কম্পিউটারটেকনোলজিহার্ডওয়্যার

র‍্যাম (RAM) কি? র‍্যাম সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য

কম্পিউটারের সবচেয়ে জরুরী অংশগুলোর যদি একটি তালিকা করা হয়, তাহলে র‍্যাম সেই তালিকার সবচেয়ে উপরের দিকেই থাকবে। কম্পিউটারের যেসব অংশ না হলেই না, অর্থাৎ কম্পিউটার চালু করার জন্য যে সকল অংশ বা পার্টস থাকা বাধ্যতামূলক, তার মধ্যে র‍্যাম একটি। আর তাই কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে চাইলে র‍্যাম কি, র‍্যাম কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারাটাও জরুরী। আর তাই এ লেখাতে র‍্যাম, র‍্যামের ধরন থেকে শুরু করে এর সম্পূর্ণ কার্যপ্রণালী এমনকি দাম নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিত। 

সূচিপত্রঃ

র‍্যাম কি?

র‍্যাম (RAM) মূলত একটি ভলাটাইল (Volatile) মেমোরি ডিভাইস যা কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি হিসেবে কাজ করে এবং সাময়িক ভাবে অপারেটিং সিস্টেম সহ কার্যকর থাকা সকল সফটওয়্যারের ডাটা এবং মেশিন কোড সংরক্ষণ করে প্রসেসরে সরবরাহ করে। র‍্যাম (RAM) এর পূর্ণরুপ হলো র‍্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (Random Access Memory)। অনেকেই মনে করেন যে কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি হলো হার্ড ড্রাইভ অথবা এসএসডি। কিন্তু বস্তুত কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি ডিভাইস বলা হয়ে থাকে র‍্যামকে। এক বাক্যে এটি  অত্যন্ত দ্রুত গতির একটি মেমোরি ডিভাইস যেটি সাময়িক ভাবে ডাটা সংরক্ষণ করে প্রসেসরকে দ্রুত গতিতে কাজ করতে সহায়তা করে।

র‍্যাম কিভাবে কাজ করে?

র‍্যাম এর মূল কার্যপ্রণালী খুব সহজ। এটি মূলত সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস অর্থাৎ হার্ড ড্রাইভ অথবা এসএসডি এর ডাটা গুলোকে প্রয়োজন অনুসারে নিজের ভেতর সংরক্ষণ করে তা দ্রুত প্রসেসরে প্রেরণ করে। প্রসেসর কাজ করার সময় প্রথমেই র‍্যাম থেকে ডাটা নেওয়ার চেষ্টা করে। এজন্যই র‍্যামকে প্রাইমারি স্টোরেজ বলা হয়ে থাকে। 

কম্পিউটার কত দ্রুত কাজ করবে সেটি যেমন প্রসেসর এর প্রসেসিং পাওয়ার এর উপর নির্ভর করে, ঠিক তেমনি নির্ভর করে প্রসেসর কত দ্রুত ডাটা নিতে পারছে তার উপর। কম্পিউটারের মেমোরি ডিভাইস গুলোকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • প্রাইমারি মেমোরিঃ র‍্যাম ও রম 
  • সেকেন্ডারি মেমোরিঃ হার্ড ড্রাইভ, এসএসডি
  • ক্যাশ মেমোরিঃ প্রসেসরের ক্যাশ মেমোরি 

এবার আসুন জানা যাক কিভাবে এই মেমোরি ডিভাইস গুলো একত্রে কাজ করে। মূলত এই প্রক্রিয়াটি জানলেই কম্পিউটারের ডাটা ফ্লো (Data Flow) সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা হয়ে যাবে। নিচে প্রক্রিয়াটিকে ধাপে ধাপে ব্যাখা করা হলো।

ধাপ ১ঃ সেকেন্ডারি মেমোরি থেকে ডাটা গ্রহণ 

আমরা যখন প্রথম বার একটি সফটওয়্যার চালু করি, তখন সেটি চালু হতে কিছুটা সময় নেয়। কারণ ঐ সফটওয়্যারের ডাটা গুলো সংরক্ষিত আছে সেকেন্ডারি মেমোরিতে। অর্থাৎ হয় হার্ড ড্রাইভে না হয় এসএসডি তে। হার্ড ড্রাইভ বা এসএসডি হলো কম্পিউটারের ডাটা সংরক্ষণ করার স্থায়ী মাধ্যম। সকল সফটওয়্যারের ডাটাই হার্ড ড্রাইভ অথবা এসএসডিতে সংরক্ষিত থাকে। যখন একটি প্রোগ্রাম চালু করা হয় তখন প্রথমেই হার্ড ড্রাইভে সেই ডাটা লোকেট করা হয়। 

ধাপ ২ঃ র‍্যামে ডাটা সংরক্ষণ 

হার্ড ড্রাইভ বা এসএসডি তে ডাটা লোকেট করার পরে তা র‍্যামে কপি করে নিয়ে আসা হয়। কারণ হার্ড ড্রাইভ বা এসএসডি থেকে একটি সাধারণ রাম ২০ থেকে ৫০০ গুণ বেশি দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার করতে পারে। তাই প্রসেসর যেই প্রোগ্রাম চলছে সেই প্রোগ্রামের সংশ্লিষ্ট ডাটা গুলো র‍্যামে লোড করে নেয়। এরপরে খুব দ্রুতই র‍্যাম থেকে নিয়ে কাজ করে। তবে র‍্যামের এই ডাটা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সাময়িক। র‍্যামের পাওয়ার অফ হয়ে গেলেই অর্থাৎ বিদ্যুৎ না থাকলেই র‍্যামের সমস্ত ডাটা মুছে যায়।

ধাপ ৩ঃ ক্যাশ মেমোরিতে ডাটা সংরক্ষণ

ক্যাশ মেমোরি প্রসেসরের সাথে সংযুক্ত থাকা এক বিশেষ ধরনের অত্যন্ত দ্রুত গতির মেমোরি। কম্পিউটার তার প্রসেসিং এর ফলাফল থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ ডাটা এখানে সাময়িক ভাবে সংরক্ষণ করে। তবে এই লেখাটি র‍্যাম সম্পর্কিত বিধায় ক্যাশ মেমোরি নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে না। 

র‍্যাম কেন জরুরী?

ধরা যাক আপনি একটি ছবি আকছেন। ছবি আকার জন্য যে সকল রঙ আপনার প্রয়োজন হতে পারে সেগুলোকেই কিন্তু আপনি হাতের কাছে টেবিলে স্থান দেবেন। কারণ সেগুলো আপনার বার বার প্রয়োজন হচ্ছে। যে সব রঙ ব্যবহৃত হওয়ার তেমন সুযোগ নেই সেগুলোকে রাখবেন টেবিলের বাইরে। ঠিক একই ভাবে প্রসেসরও তার যে সকল ডাটা এই মূহুর্তে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে রাখে র‍্যামে। ফলে প্রসেসর বার বার হার্ড ড্রাইভ থেকে ডাটা খুজে বের করার সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পায় এবং অনেক দ্রুত কাজ করতে পারে। অর্থাৎ র‍্যাম না থাকলে আমাদের কম্পিউটার চালনার পুরো প্রক্রিয়াটিই হতো অনেক ধীর। 

র‍্যামের ধরন 

র‍্যামকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • এসর‍্যাম – স্ট্যাটিক র‍্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (SRAM – Static Random Access Memory) 
  • ডির‍্যাম- ডাইনামিক র‍্যান্ডম আক্সেস মেমোরি (DRAM – Dynamic Random Access Memory) 

এসর‍্যাম

এসর‍্যাম বা স্ট্যাটিক র‍্যাম হলো এমন এক ধরনের র‍্যাম যেখানে একাধিক ট্রান্সিস্টর মিলে ১ বিট ডাটা সংরক্ষণের জন্য একটি ফ্লিপ-ফ্লপ মেমোরি সেল তৈরি করেয। আধুনিক যুগে একটি ফ্লি-ফ্লপ তৈরিতে ৬টি ট্রান্সিস্টর ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের র‍্যাম রিফ্রেশ হওয়া ছাড়াই সংরক্ষিত ডাটা ধরে রাখতে পারে।

ডির‍্যাম

ডির‍্যাম বা ডাইনামিক র‍্যাম হলো এমন এক ধরনের র‍্যাম যেখানে একটি ট্রান্সিস্টর এবং একটি ক্যাপাসিটর ১ বিট ডাটা ধারণ করে থাকে। এই দুইটির পার্থক্য বর্ণনা করার মাধ্যমে এদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারনা প্রদান করা হয়েছে। 

এসর‍্যাম 

ডির‍্যাম

১। এসর‍্যামের লিকেজ হয় না বলে একে রিফ্রেশ করার কোনো প্রয়োজন নেই।  ১। ডির‍্যামের লিকেজ হয় বলে ডাটা ধরে রাখতে প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশবার রিফ্রেশ করতে হয়। 
২। এসর‍্যাম আক্সেস করার জন্য মাত্র ১০ ন্যানোসেকেন্ড সময় লাগে।  ২। ডির‍্যাম অ্যাক্সেস করতে ৫০ ন্যানোসেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 
৩। আক্সেস টাইম কম হওয়ায় এটি ডির‍্যাম থেকে অনেক বেশি দ্রুতগতির। ৩। ডির‍্যাম এসর‍্যাম থেকে প্রায় ৫ গুণ ধীর।
৪। এসর‍্যাম তুলনামূলক বেশি স্থান দখল করে।  ৪। ডির‍্যাম তুলনামূলক কম স্থান দখল করে। 
৫। এসর‍্যামের দাম অনেক বেশি। ৫। ডির‍্যামের দাম তুলনামূলক অনেকটাই কম। 

উল্লেখ্য যে, প্রসেসরের যেই ক্যাশ মেমোরি ব্যবহৃত হয় সেটিও আসলে র‍্যাম। সেটি হলো এসর‍্যাম। বর্তমানে ২ মেগাবাইট থেকে ৬৪ মেগাবাইটের ক্যাশ মেমোরিও প্রসেসরের সাথে যুক্ত থাকে। অপরদিকে আমরা যাকে মূলত র‍্যাম হিসেবে চিনি সেটি হলো ডির‍্যাম। এর আকার ৪ জিবি থেকে ৫১২ জিবি। অবশ্য একটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমে মোট র‍্যাম এর অনেক বেশিও হতে পারে। 

ডির‍্যামের প্রকারভেদ

যেহেতু কম্পিউটারের র‍্যাম বলতে ডির‍্যামকেই বোঝায়, তাই এসর‍্যাম নিয়ে বিস্তারিত আলাপ এড়িয়ে যাচ্ছি । তবে ডির‍্যামেরও রয়েছে বেশ কিছু প্রকারভেদ। আর সে সকল প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে হলে বুঝতে হবে

  • এসিংক্রোনাস ডির‍্যাম (Asynchronous DRAM)ঃ এসিংক্রোনাস ডির‍্যাম হলো এমন এক ধরনের র‍্যাম যার ক্লক স্পিডের সাথে প্রসেসরের ক্লক স্পিড মেলে না। সহজ কথায়, এ ধরনের র‍্যাম গুলো ডাটা আদান প্রদানের গতির ক্ষেত্রে প্রসেসরের সাথে তাল মেলাতে পারে না। 
  • সিংক্রোনাস ডির‍্যাম (Synchronus DRAM)ঃ ডাটা আদান প্রদানে তাল মেলাতে না পারার সমসা সমাধানে আবিষ্কৃত হয় এ র‍্যাম। এ র‍্যামগুলো প্রসেসরের ক্লক স্পিডের সাথে তাল মেলাতে সমর্থ। 

ডিডিআর এসডির‍্যাম (DDR SDRAM)

সিংক্রোনাস ডির‍্যাম বা এসডির‍্যামের পরবর্তী রুপ বলা চলে এই ‘ডিডিআর এসডির‍্যাম’কে। এখানে ডিডিআর (DDR) এর অর্থ হলো ডাবল ডাটা রেট (Double Data Rate)। এই ডাবল ডাটা রেট সম্বলিত র‍্যামগুলো সিঙ্গেল ডাটা রেট র‍্যামের চেয়ে দুই গুণ বেশি ডাটা আদান প্রদান করতে পারে। কারণ র‍্যামের প্রতিটি ক্লক সাইকেলে একবারের বদলে দুই বার ডাটা আদান প্রদান করে এই র‍্যাম। এই র‍্যামগুলো প্রথম বাজারে আসে ২০০০ সালের দিকে। আর বর্তমানেও আমরা এই ডিডিআর এসডির‍্যামই ব্যবহার করছি। কিন্তু বাস্তবে তখনকার প্রযুক্তি আর এখনকার প্রযুক্তি এক নয়। প্রথম দিকে ডিডিআর এসডির‍্যাম এর প্রথম ভার্সন ডিডিআর ১ (DDR1) ছিল বাজারে। কিন্তু বর্তমানে বাজারের নতুন সকল র‍্যামই ডিডিআর ৪ এবং ডিডিআর ৫ ক্যাটাগরির। অর্থাৎ এই ডিডিআর এসডির‍্যামের রয়েছে ৫টি ভার্সন। যেগুলোকে সংক্ষেপে বলেঃ 

  • ডিডিআর ১ (DDR1)
  • ডিডিআর ২ (DDR2)
  • ডিডিআর ৩ (DDR3)
  • ডিডিআর ৪ (DDR4)
  • ডিডিআর ৫ (DDR5)

এর প্রতিটি ভার্সনেই র‍্যাম হয়েছে আরও উন্নত। কার্যক্ষমতা হয়েছে আরও বেশি এবং বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়েছে আরও কম। যা একটি ছকের মাধ্যমে দেখানো হলোঃ 

ডিডিআর ভার্সন 

(DDR Version) 

ভোল্ট 

(Volt) 

ডাটা ট্রান্সফার রেট 

(Data Transfer Rate) 

ডিডিআর ১ (DDR1)  ২.৫ ভোল্ট (2.5 V)  ২ বিট (2bit)  
ডিডিআর ২ (DDR2)  ১.৮ ভোল্ট (1.8 V)  ৪ বিট (4bit)
ডিডিআর ৩ (DDR3) ১.৫ ভোল্ট (1.5 V) ৮ বিট (8bit)
ডিডিআর ৪ (DDR4) ১.২ ভোল্ট (1.2 V) ৮ বিট (8bit) 

উপরের ছকটি থেকেই পরিষ্কার যে ডিডিআর এসডির‍্যামের প্রতিটি ভার্সনেই র‍্যাম চালনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পরিমাণ কমেছে। তার পাশাপাশি প্রথম তিনটি ভার্সনে ডাটা ট্রান্সফার রেট অর্থাৎ প্রতি ক্লক সাইকেলে বিটের সংখ্যাও বেড়েছে। কার্যত প্রতিটি র‍্যামই তার পূর্ববর্তী ডিডিআ ভার্সনের র‍্যাম থেকে বহু গুণে বেশি কার্যকরী। 

আপনার কি পরিমাণ র‍্যাম প্রয়োজন?

র‍্যাম কি, র‍্যামের ধরন এ সকল প্রশ্নের উত্তরই জানতে পারেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে আপনার যেই বিষয়টি কাজে লাগবে সেটি হলো আপনার কতটুকু র‍্যাম প্রয়োজন তা ঠিক করতে পারা। অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীই তার কম্পিউটারের র‍্যাম কতটুকু হলে ভাল হয়ে তা বুঝতে পারেন না। ফলে হয় বেশি না হয় কম র‍্যাম ক্রয় করেন। মেমোরির আকার অনুসারে বর্তমানে র‍্যামগুলোকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • ৪ জিবি 
  • ৮ জিবি 
  • ১৬ জিবি 
  • ৩২ জিবি 
  • ৬৪ জিবি 
  • ১২৮ জিবি 
  • ২৫৬ জিবি 
  • ৫১২ জিবি 

তবে বাস্তব জীবনে একজন সাধারণ গ্রাহক কখনোই একটি স্টিকে ৩২ জিবির উপরে র‍্যাম কেনেন না। কেউ যদি ৬৪ জিবি, ১২৮ জিবি এমন আকারের র‍্যাম চান সেক্ষেত্রে একই র‍্যাম ৪টি করে কিনে মোট ৬৪ অথবা ১২৮ জিবি বানাতে পারেন। যেমন ৮ জিবি এর ৪টি স্টিক (৪ টি র‍্যাম) ক্রয় করলে কম্পিউটারের মোট র‍্যামের আকার হবে ৩২ জিবি। আবার ১৬ জিবি এর দুইটি র‍্যাম ক্রয় করলে তা হবে ৩২ জিবি। ১৬ জিবি এর ৪টি র‍্যাম ক্রয় করলে মোট র‍্যাম হবে ৬৪ জিবি। আবার ৩২ জিবি এর দুইটি করে ৬৪ জিবি কিংবা ৪টি করে ১২৮ জিবি মোট র‍্যাম ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু আপনার আসলে কতটুকু র‍্যাম প্রয়োজন সে প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে আপনার কাজের সাথে। এক্ষেত্রে মোট র‍্যামের হিসেবে কয়েকটি কম্বিনেশনে সাজেশন দেওয়া হয়েছে। 

৪ জিবি

২০২৩ সালে এসে ৪ জিবি র‍্যাম আসলে অনেকটাই অপ্রতুল। তবুও অনেক ল্যাপটপেই এখনো ৪ জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেক ডেস্কটপ ব্যবহারকারীও না বুঝে কিনে থাকেন। তবে আপনার কাজ যদি একদম মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করা, মুভি দেখা, হালকা ব্রাউজিং করা এসবে সীমাবদ্ধ থাকে তাহলেই শুধু ৪ জিবি র‍্যাম আপনার জন্য ঠিক আছে। 

৮ জিবি

বর্তমানে ৮ জিবি র‍্যামকে মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড বলা চলে। কারণ এখন ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ট্যাব খুললে শুধু ব্রাউজারই ২ জিবি এর উপরে র‍্যাম দখল করে ফেলে। তাই আপনি যদি মোটামুটি বেশ কিছু ট্যাব চালু রেখে ব্রাউজিং, হালকা গেমিং, মাল্টি-টাস্কিং ইত্যাদি আরামসে করতে চান তাহলে ৮ জিবি র‍্যাম নেওয়াটাই হবে আপনার জন্য দস্তুর। 

১৬ জিবি

৮ জিবি দিয়ে কাজ চলবে এমন অনেক ব্যবহারকারীও আরও ভাল পারফর্মেন্সের জন্য ১৬ জিবি র‍্যাম লাগিয়ে নেন। তবে আপনি যদি ফটোশপ সফটওয়্যার গুলোর লেটেস্ট ভার্সন ব্যবহার করতে চান তাহলে মোটামুটি বাধাহীন পারফর্মেন্স পেতে ১৬ জিবি র‍্যাম আপনার লাগবেই। আবার যদি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চান তাহলে ১৬ জিবিকে বলা চলে নূন্যতম। এছাড়াও মোটামুটি গেমিং, একই সাথে অনেকগুলো ট্যাব চালু রাখা, বেশ ভাল লেভেলের মাল্টি-টাস্কিং করা এসবে অভ্যস্থ হতে চান তাহলেও আপনার জন্য ১৬ জিবি র‍্যামটাই হবে সুবিধাজনক।

৩২ জিবি

আপনি যদি হয়ে থাকেন একজন আর্ক্টিটেক্ট বা ইঞ্জিনিয়ার এবং আপনাকে যদি নিয়মিত অটোক্যাড, স্কেচ আপ ইত্যাদি সফটওয়্যার খুব ভাল ভাবে চালাতে হয়, তাহলে আপনার জন্য ৩২ জিবি র‍্যাম সুবিধাজনক। তার পাশাপাশি একদম উচ্চ মাত্রার গেমার, ডাটা সাইন্টিস্ট থেকে শুরু করে প্রফেশনাল কাজ গুলো করার জন্য নিতে পারেন ৩২ জিবি র‍্যাম। 

৬৪ জিবি

যদি আপনার কাজ হয়ে থাকে ৪কে অথবা ৮কে ভিডিও এডিট করা, রেন্ডার করা, থ্রিডি মডেলিং সফটওয়্যার দিয়ে গেম ডিজাইন করা, তাহলে আপনি নিতে পারেন ৬৪ জিবি র‍্যাম। তবে বাস্তবে যারা ৬৪ জিবি, ১২৮ জিবি, ইত্যাদি আকারের র‍্যাম ব্যবহার করে থাকেন তাদের বেশ ভালই ধারনা থাকে যে কোন কাজের জন্য কতটুকু র‍্যামের প্রয়োজন হবে। 

র‍্যামের দাম

অন্য সকল কম্পিউটার পার্টসের মতো র‍্যামের দামও বাংলাদেশের বাজারে অস্থিতিশীল। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির র‍্যাম ও বিভিন্ন মেগা হার্টজের র‍্যামের দামও ভিন্ন ভিন্ন। বর্তমানে ডিডিআর ৪ র‍্যামের দাম সম্পর্কিত একটি ছক নিচে দেওয়া হলোঃ 

র‍্যামের আকার 

ক্লক স্পিড 

দাম 

৪ জিবি  ২৪০০ মেগা হার্টজ – ৩২০০ মেগা হার্টজ  ১,৬০০ টাকা –  ৩,০০০ টাকা। 
৮ জিবি  ২৪০০ মেগা হার্টজ – ৪০০০ মেগা হার্টজ  ২,৬০০ টাকা – ৭,০০০ টাকা 
১৬ জিবি  ২৪০০ মেগা হার্টজ – ৩৬০০ মেগা হার্টজ  ৪,৮০০ টাকা – ১৩,২০০ টাকা 
৩২ জিবি  ৩২০০ মেগা হার্টজ – ৩৬০০ মেগা হার্টজ  ১১,৮০০ টাকা – ১৩,০০০ টাকা 

অন্যদিকে ডিডিআর ৫ র‍্যামের বাজারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন 

র‍্যামের আকার 

ক্লক স্পিড 

দাম 

৮ জিবি  ৫২০০ মেগা হার্টজ  ৬২০০ টাকা 
১৬ জিবি  ৫২০০ মেগা হার্টজ – ৬০০০ মেগা হার্টজ  ১০,৬০০ টাকা – ১৮,৩০০ টাকা  
৩২ জিবি (১৬*২ কিট)  ৪৬০০ মেগা হার্টজ – ৭৬০০ মেগা হার্টজ  ২২,৪০০ টাকা – ৪৮,০০০ টাকা 

উল্লেখ্য যে, র‍্যামের দাম পরিস্থিতি, সময় ও দোকান ভেদে অনেকটাই পরিবর্তনশীল। উপর্যুক্ত ছক দুইটি বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ ধারনা প্রদানের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। 

র‍্যাম কেনার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন 

র‍্যাম কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রেখা খুবই জরুরী। কারণ এসব বিষয়ে ভুল হলে র‍্যাম পরিপূর্ণ শক্তিতে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্থ হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে একদমই না কাজ করতে পারে। 

মাদারবোর্ডের সাথে র‍্যামের মেলবন্ধন

সকল মাদারবোর্ড সকল ক্লক স্পিডের র‍্যাম সাপোর্ট করে না। বিশেষত কম দামী মাদারবোর্ড গুলো বেশি ক্লক স্পিডের র‍্যাম সাপোর্ট করে না। তাই র‍্যাম কেনার আগে মাদারবোর্ড সর্বোচ্চ কত ক্লক স্পিডের র‍্যাম সাপোর্ট করে তা দেখে নিতে হবে। নাহলে র‍্যাম চলবে না। 

আবার মাদারবোর্ড র‍্যামের ডিডিআর ভার্সন সাপোর্ট করে কি না তাও দেখে নিতে হবে। অতি পুরোনো র‍্যাম বা অতি নতুন র‍্যাম যার ডিডিআর ভার্সন মাদারবোর্ডে সাপোর্ট করে না এমন র‍্যাম কম্পিউটারে লাগালে তা কার্যকরী হবে না। 

প্রসেসরের সাথে র‍্যামের মেলবন্ধন 

প্রতিটি প্রসেসর র‍্যামের নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্লক স্পিড সাপোর্ট করে থাকে। এক্ষেত্রে ক্লক স্পিড কম হলে কম্পিউটার তার পূর্ণ গতি হারবে। আবার সাপোর্ট করে না এমন ক্লক স্পিড সম্পন্ন র‍্যামও বেশি দাম দিয়ে কিনে লাভ নেই। 

ক্লক স্পিড ও ল্যাটেন্সি 

ক্লক স্পিড এবং ল্যাটেন্সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিষয়। মূলত এই দুইটি মিলিয়েই একটি র‍্যামের গতি নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে শুধু ক্লক স্পিডকে প্রাধান্য দিয়ে বেশি মেগা হার্টজের র‍্যাম কিনলেই হবে না। র‍্যাম কেনার আগে বেশি ক্লক স্পিড এবং কম ল্যাটেন্সি দুইটিকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

একাধিক র‍্যামের মেলবন্ধন 

একাধিক র‍্যাম কিনলে প্রতিটি র‍্যাম সমান সাইজ ও একই ক্লক স্পিডের হওয়া উচিত। মূলত একই কোম্পানির একই র‍্যাম একাধিক কেনা উচিত। তবে মাথায় রাখতে হবে যে মোট মেমোরিকে কয়েক ভাগে সিস্টেম যুক্ত করলে তার পারফর্মেন্স ভাল হয়। অর্থাৎ একটি ১৬ জিবির র‍্যামের চাইতে দুইটি ৮ জিবির র‍্যাম ভাল কাজ করবে। এক্ষেত্রে অনেক সময় কর্মদক্ষতার পার্থক্যের মাত্রা ৩০% এরও কাছাকাছি চলে যায়। 

শেষকথা

র‍্যাম কম্পিউটারের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর এই র‍্যাম ক্রয়ে এবং ব্যবহারে সকলের জেনে বুঝেই সিধান্ত নেওয়া উচিত। এ লেখাতে র‍্যাম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। আশা করি এতে বর্ণিত দিকনির্দেশনা গুলো অনুসরণ করলে পাঠকদের উপকার হবে।

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১। র‍্যাম ও রমের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তরঃ র‍্যাম ও রমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো একটি অস্থায়ী মেমোরি এবং আরেকটি স্থায়ী মেমোরি। র‍্যাম মূলত প্রয়োজনীয় ডাটা অস্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ ও অতি দ্রুত প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে র‍্যামের সকল ডাটা মুছে যায়। অপরদিকে রমে সংরক্ষিত ডাটা গুলো স্থায়ী ভাবে বিদ্যুৎ না থাকলেও সংরক্ষিত থাকে। 

২। অন্যান্য ইলেক্ট্রোনিক্স দ্রব্যের মতো কি র‍্যামেও ওয়ারেন্টি থাকে?

উত্তরঃ জ্বী, র‍্যামে লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি থাকে। 

৩। লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি মানে কি?

উত্তরঃ লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি মানে হলো র‍্যাম নির্মাতা কোম্পানি র‍্যামের ঐ নির্দিষ্ট মডেল যতদিন অবধি তৈরি করবে, ততদিনের মধ্যে যদি আপনার র‍্যাম নিজে থেকে নষ্ট হয়, তাহলে আপনি ফ্রি তে আরেকটি র‍্যাম পাবেন। অনেকে লাইফ টাইম শুনে ভাবেন আজীবন। বিষয়টি তেমন নয়। 

৪। ডিডিআর ৪ থেকে ডিডিআর ৫ র‍্যামের দাম এত বেশি কেন?

উত্তরঃ ডিডিআর ৪ র‍্যাম থেকে ডিডিআর ৫ র‍্যামের পারফর্মেন্স অনেক ভাল। এগুলো তৈরি করার খরচও তুলনামূলক বেশী। এছাড়াও নতুন প্রযুক্তি হিসেবে সারা বিশ্বব্যাপী এর তীব্র চাহিদা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে ডিডিআর ৫ র‍্যামের দাম অনেকটাই বেশি।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Back to top button