অ্যাপটেকনোলজিলাইফ স্টাইল

ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায় টিকে থাকতে মোবাইল, কম্পিউটারের মতো ডিভাইস আমাদের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে উঠেছে এবং এসব আমাদের জীবনের অতি প্রয়োজনীয় অংশ। যেহেতু আমরা ডিজিটাল দুনিয়ায় বাস করছি তাই আমাদের সময়ের প্রযুক্তি ও চিন্তা-ধারাও উন্নত। যেমন আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ফাইল, ছবি, স্টেটমেন্ট, মেইল ইত্যাদি কম্পিউটার বা হাতের কাছে থাকা স্মার্টফোনটিতে সংরক্ষণ করি। যা হয়তো আগে লিখে দলিলের মাধ্যমে বা নথি হিসেবে সংরক্ষণ করা হত।

কিন্তু অনেক সময় আমাদের নিজেদের ভুলের কারণে বা না বোঝার কারণে বা ভুলবশত মোবাইল বা কম্পিউটারের ছবি বা ফাইল ডিলিট হয়ে যায়। আর সেটি যদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা প্রিয় ছবি হয় তাহলে কষ্টের আর শেষ থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুর্ঘটনাক্রমে এসব ঘটনা প্রায়ই আমাদের সাথে ঘটে থাকে। অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ জেনেও ফাইল, ফোল্ডার, ছবির কোনো কপি বা ব্যাকআপ আমরা রাখি না। গুরুত্বপূর্ণ এসব ফাইল আর ছবি নিয়ে তাই ইউজারের উদ্বেগ আর ভোগান্তিরও শেষ থাকে না।

তবে আপনি যদি এমন দুর্ঘটনা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন তবে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই৷ কারণ ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার উপায়ও রয়েছে। আপনি চাইলেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

সূচিপত্রঃ

স্থায়ী ফাইল হারানোর কারণ

কম্পিউটারে বা মোবাইলে থাকা যেকোনো ফাইলই যেকোনো সময়ে হারিয়ে যেতে পারে। তবে ডিলিট হয়ে যাওয়া অনেক ফাইল একটু চেষ্টা করলেই রিকভারি করা সম্ভব। তাই ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল পুনরুদ্ধারের অংশ শুরু করার আগে, আসুন প্রথমে আলোচনা করি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা ফাইলগুলি হারানোর কারণ সম্পর্কেঃ-

  • যারা এই সমস্যার মুখোমুখি হন তাদের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো তারা নিজের অজান্তেই তাদের ডেটা মুছে ফেলেন।
  • আরও একটি কারণ হতে পারে ভাইরাস। ডেটা হুমকির কারণ হলো ভাইরাস যা আপনার ফাইলগুলিকে সংক্রমিত করতে পারে
  • হার্ড ড্রাইভের ম্যাকানিক্যাল ড্যামেজের কারণে আপনার সংরক্ষিত ডেটা বা ফাইল হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এ ধরণের ডেটা রিকভার করা প্রায় অসম্ভব একটি বিষয় হয়ে পড়ে।
  • সিস্টেমের ত্রুটি বা পাওয়ার ফেইলিউরের কারণেও ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • আন-অথরাইজড সফটওয়্যার আপনার পিসি বা স্মার্টফোনে ইনস্টল করার ফলে ডেটার ক্ষতি হতে পারে। কারণ এই ধরনের অনেক সফটওয়্যার ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার উপায়

ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল বা ছবি খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আমরা অনেকেই কিন্তু এ বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। কয়েকটি প্রোসেসে কাজটি করা হয়। যদিও তাতে কিছুটা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার উপায় সম্পর্কে-

রিসাইকেল বিন 

আপনি যখন আপনার কম্পিউটার থেকে একটি ফাইল বা ফোল্ডার মুছে দেন, তখন এটি কেবলমাত্র একটি রিসাইকেল বিনে জমা হয়। তবে আপনি যদি রিসাইকেল বিন বা ট্র্যাশ ফোল্ডারটিও অবিলম্বে খালি করেন, তবে আপনার সমস্ত ফাইল মুছে যাবে। 

রিসাইকেল বিনে ফাইল খুঁজুন

কম্পিউটার থেকে আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট হয়ে গেলে সর্বপ্রথম সেটা রিসাইকেল বিনে খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে তাই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো, আপনাকে একটি ফাইল পুনরুদ্ধার করতে হবে, যে ফাইলটি আসলে ডিলিট হয়েছিল। যদি ফাইলটি ৩০ দিনের কম সময় ধরে রিসাইক্লিং বিনে থাকে, তবে এটি এখনও রিসাইক্লিং বিনে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে আপনি যদি রিসাইক্লিং বিনে যান, আপনি যেটিকে খুঁজছেন সেটি খুঁজে পাচ্ছেন কিনা তা দেখতে তারিখ অনুসারে ফাইলগুলি সাজানোর চেষ্টা করুন।

ফাইল পুনরুদ্ধার করুন

সঠিক ফাইলটি খুঁজে পাওয়ার পরে ফাইল, ফোল্ডার বা ছবির রেকর্ডটিতে ডান-ক্লিক করুন। রিস্টোর মেনু ক্লিক করে ডেটা পুনরুদ্ধার করুন। এর ফলে, যে ফোল্ডার থেকে মুছে ফাইলটিকে ফেলা হয়েছিল, সেখানে ফেরত পাঠাবে৷ যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে এটি কোথায় ছিল, তাহলে পরবর্তীতে অনুসন্ধান বা সার্চ বারে ফাইলের নামটি টাইপ করুন। এতে আপনি সহজেই ফাইলটি খুঁজে পাবেন।

কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করুন

আপনি যদি ফাইলটি রিসাইক্লিং বিনের মধ্যে খুঁজে না পান তবে এটি আপনার কম্পিউটারে অন্য কোথাও সংরক্ষণ থাকে। আপনার পিসির স্ক্রিনের নীচে-বাম কোণে উইন্ডোজ আইকনে ক্লিক করুন। আপনি যে ফাইলগুলি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছেন সেগুলি খুঁজে পেতে আপনি সার্চ বার ব্যবহার করতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্যটি আপনার পিসিতে সমস্ত ফোল্ডার অনুসন্ধান করবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এটি আপনাকে এমন জায়গায় সংরক্ষণ করা ফাইলগুলি ট্র্যাক করতে সহায়তা করবে যা আপনি কখনও আশা করেন না। এজন্য ফাইল খুঁজে না পেলে কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করা উত্তম। এতে পিসিতে থাকা ফাইল খুঁজে পেতে সহজ হয়।

গুগল ফটোজ

গুগল ফটোজ

ছবি সংরক্ষণের জন্য গুগল ফটোজ খুবই ভালো একটি সিস্টেম। আপনি এখানে আপনার ইমেজ সংরক্ষণ করতে পারেন। আপনি ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ১৫ গিগাবাইটের বেশি প্রয়োজন হলে আপনাকে পেইড অপশন ব্যবহার করতে হবে।

এন্ড্রয়েড ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করা থাকে। আপনার কম্পিউরারেও থাকে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। তবে এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের জন্য আপনার অবশ্যই একটি ইমেইল একাউন্ট প্রয়োজন এবং তাতে সাইন ইন করতে হয়। তবে আপনার ই-মেইল একাউন্টটি অবশ্যই জি-মেইল এ হতে হবে।

স্মার্টফোনে আমরা যে ছবিগুলো তুলি সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গুগল ফটোজ এ সেভ হয়ে থাকে। সেজন্য অবশ্যই আপনাকে সেটিং কাস্টমাইজ করে রাখা প্রয়োজন। কারণ সেটিং কাস্টমাইজড না করলে গুগল ফটোজ থেকে ছবি ডাউনলোড করা যায় না।

আপনার ছবি যদি ডিলিট হয়ে যায়, তাহলে সর্বপ্রথম গুগল ফটোজে সার্চ করে দেখুন। কারণ, গুগল ফটোজে ইমেজ সংরক্ষণের সুবিধা হলো আপনার কোনো ছবি ডিলিট হয়ে গেলেও গুগল ফটোজে তা সংরক্ষিত থাকবে। এরপর এখান থেকে আপনি চাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

গুগল ড্রাইভ 

google drive

ফাইল সংরক্ষণের জন্য গুগল ড্রাইভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন। গুগল ড্রাইভে আপনি ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফ্রি স্পেস পাবেন৷ তবে বেশি স্পেসের প্রয়োজন হলে পেইড সিস্টেমে কিনে নিতে হবে। এখানে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণ করতে পারেন। এটি সিকিউর সিস্টেম, যেখানে আপনি নিরাপদে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত ডেটা ও ফাইল রাখতে পারেন।

আপনার কোনো ফাইল হারিয়ে গেলে প্রথমেই গুগল ড্রাইভে আছে কি না তা খুঁজে বের করুন। তবে সেজন্য অবশ্যই গুগল একাউন্ট লগ ইন করার প্রয়োজন। গুগল ড্রাইভে হারানো ফাইল খুঁজে পেলে তা ডাউনলোড করে পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

ডেটা পুনরুদ্ধার পরিষেবা

আপনার যদি অনেক বেশি ফাইল থাকে তাহলে আপনার কাজ করার জন্য একটি ডেটা পুনরুদ্ধার পরিষেবা সার্ভিস গ্রহণ করতে পারেন৷ এসব বিশেষজ্ঞরা আপনাকে করাপটেড ফাইলগুলি পুনরুদ্ধার করতে এবং আপনার চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে এমন ডেটা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করতে পারে।

যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট বা এক্সেল স্প্রেডশীটগুলির বেসিক ফাইল পুনরুদ্ধারের বিষয়টি আসে তবে আপনার সম্ভবত একটি ছোট পরিষেবার প্রয়োজন হবে। আর আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইন বা ফটোগ্রাফির জন্য বড় ফাইল নিয়ে কাজ করেন, তাহলে আপনার আরও শক্তিশালী ডেটা পুনরুদ্ধার পরিষেবার প্রয়োজন হতে পারে।

ব্যাকআপ রাখুন

আপনার ফাইল, ফোল্ডার বা গুরুত্বপূর্ণ ছবি হারিয়ে যাওয়াটা যৌক্তিক কিন্তু এ যুগে এসেও এসবের ব্যাকআপ না রাখা সত্যিই অযৌক্তিক। কারণ ব্যাকআপ এবং ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাপ্লিকেশনগুলির প্রচলন এতোটায় ব্যাপক হারে হচ্ছে এবং যার ব্যবহারও খুবই সহজ। আপনার ডেটার ব্যাকআপ রাখলে তা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ডিলিট হয়ে গেলে চিন্তার কিছু নেই৷ 

তবে আপনার দরকারি ডেটার ব্যাকআপ যদি আপনি না রাখেন সেক্ষেত্রে আপনি বিপদে পড়বেন। আপনি ব্যাকআপ হিসেবে ফাইল, ছবি, ফোল্ডার অন্য ড্রাইভে বা পেন ড্রাইভে কপি করে রাখতে পারে। যা মূলত ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে।

ডেটা রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

আপনি কিন্তু চাইলেই আপনার ডিলিট হয়ে যাওয়া ডেটা বা ফাইল রিকভার করতে পারেন। এজন্য আপনাকে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে অনেক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যার মাধ্যমে ডিলিট হওয়া কোনো জিনিস ফেরত পাওয়া আসলেই অনেক সহজ। হারিয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক- 

DiskDigger App

DiskDigger App

DiskDigger অ্যাপটি খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাপ। যদি কোনো কারণে আপনার স্মার্টফোন থেকে ফাইল বা ডেটা ডিলিট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে এই অ্যাপটি সাহায্য করে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক পরিচিত অ্যাপ এটি। তবে অ্যাপটি কম্পিউটারের ডেটা পুনরুদ্ধার করতেও ব্যবহৃত হয়। গুগল প্লে স্টোরে এটি পাওয়া যায়। এই অ্যাপটি আপনার ফোনের মেমোরি স্টোরেজ স্ক্যান করে নেবে। সাথে লিস্ট বানিয়ে দেবে যে কি কি তথ্য আপনি সংরক্ষণ করে রাখতে চান। এর প্রিমিয়াম ভার্সনও রয়েছে  যাতে আপনি সকল তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। তবে ফ্রি ভার্সনও ব্যবহার করা হয়।

Recurra File Recovery

Recurra File Recovery

Recurra File Recovery অ্যাপটি খুবই উন্নত মানের একটি অ্যাপ। এই অ্যাপের মূল আকর্ষণ হলো, আপনি আপনার মেমোরি কার্ড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস, আইওএস ইত্যাদি যেকোনো ডিভাইস থেকে মুছে ফেলা সত্ত্বেও সেই ডেটা রিকভারির সুযোগ পাবেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি এই অ্যাপের ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন। 

Disk Drill

Disk Drill

Disk Drill খুবই জনপ্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Windows এবং macOS এর বিশেষ কাজের জন্য তাদের নিজস্ব ডেডিকেটেড সফটওয়্যার রয়েছে। যতদূর ডেটা পুনরুদ্ধার করা যায় আপনি এর মাধ্যমে করতে পারেন। কারণ ডেটা পুনরুদ্ধারে ডিস্ক ড্রিল অন্যতম অ্যাপ। প্রথমে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে সার্চ বারে ডিস্ক ড্রিল লিখে সার্চ করুন এবং পরবর্তীতে ইন্সটল করুন।

একটি ফাইল পুনরুদ্ধারের জন্য বিনামূল্যে কাজ করে। এটি বিনামূল্যে 500 MB এর নিচের ফাইল পুনরুদ্ধার করতে পারে। পরিষেবাটিতে একটি রিকভারি ভল্টও রয়েছে যা জরুরী পরিস্থিতিতে আপনার ফাইলগুলিকে সুরক্ষিত করবে। ইনস্টল হয়ে গেলে, এটি সহজেই আপনার ফাইলগুলিকে একটি ডিস্ক ড্রাইভে অনুসন্ধান এবং পুনরুদ্ধার করতে পারে।

EaseUS

EaseUS

প্রায় বিশ বছরের একটি কঠিন ট্র্যাক রেকর্ড প্রমাণ করে যে, ডিলিট হয়ে যাওয়া ডেটা বা ফাইল ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে EaseUS একটি নির্ভরযোগ্য নাম। এটি ম্যাক এবং পিসি উভয় ব্যবহারকারীর জন্য সাপোর্টিভ। এমনকি মোবাইল ডিভাইসে ফাইল পুনরুদ্ধার করতে পারে। বিনামূল্যের সংস্করণটি 2 গিগাবাইট পর্যন্ত মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং আপনাকে পুনরুদ্ধারের আগে ফাইলগুলির পূর্বরূপ দেখার অনুমতি দেয়। যাতে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন যে আপনি সঠিক তথ্য পুনরুদ্ধার করেছেন।

Dumpster Bin File Recovery

Dumpster Bin File Recovery 

আপনার স্মার্টফোন থেকে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ডিলিট করা ফাইল রিকভারির জন্য ছোট একটি অ্যাপ হলো Dumpster Bin File Recovery। গুগল প্লে স্টোরে অনেক ফাইল রিকভারি অ্যাপ আছে তবে সব রিকভারি অ্যাপ সঠিকভাবে কাজ করে না। এই অ্যাপটি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন নেই। ডিলিট হওয়া ফাইল, ফটো, ভিডিও ফ্রিতেই ডাউনলোড করতে পারেন। আপনি চাইলে ব্যাকআপও রাখতে পারেন। মজার বিষয়, এটি লক করে রাখা যায়, তাই প্রাইভেসি নিয়েও সমস্যা নেই। 

Dr.Fone 

Dr.Fone 

খুবই জনপ্রিয় ও উপকারী অ্যাপ হচ্ছে Dr.Fone নামের এই অ্যাপ্লিকেশনটি। যা কিনা ওয়েব জগতে খুবই বিখ্যাত। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রায় সকল প্রকার তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এই সফটওয়্যারটি windows ও macos এ ব্যবহার করা যায়। তবে আপনি এর ফ্রি ভার্সনে কেবলমাত্র কিছু সংখ্যক ডেটা সংরক্ষণ করতে পারবেন।

MiniTool Android Recovery

MiniTool Android Recovery

Minitool Android Recovery অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারেন। আপনি যদি বিনামূল্যে আপনার তথ্য পুনরুদ্ধার করতে চান তবে এই অ্যাপটি আপনার জন্য উপযুক্ত। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এটি প্রায় সবকিছুই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম একটি অ্যাপ। কল লগ, এস এম এস, মিডিয়া ফাইল, ডকুমেন্টস, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ সবই এই অ্যাপের জন্য কার্যকরী। তাই আপনি অনায়াসে এটি ব্যবহার করতে পারেন। 

উপসংহার 

আপনি যদি ফাইল হারিয়ে ফেলার আগেই ফাইল ব্যাকআপ দিয়ে রাখেন তাহলে ফাইল নিয়ে আপনার খুব একটা উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। আপনি চাইলে এসব পদ্ধতি বা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ব্যাকআপ রাখতে পারেন। আপনার প্রয়োজনীয় অডিও, ভিডিও, ফটো, ফাইল ব্যাকআপের মাধ্যমে থাকবে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত। 

সচারাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. ডিলিট হয়ে যাওয়া ছবি ফিরে পাবার উপায় কি?

উত্তর: স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে ছবি ডিলিট হয়ে গেলে গুগল ফটোজ থেকে ডাউনলোড করুন। তাছাড়া বিভিন্ন রিকভারি অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার প্রিয় ছবি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। 

২. ডিলিট হয়ে যাওয়া ভিডিও ফিরে পাবার উপায় কি?

উত্তর: ভিডিও ডিলিট হবার আগেই ব্যাকআপ দিয়ে রাখুন। চাইলে আপনি এসডি কার্ড, পেন ড্রাইভ না অন্য ড্রাইভের ফোল্ডারেও কপি করে ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে পারেন। তবে ডিলিট হওয়া ভিডিও রিকভারির জন্য ফাইল রিকভারি সফটওয়্যার, রেকুভা, ডিস্ক ডিগার অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

৩. ডিলিট হয়ে যাওয়া মেসেজ ফিরিয়ে আনার উপায় কি?

উত্তর: এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো SMS Backup & Restore অ্যাপ, যা আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন। এরপর ওপেন করে প্রয়োজনীয় সেটিং গুলো অন করে Full backups অপশন দিয়ে সেভ করবেন। মোবাইল থেকে ডিলেট হওয়া মেসেজ এরপর আপনার সামনে চলে আসবে।

৪. মেমোরি কার্ডের ডিলিট হয়ে যাওয়া ফটো ফিরিয়ে আনবো কিভাবে?

উত্তর: অন্য কোথাও কপি বা ব্যাকআপ রাখুন। যাতে ভুলবশত সব ফাইল ডিলেট হয়ে গেলে পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমেও ডিলিট হওয়া ফটো ফেরত আনা যায়।

৫. Whatsapp থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল ফিরিয়ে আনার উপায় কি?

উত্তর: আপনার হোয়াটসঅ্যাপে কেউ ছবি পাঠালে যদি আপনি ডিলিট করে দেন, তাহলে সেই ব্যক্তিগত চ্যাট বা গ্রুপ চ্যাটে গিয়ে চ্যাটের ঠিক যে অংশে ছবিটি ছিল, সেখানে ফিরে যান। প্রেরকের কাছে যদি তার একটি কপি থেকে থাকে, তা হলে সেখানে ডাউনলোড অপশন দেখানো হবে। সেখানে ক্লিক করলেই আপনি ডিলিট হওয়া ছবিটি ফেরাতে পারবেন।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button