সাবধানে ব্যবহার করুন এবং জীবনকে আরো সহজ করে তুলুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১) বিকাশের পরিষেবা গ্রহণের জন্য কি একাউন্ট থাকা জরুরী?

উত্তরঃ অবশ্যই! বিকাশের সেবাসমূহ গ্রহণ করতে হলে আপনাকে বিকাশ একাউন্ট খুলতে হবে।

২) বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য গ্রাহকের মানদণ্ড কী কী?

উত্তরঃ

  • গ্রাহককে অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে
  • গ্রাহকের বয়স হতে তবে ন্যূনতম ১৮ বছর।
  • পরিচয়পত্র/ পাসপোর্ট/ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জন্ম নিবন্ধন সনদধারী নাগরিক।
  • টেলিটক, বাংলালিংক, রবি, গ্রামীনফোন, এবং এয়ারটেল গ্রাহক।

৩) একটি এনআইডি (NID) দিয়ে কয়টি বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়?

উত্তরঃ একটি এনআইডি কার্ড (NID) দিয়ে শুধু মাত্র একটি একাউন্ট খুলতে পারবেন। আগেই যদি ঐ আইডি (NID) দিয়ে একাউন্ট খোলা থাকে তাহলে সেটা দিয়ে আর নতুন কোন একাউন্ট খুলতে পারবেন না।

৪) জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় কীভাবে?

উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য আপনার সচল মোবাইল, জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে আপনার নিকটস্থ বিকাশ এজেন্ট অথবা বিকাশ কেয়ারে যোগাযোগ করুন।

৫) বিকাশ একাউন্ট খুলতে কি কোনো ফি প্রদান করতে হয়?

উত্তরঃ একাউন্ট খুলতে কোন ধরনের ফি নেই। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি সেবা।

৬) বিকাশ একাউন্ট ব্যবহারে কি মোবাইল ফোন থাকার প্রয়োজন রয়েছে?

উত্তরঃ হ্যাঁ। আপনার দৈনন্দিন ব্যবহৃত সিম কার্ডের নাম্বারটি হবে আপনার বিকাশ একাউন্ট নাম্বার এবং নিজের মোবাইলের মাধ্যমেই ব্যবহার করবেন বিকাশ একাউন্ট।

৭) বিকাশ একাউন্ট ব্যবহারের জন্য কি ধরনের মোবাইল ফোন থাকা প্রয়োজন?

উত্তরঃ যেকোনো ধরনের মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

৮) বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করার জন্য কি ব্যাংক একাউন্ট থাকা জরুরী?

উত্তরঃ না, বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট ব্যবহারের জন্য কোন ব্যাংক একাউন্ট এর প্রয়োজন নেই। তবে, বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর ক্ষেত্রে মার্চেন্ট একাউন্টের সাথে একটি ব্যাংক একাউন্টের সংযোগ করে দিতে হয়।

 ৯) সিম অথবা মোবাইল যদি হারিয়ে যায় তাহলে উপায় কি?

উত্তরঃ দ্রুত বিকাশ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন

১০) বিকাশ একাউন্ট এর পিন লক হয়ে গেলে কি উপায় কি?

উত্তরঃ বিকাশ একাউন্ট এর পিন লক হয়ে গেলে বা ভুলবসত বিকাশ হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিকাশ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। আরও জানতে আমাদের পরবর্তী লেখাটি পড়ুন, যেখানে- বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

১১) ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করা যায় কিভাবে?

উত্তরঃ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে একাউন্ট ব্যালেন্স শুন্য করে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন।

 

ছবি ও তথ্যসূত্রঃ বিকাশ 

সর্বশেষ আপডেটের তারিখঃ ০৫/২৮/২০২১ 

Dyuti Deepa Nandi

Freelancer Content Writer and Translator.

Related Articles

2 Comments

  1. অসাধারণ পোস্ট। অনেক কিছু শেখার আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button