চাকরিপেশাশিক্ষা

সিভি লেখার নিয়মঃ নিজেই তৈরি করুন আদর্শ সিভি

সিভি, প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের জীবনেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত একজন চাকরি প্রার্থীই বুঝতে পারেন এর সত্যিকারের মর্ম। কারণ সিভিই হলো চাকরি পাওয়ার প্রথম চাবিকাঠি। আর তাই চাকরি পেতে হলে অবশ্যই জানতে হবে সঠিক ভাবে সিভি লেখার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণই সঠিক ভাবে সিভি লিখতে জানেন না। এমনকি অনেকেই সিভি সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারনা রাখেন না। তাই অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু একটি ভাল সিভির অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ চাকরির বাজারে খাবি খান। এই করুণ অবস্থার অবসান ঘটাতেই আজকের এই লেখাটি। 

সূচিপত্রঃ

সিভি কী?

সিভি মূলত আপনার জীবনের সামগ্রিক শিক্ষা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সর্বোপরি যোগ্যতার একটি সারসংক্ষেপ। সিভি শব্দটি কারিকুলাম ভিটা (Curriculum vitae) এর সংক্ষেপিত রুপ। এর মাধ্যমে আপনি চাকরি দাতার কাছে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। কেন আপনি চাকরিটির জন্য যোগ্য এবং কেন চাকরি দাতা অন্য চাকরি প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকে চাকরিটি দেবেন তা তুলে ধরাটাই সিভির মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণে সিভিটিকে হতে হবে তথ্যবহুল কিন্তু সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল।

একটি গোছানো সিভি ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ

যেহেতু আপনি সিভি লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে এসেছেন সেহেতু নিশ্চয়ই সিভির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অল্প-বিস্তর ধারনা আপনার রয়েছে। কিন্তু সিভিটি গোছানো হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা সম্পর্কে গভীর ভাবে জানাটাও কিন্তু প্রয়োজনীয়৷

জনবহুল এই দেশে প্রত্যেক চাকরি প্রার্থীকেই ভয়াবহ প্রতিযোগিতার মোকাবেলা করতে হয়৷ প্রতিটি চাকরির জন্যই প্রচুর আবেদন জমা পড়ে। তাই চাকরি দাতারা চাইলেও একটি সিভির পেছনে বেশি সময় দিতে পারে না। আর অন্যদিকে সকল চাকরি প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়াটাও অসম্ভব৷ তাই সিভিটি যদি নিখুঁত ও আকর্ষণীয় না হয় তাহলে আপনার ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়া সম্ভাবনা খুবই কম। বাংলা ভাষায় একটি বাগধারা রয়েছে, “প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী।” সিভির ক্ষেত্রে এটি শতভাগ প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ আপনার সিভিটি এমন হওয়া চাই যাতে সিভিটি এক ঝলক দেখেই চাকরি দাতা পছন্দ করে ফেলেন। কারণ একটি সিভি প্রাথমিক ভাবে দেখার জন্য তারা ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ সেকেন্ড সময় দেন। সিভিটি দেখেই যদি ভাল না লাগে তাহলে তা প্রথমেই বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া বাতিল না করলেও প্রথমেই যদি সিভিটি পছন্দ না হয় তাহলে পুরো প্রক্রিয়াতেই সেই অপছন্দের রেশ থেকে যায়। আপনার যতই যোগ্যতা থাকুক না কেন, আপনি যদি একটি সিভিতে তা ফুটিয়ে তুলতে না পারেন তবে হয়তো সেসব যোগ্যতা চাকরি দাতার চোখেই পড়বে না। সত্যি বলতে নিজের যোগ্যতাসমূহ সিভিতে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলাটাও একটি আলাদা যোগ্যতা। 

সিভি লেখার কিছু সাধারণ নিয়ম 

প্রত্যেকটি ভিন্ন চাকরির জন্যই ভিন্ন ভিন্ন সিভির প্রয়োজন। কিন্তু সিভিকে গোছানো ও আকর্ষণীয় করতে কিছু সাধারণ বিষয় প্রত্যেকটি সিভি লেখার ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে।

ফন্টঃ ফন্ট সিভি লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। আগেই বলেছি, প্রথমে দর্শনেই সিভি ভাল লাগা বা মন্দ লাগার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ফন্ট। ফন্ট নির্ধারনের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

  • অতিরিক্ত স্টাইল সম্বলিত ফন্ট পরিহার করুন। এসব ফন্ট আপনার সিভিটিকে হিজিবিজি করে তুলবে। ফলে সিভিটি  চাকরি দাতার জন্য পড়া কষ্টকর হয়ে যাবে। 
  • অতিরিক্ত চিকন বা হালকা ফন্ট পরিহার করুন। এসব ফন্ট ব্যবহার করলে সিভি পড়তে গিয়ে চাকরি দাতার চোখে চাপ পড়বে। 
  • দেখতে ফরমাল হলেও ফন্টটি যদি কাস্টম (Custom) ফন্ট হয় তাহলে তা পরিহার করুন। কারণ ফন্টটি স্ট্যান্ডার্ড (Standard) না হলে সকল অপারেটিং সিস্টেম তা গ্রহণ করবে না। 
  • গিমিকযুক্ত ফন্ট পুরোপুরি পরিহার করুন। আপনি যদি আনুষ্ঠানিক ধাচে সিভিটি তৈরি না করেন তাহলে চাকরি দাতা প্রথমেই ধরে নেবে আপনি চাকরিটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

কোন ধরনের ফন্ট ব্যবহার করবেন না তা জানলেন। এবার জানা যাক কোন ধরনের ফন্ট ব্যবহার করতে পারবেন তা সম্পর্কে।

  • আপনি যদি সিভিটিকে একেবারেই আনুষ্ঠানিক এবং গতানুগতিক রাখতে চান তাহলে এরিয়াল (Arial), ক্যাম্ব্রিয়া (Cambria), ক্যালিব্রি (Calibri), হেলভেটিকা (Helvetica) ইত্যাদি ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো সান্স-সেরিফ ফন্ট। 
  • যদি আপনি সিভিটিকে আনুষ্ঠানিক রেখেও কিছুটা আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে চান তাহলে টাইমস নিউ রোমান (Times New Roman) কিংবা বুকম্যান ওল্ড স্টাইল (Bookman Old Style) ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো সেরিফ ফন্ট। 
  • নিজের নাম ও অন্যান্য হেডিং এর জন্য ফন্টের আকার ১৪ অথবা ১৬ রাখুন। সাধারণ লেখার জন্য ১১ অথবা ১২ রাখুন। 

সান্স-সেরিফ ফন্ট ও সেরিফ ফন্টের পার্থক্য নিচের ছবিটি দেখলেই ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন।

সান্স-সেরিফ ফন্ট ও সেরিফ ফন্টের পার্থক্য

সম্পূর্ণ সিভি এক ধারায় তৈরি করুন

আপনার সিভিটি পছন্দনীয় করে তুলতে এই বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সিভি সব সময়ই একটি ধারায় করা উচিত। একই সিভিতে ভিন্ন ধারার লেখা থাকলে তা দৃষ্টিকটু লাগে। এটি চাকরি দাতার মনোভাবে বিরুপ প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবেঃ

  • পৃষ্ঠার বাম দিক থেকে লেখা শুরু করলে পুরো সিভিতে সকল লেখা বাম থেকেই শুরু করা উচিত। কোনো অংশই মাঝে বা ডান দিক থেকে শুরু করা উচিত নয়। 
  • সিভিতে বুলেট, ডায়মন্ড বা টিক ব্যবহার করলে সব সময়ই একটিই ব্যবহার করা উচিত। একই সিভিতে বুলেট ও টিক দুটিই ব্যবহার না করাই শ্রেয়। 
  • সিভির মূল অংশ সব সময় একটি ফন্টেই লেখা উচিত।
  • সকল হেডিং এর ফন্ট ও আকার একই থাকা উচিত। 
  • সিভির চার পাশে ১ ইঞ্চি করে ফাঁকা স্থান রাখা উচিত। 
  • তারিখ লেখার ধরন একই রাখা উচিত। যেমন ২৬/১১/২০২১ অথবা ২৬ নভেম্বর, ২০২১ যেকোনো একটি ব্যবহার করা উচিত।

সঠিক ছবির ব্যবহার করুন

আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে অনেক সময়ই সিভির সাথে ছবি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না। সে সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না থাকলে সিভিতে নিজের ছবি সংযুক্ত না করাই শ্রেয়। কিন্তু বাংলাদেশে তার উলটো। এ দেশের অধিকাংশ সিভিতেই আপনার ছবি যুক্ত করা বাধ্যতামূলক এবং এই ব্যাপারে অবশ্যই কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবেঃ

  • সিভিতে কোনো ভাবেই সেলফি বা ঐ জাতীয় কোনো ছবি যুক্ত করা যাবে না। 
  • ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রাকৃতিক দৃশ্য বা বিচিত্র রঙ সম্বলিত কোনো ছবি যুক্ত করা যাবে না। 
  • ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে নীল বা সাদা রাখতে হবে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে।
  • ছবিতে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক পোষাক পরিধান করবেন। চুল মার্জিত থাকতে হবে। ফ্যশনেবল (fashionable) দাড়ি না রাখাই শ্রেয়। সুন্নতি দাড়ি হলে রাখতে পারেন। না হলে সম্পূর্ণ শেভ করে ফেলাটাই ভাল। 
  • অনেক চাকরি বিজ্ঞপ্তিতে কান উন্মুক্ত অবস্থায় ছবি চেয়ে থাকেন। যে সব মহিলা হিজাব করেন তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ছবি দেবেন।

সিভি সংক্ষিপ্ত রাখুন

অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারনা রয়েছে যে সিভিতে আপনার জীবনের সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা, সকল দক্ষতার ফিরিস্তি দিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়। বরং ঠিক তার উলটো। পূর্বেই বলেছি চাকরি দাতাদের হাতে সিভি দেখার জন্য খুবই স্বল্প সময় থাকে। তাই অতিরিক্ত বড় সিভি হলে চাকরি দাতারা বিরক্ত বোধ করেন। প্রাথমিক বাছাই এর সময় অনেক চাকরি দাতাই প্রথম এক-দুই পৃষ্ঠা বাদে আর কিছু পড়েন না। তাই সিভিটি একদমই সংক্ষিপ্ত রাখুন। চেষ্টা করুন সর্বোচ্চ ২ পৃষ্ঠার মধ্যে সিভিটি শেষ করতে। ১ পৃষ্ঠা হলে আরো ভাল হয়।

  • চাকরির সাথে অপ্রাসঙ্গিক কিছু সিভিতে রাখার প্রয়োজন নেই। যেমন আপনি কম্পিউটার অপারেটরের পদে আবেদন করলে সামাজিক কর্মের ওপর সার্টিফিকেটের কথা উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন। 
  • যদি আপনার আসল চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে সেটিই উল্লেখ করুন। এক্ষেত্রে কোন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সিভির নান্দনিকতা বজায় রাখুন

নান্দনিকতা ফার্স্ট ইম্প্রেশন (First Impression) তথা প্রথম দর্শনের ক্ষেত্রে অনেক বড় হাতিয়ার। কিন্তু সিভির নান্দনিকতা নিয়ে অনেকের মনেই ভুল ধারনা আছে। অনেকেই মনে করেন দারুণ সব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ইত্যাদি ব্যবহার করলেই সিভি সুন্দর হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল। মনে রাখবেন আপনি শুধু আপনার সিভিটি দেখছেন। কিন্তু চাকরি দাতাকে অসংখ্য সিভি একই সাথে দেখতে হয়। এতে তার চোখ ও মস্তিস্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্লান্ত মস্তিষ্ক কখনোই চাইবে না খুব জটিল কিছু দেখতে। তাই আপনি যদি সিভিটিকে সুন্দর বানাতে গিয়ে গ্রাফিক্স ব্যবহার করে জটিল বানিয়ে ফেলেন তাহলে হিতে বিপরীত হবে। তাই সিভিটিকে যথা সম্ভব সহজ সরল রাখুন। ফাঁকা যায়গা বেশি রাখার চেষ্টা করুন। এছাড়াও সামগ্রিক ভাবে সিভির ফরম্যাট এমন ভাবে তৈরি করুন যাতে দেখলেই সিভিটিকে গোছানো মনে হয়। 

সিভির লেখার প্রধান ধাপসমূহ

উপরের অংশে আপনারা সিভি বানাতে হলে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হয় তা নিয়ে একটি সামগ্রিক ধারনা পেয়েছেন। লেখার এই অংশে সিভির প্রতিটি প্রধান ধাপ সম্পর্কে আরেকটু বিশেষায়িত ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো। সিভির ফরম্যাট অনুসারে এদের অবস্থান নানা রকম হতে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কি কি লেখা উচিত ও কিভাবে লেখা উচিত তা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

নাম এবং যোগাযোগের মাধ্যম

সিভির প্রথমেই থাকবে আপনার নাম ও পদবি। যদি উল্লেখ করার মতো কোনো পদবি না থাকে তাহলে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম দিতে পারেন। যোগাযোগের মাধ্যমে প্রথমেই উল্লেখ করবেন আপনার বর্তমান ঠিকানা। এরপর মোবাইল নম্বর ও ইমেইল। মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই সচল হতে হবে এবং ইমেলটি নিয়মিত চেক করতে হবে।

বর্তমান দুনিয়া যেহেতু ডিজিটাল দুনিয়া তাই প্রয়োজনে লিংকডইন (LinkedIn) প্রোফাইলের লিংকও দিয়ে দিতে পারেন। অথবা কোনো সাইটে যদি আপনার পোর্টফলিও থাকে তাও সংযুক্ত করতে পারেন। কিন্তু লিংকডইন বা অন্য যেকোনো থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্মের লিংক যদি দেন তবে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রথমত উক্ত প্ল্যাটফর্মটি অবশ্যই আনুষ্ঠানিক হতে হবে। অর্থাৎ ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ফেসবুক এসবের লিংক সিভিতে দেওয়ার কোনো মানে নেই। আবার চাকরিটিই যদি হয়ে থাকে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সম্পর্কিত তাহলে সে সব প্রোফাইলের লিংক যুক্ত করতে পারেন। যেমন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ম্যানেজারের চাকরির ক্ষেত্রে এগুলো প্রাসঙ্গিক। কিন্তু এক্ষেত্রে খুবই সাবধান হতে হবে। কারণ পরবর্তী ধাপে চাকরি দাতা আপনার প্রোফাইল চেক করার সময় নেতিবাচক কিছু পেলে নীরবে আপনার প্রার্থীতা বাতিল করতে পারেন। তাই নিন্তাতই দরকার না পড়লে লিংকডইন বা আনুষ্ঠানিক পোর্টফলিও ব্যাতীত অন্য কিছুর লিংক দেবেন না।

ক্যারিয়ারের লক্ষ্য বা সার-সংক্ষেপ

নাম এবং যোগাযোগের মাধ্যমের পরে অনেকেই সরাসরি শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন। কিন্তু আপনি যদি চান চাকরি দাতা আপনাকে একটু আলাদা ভাবে দেখুক তাহলে অবশ্যই একটি শক্তিশালী কিন্তু সংক্ষিপ্ত লেখা সিভির প্রথমেই দেওয়া উচিত। একে বলে প্রোফাইল (Profile)। প্রোফাইল মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

১) ক্যারিয়ারের লক্ষ্য, যাকে ইংরেজিতে বলে ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ (Career Objective)। 

২) ক্যারিয়ারের সার-সংক্ষেপ, যাকে ইংরেজি বলে ক্যারিয়ার সামারি (Career Summary)।

আপনি সঠিক ভাবে প্রোফাইলটি লিখতে পারেন তাহলে চাকরি দাতা প্রথমেই আপনার সম্পর্কে একটি ধারনা পেয়ে যাবেন। তবে প্রোফাইল হিসেবে আপনি ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখবেন নাকি ক্যারিয়ার সামারি লিখবেন তা নির্ভর করবে আপনার অভিজ্ঞতার ওপর। যদি আপনার সংশ্লিষ্ট চাকরির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে তাহলে লিখবেন ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ। আর যদি অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে লিখবেন ক্যারিয়ার সামারি।

  • ক্যারিয়ার অবজেক্টিভঃ  সাধারণত ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ লিখে থাকে যারা নতুন চাকরিতে যোগ দিতে চায় অথবা পূর্ববর্তী পেশা থেকে একদম ভিন্ন কোনো পেশায় আসতে চায়। এই লেখাটির মাধ্যমে আপনাকে বর্ণনা করতে হবে এই চাকরিটি করার জন্য আপনি কি কি পড়েছেন ও করেছেন এবং কেন আপনি এই চাকরির জন্য যোগ্য। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার কিছু যোগ্যতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। আপনি যদি শুধু লেখেন আপনি অনেক বড় পর্যায়ে যেতে চান, আপনার বিশ্বাস আপনি ভাল করবেন তাতে কোনো লাভ হবে না। যেই চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেই চাকরির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আপনার জানতে হবে। যেমন নার্সের পেশায় মানসিক দৃড়তা প্রয়োজন, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন। আবার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের পেশায় গাণিতিক দক্ষতা থাকা প্রয়োজন, সমস্যা খুজে বের করার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। তাই ক্যরিয়ার অবজেক্টিভ লেখার সময় চাকরিটিতে আসলে কি কি করতে হয় তা জানতে হবে। অতঃপর আপনি সেগুলো করতে পারবেন কি না তা তুলে ধরতে হবে। 
  • ক্যারিয়ার সামারিঃ যারা একটি পেশায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং এখন একই পেশার উঁচু কোনো পদে যেতে চান বা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে চান, ক্যারিয়ার সামারি ঠিক তাদের জন্যই। এর মাধ্যমে আপনি ঠিক কত দিনের জন্য পেশাটিতে কাজ করছেন, কি কি অর্জন করেছেন তা তুলে ধরতে হবে। এক্ষেত্রে সব সময়ই সংখ্যার উল্লেখ করলে ভাল হয়। যেমন “দীর্ঘদিন কাজ করেছি” এর বদলে “২ বছর কাজ করেছি” অনেক কার্যকরী। আবার “উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছি’ এর তুলনায় “৩ মাসে ১২ হাজার থেকে ৪০ হাজারে উন্নীত করেছি” অনেক কার্যকরী।

অভিজ্ঞতা

সকল প্রার্থীর মধ্যে যেই জিনিসটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান করে তুলতে পারে সেটি হলো অভিজ্ঞতা। চাকরির বাজারের অভিজ্ঞতার মূল্য সবচেয়ে বেশি। কারণ সকল প্রতিষ্ঠানই চায় এমন একজন ব্যাক্তিকে চাকরি দিতে যার কাজ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারনা আছে। তাই ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ বা ক্যারিয়ার সামারি এর পরেই অভিজ্ঞতা দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কি কি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করবেন তা সাবধানে ঠিক করতে হবে। শুধু প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাগুলোই সিভিতে উল্লেখ করুন। প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করতে প্রথমেই আপনার সকল অভিজ্ঞতার একটি তালিকা করুন। এবার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিতে কি কি করতে হবে সেই অংশটি দেখুন। যে সকল কাজ করতে হবে তার সাথে আপনার অভিজ্ঞতার মিল থাকলে সেই অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে উল্লেখ করুন।

যেমন সাংবাদিকতার পেশায় প্রচুর রিপোর্ট লিখতে হয়। তো সেই চাকরিতে আবেদনের সময় যদি আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে। কিন্তু অডিট অফিসারের অভিজ্ঞতা সেক্ষেত্রে তেমন কাজে আসবে না। তবে আপনার যদি বেশি অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে তাহলে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করতে পারেন। তবে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাগুলো প্রথমে উল্লেখ করবেন। এছাড়াও অভিজ্ঞতা উল্লেখ করার সময় অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠানে কত সময়ের জন্য নিয়োজিত ছিলেন তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

অভিজ্ঞতার পরেই শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনাকে চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখের সময় অবশ্যই শেষ যেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তা প্রথমে উল্লেখ করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠান থেকে, কত সালে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পরীক্ষার ফল কি ছিল তা উল্লেখ করবেন। কোনো পরীক্ষা দিয়ে থাকলে কিন্তু ফলাফল বের না হলে নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেব উল্লেখ করবেন। যদি চাকরির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো কোর্স বা কর্মশালা করে থাকেন তাও উল্লেখ করবেন।

একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা জরুরী নয়। যেমন পি, ই, সি,  জে, এস, সি, এসব পরীক্ষার ফল উল্লেখ করলে হাসির পাত্র হবেন। আবার এস, এস, সি ও এইচ, এইচ, সি পরীক্ষার ফল উল্লেখ করার প্রথা থাকলেও বর্তমানে অনেক চাকরি দাতাই শুধু স্নাতক, স্নাতককোত্তর ও রিসার্চ সম্পর্কিত ফলাফল উল্লেখ করাটাই যথার্থ মনে করেন। তাই চাকরির পর্যায় অনুসারে শুধু প্রাসঙ্গিক ফল গুলোই উল্লেখ করুন।

দক্ষতা

চাকরি ক্ষেত্রে দক্ষতাও একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। যদি প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা না থাকে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রায় একই হয়ে থাকে তাহলে দক্ষতার কারণে একজন প্রার্থী এগিয়ে যেতে পারেন। সিভির এই অংশে আপনি নানা ধরনের দক্ষতার উল্লেখ করতে পারেন। তবে কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক দক্ষতা আগে দিতে হবে। প্রাসঙ্গিক দক্ষতা যথেষ্ট পরিমাণের হলে অপ্রাসঙ্গিক দক্ষতা উল্লেখ না করাই শ্রেয়। তবে কিছু দক্ষতা বর্তমানে সকল চাকরিতেই লাগে। তার মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় হলো কম্পিউটার দক্ষতা। তাই অপ্রাসঙ্গিক হলেও তালিকাতে এটি যুক্ত করুন।

ভাষা

ভাষা সিভির একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনি কি কি ভাষায় পারদর্শী তা উল্লেখ করুন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলা, ইংরেজির কথা উল্লেখ করবেন। যদি অন্য কোনো ভাষা ভাল ভাবে জেনে থাকেন তবে তাও উল্লেখ করে দেবেন।

অতিরিক্ত অংশ

আপনি যদি একাধিক সম্মানজনক পুরষ্কার পেয়ে থাকেন বা উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকে তাহলে এমন একটি অংশ সিভিতে যুক্ত করতে পারেন। এখানে আপনার সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের উল্লেখ রাখতে পারেন। একই সাথে কোনো সম্মানজনক কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট থাকলে তাও উল্লেখ করতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি কোনো রিসার্চ এর সাথে যুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তা উল্লেখ করবেন।

ব্যাক্তিগত তথ্য

ছোটবেলায় আমরা যে সব সিভি লেখা শিখি সেখানে নিজের ব্যাক্তিগত তথ্যগুলোই সবার আগে দেওয়া থাকে। বাস্তবে এর ঠিক উলটো। বর্তমানে করপোরেট দুনিয়াই কোনো ভাবেই আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য যেমন বাবা-মায়ের নাম, বয়স, ধর্ম, স্থায়ী ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা এসব আগে দেওয়া যাবে না। এ সব দিতে হবে সিভির একদম শেষে। আবার যদি এক পেজের সিভি হয়ে তাহলে অনেকে পৃষ্ঠার বাম বা ডান পাশে আলাদা কলাম বানিয়ে এসব তথ্য দিয়ে থাকন।

রেফারেন্স

বাংলাদেশে চাকরির প্রেক্ষাপটে রেফারেন্স উল্লেখযোগ্য একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। অনেকে নতুন চাকরিপ্রার্থীই রেফারেন্স হিসেবে নিজেদের উচ্চপদস্থ আত্নীয়-স্বজনের নাম দিয়ে থাকেন। কিন্তু রেফারেন্সে এমন একজন ব্যাক্তির নাম ব্যবহার করতে হবে যিনি কোনো ভাবে আপনার আত্নীয় নন। আবার যার তার নামও রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যার বা যাদের নাম রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবেন নিশ্চিত থাকুন যাতে তারা আপনাকে ভালভাবে চেনে ও মনে রাখে। কারণ চাকরি দাতা তাকে ফোন করে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করতেই পারে। তখন যদি সে আপনাকে না চিনতে পারে অথবা আপনার সম্পর্কে ভাল কিছু না বলতে পারে তবে তা খুবই বাজে প্রভাব ফেলবে।

আপনি যদি সদ্য পাশ করা চাকরি প্রার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিত কোনো পরিচিত শিক্ষকদের নাম রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা। এছাড়াও যদি কোনো সম্মানজনক কোর্স করে থাকেন তাহলে সেখানকার প্রশিক্ষকদের নামও রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি আপনি পূর্ববর্তী চাকরির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন তবে খুবই ভাল। যদি একাধিক রেফারেন্স দিতে ইচ্ছুক হন তাহলে আপনাকে কে কতটা ভাল করে চেনে এবং কে কতটা উচ্চপদস্থ এ দুটো বিবেচনা করে তালিকা তৈরি করুন। 

সিভির ফরম্যাট

সিভিতে সাধারণত কি কি অংশ থাকে তা ইতোমধ্যে আপনারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু সেগুলোকে কিভাবে সাজাবেন, কোনটি আগে দেবেন এই বিষয়গুলো সিভির ফরম্যাটের অর্ন্তভুক্ত। সাধারণত সিভির ফরম্যাট নিচের তালিকাটির মতো হয়ে থাকে।

  • নাম এবং যোগাযোগের মাধ্যম 
  • ক্যারিয়ারের লক্ষ্য / ক্যারিয়ারের সার-সংক্ষেপ 
  • অভিজ্ঞতা
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • দক্ষতা
  • ভাষা
  • অতিরিক্ত অংশ
  • ব্যাক্তিগত তথ্য
  • রেফারেন্স

তবে আপনার প্রয়োজন অনুসারে এ ফরম্যাটে পরিবর্তন আনতেই পারেন। নামের সাথেই অনেকে যোগাযোগের মাধ্যম দিয়ে থাকেন। আবার অনেকে নামটি হেডিং হিসেবে ব্যবহার করে তার নিচে শুধু পদবী ব্যবহার করেন। যোগাযোগের মাধ্যমের জন্য আলাদা বিভাগ রাখেন। তবে নাম এর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম না যুক্ত করলে তা একদম শেষে যুক্ত করাই ভাল।

সিভি শুরু করতে হবে ক্যারিয়ারের লক্ষ্য বা সার-সংক্ষেপ দিয়ে। এরপরে অভিজ্ঞতা আগে দেবেন নাকি শিক্ষাগত যোগ্যতা তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। এর উত্তর হলো, যেটি ভাল সেটি আগে দেবেন। আপনি যদি নতুন চাকরি প্রার্থী হন এবং আপনার অভিজ্ঞতার ঝোলা শূন্য হয়ে থাকে তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা আগে দেবেন। অপর দিকে আপনার অভিজ্ঞতা থাকলে তা আগে দেবেন।

সিভির ফরম্যাটের ব্যাপারে আরেকটি কথা না বললেই নয়। কোনো ভাবেই সরাসরি দোকানের ফরম্যাটে সিভি বানাবেন না। এটি ভয়াবহ ভুল কাজ। আপনার হয়তো সিভি বানানো নিয়ে ধারনা নেই। ধারনা না থাকলে গুগলে একবার সার্চ করলেই অসংখ্য ফরম্যাট পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনে দোকানের ফরম্যাটেও একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু কোন ভাবেই সরাসরি তাদের ফরম্যাট ব্যবহার করবেন না। কারণ তারা একই ফরম্যাটে অনেক চাকরির আবেদন করে। অনেক চাকরি প্রার্থী তাদের কাছ থেকেই সিভি বানিয়ে নেয় বিধায় এসব সিভি চাকরি দাতারা দেখা মাত্র বুঝতে পারেন এবং এসব সিভি প্রথম পর্যায়েই বাদ হয়ে যায়। কারণ তাদের মনোভাব অনুযায়ী, একজন চাকরি প্রার্থী যদি নিজের সিভিই নিজে বানাতে না পারেন, তাহলে তার চাকরির দায়িত্বগুলো সামলানোর কোনো যোগ্যতাই নেই। তাই অবশ্যই সিভি বানানোর ক্ষেত্রে নিজের মেধা খাটিয়ে আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটি সিভি বানান।

এছাড়াও সিভিতে কোনো রকমের বানান ভুল করা যাবে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কারো সাহায্য নিতে পারেন। সিভিটিকে বার বার নিরীক্ষণ করে একদম নির্ভুল করে তুলুন।

সিভি ও রেজুমে এর মধ্যে পার্থক্য

সিভি ও রেজুমে মধ্যে আসলে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এ দুইটি মূলত ব্রিটিশ ইংরেজি ও আমেরিকান ইংরেজির দু’টি উদাহরণ। মূলত দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে সিভি শব্দটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। আর চাকরি ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করে রেজুমে। অপরদিকে যুক্তরাজ্য সহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই সিভি হলো চাকরি ক্ষেত্রে নিজের সার্বিক যোগ্যতা ও দক্ষতার সারসংক্ষেপ। বাংলাদেশে সিভি ও রেজুমে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অধিকাংশ চাকরি দাতা সিভিই জমা দিতে বলেন। 

এছাড়াও সিভির সাথে আরেকটি জিনিসকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। তা হলো কভার লেটার। কভার লেটার হলো মূলত একটি চিঠি যার মাধ্যমে আপনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পদের জন্য আবেদন করেন। এটি সাধারণত সিভির প্রথমেই সংযুক্ত থাকে। এতে আপনি চাকরিটির জন্য কেন যোগ্য তা সংক্ষিপ্ত কিন্তু সরাসরি ভাবে উল্লেখ করতে হবে।

শেষকথা

বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে চাকরি পাওয়াটা দিনে দিনেই আরো মুশকিল হয়ে উঠছে। এই ভয়াবহ যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আপনাকে কোনো অংশেই অবহেলা করলে চলবে না। তাই চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই চাকরির জন্য কিভাবে সিভি তৈরি করবেন তা জেনে নিতে হবে। আশা করি এই লেখাটির মাধ্যমে আপনাদের সিভি আরো সমৃদ্ধ ও নিখুঁত হবে।

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) প্রত্যেকটি চাকরির জন্যই কি আলাদা আলাদা সিভি তৈরি করতে হবে?

উত্তরঃ অবশ্যই। তবে যদি আপনি একই ধরনের চাকরিতে আবেদন করতে চান তাহলে শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম এবং অন্যান্য কিছু বিষয় পরিবর্তন করে একই সিভি ব্যবহার করতে পারবেন।

২) সিভির সাথে কভার লেটার দেওয়া কতটুকু জরুরী?

উত্তরঃ খুবই জরুরী। অনেক চাকরি বিজ্ঞপ্তিতেই কভার লেটার সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ থাকে। যদি উল্লেখ নাও থাকে তবুও আপনার উচিত হবে একটি কভার লেটার সিভির সাথে সংযুক্ত করা। 

৩) সিভি বানানোর পরে সেভ করে কম্পিউটার অফ করলেই সিভির কাঠামো ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কি করণীয়? 

উত্তরঃ সিভিটি পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে সেভ করে রাখুন।

৪) সিভি বানানোর জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করবো?

উত্তরঃ গতানুগতিক ধারায় অনেকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকেন। তবে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট অনেক বেশি কার্যকরী। এছাড়াও অনলাইনে অসংখ্য সিভি বানানোর ওয়েব সাইট রয়েছে যা থেকে আপনি সিভি বানাতে পারবেন।

৫) সিভিতে কোনো তথ্য ভুল হলে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

উত্তরঃ সিভিতে কোনো তথ্যই ভুল বা মিথ্যা রাখা উচিত নয়। কারণ আপনাকে চাকরি দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার সম্পর্কে প্রতিটি বিষয় ভাল ভাবে যাচাই করা হবে। এমনকি সিভি থেকেই ইন্টারভিউ বোর্ডে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে পারে। তখন যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে বিপদে পড়তে হবে।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button