কম্পিউটিংটেকনোলজি

বাংলায় লেখার সেরা এবং জনপ্রিয় বাংলা কিবোর্ড

বাস্তব জীবনে আমাদের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ভাষা। আর ডিজিটাল দুনিয়াতেও তারই প্রতিফলন ঘটে প্রতিটা মূহুর্তে। তবে আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ার সুবাদে হোক আর কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রথম ভাষা হিসাবেই হোক, ইন্টারনেটের দুনিয়াতে ইংরেজির চলটাই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এটা সবসময়ই সত্যি যে নিজের ভাষায় যতখানি স্বাচ্ছন্দ্যে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়, অন্য ভাষায় তা সম্ভব নয়। তাই ইন্টারনেটে অন্যান্য ভাষার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারেই বৃদ্ধি পাচ্ছে

ভাষাভাষীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার স্থান বিশ্বে ৭মপুরো পৃথিবীতে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন মানুষের মাতৃভাষা বাংলাতাই বর্তমানে ইন্টারনেটে অগণিত ওয়েবপেজ, ব্লগ তৈরী হয়েছে বাংলা ভাষায়সে কারণে এখন বাংলা কিবোর্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছেসত্যি বলতে যুক্তবর্ণ বিভিন্ন বিরাম চিহ্নের কারণে বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যান্য অনেক ভাষার তুলনায় বেশ কঠিনসে কারণে এই ভাষায় যথাযথ কিবোর্ড তৈরী করতে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিলকিন্তু বর্তমানে বেশ কিছু চমৎকার বাংলা লেখার কিবোর্ড তৈরী হয়েছে। ব্যবহার পদ্ধতির কারণে বেশ কিছু কিবোর্ড জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। জনপ্রিয় সব বাংলা ফন্ট ব্যবহার করে মানুষ সেসব কিবোর্ডের সাহায্যে অহরহ বাংলা লিখছে। তেমনই কয়েকটি বাংলা কিবোর্ড সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো আজকের লেখাটিতে।

বিজয় বায়ান্ন বাংলা কিবোর্ড

বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ড
সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আমাদের দেশে বাংলা কিবোর্ডের মধ্যে পুরোনো অন্যতম জনপ্রিয় একটি কিবোর্ড হচ্ছে বিজয় বায়ান্নএই কিবোর্ডটি বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার তৈরী করেন১৯৮৮ সালে প্রথম এই কিবোর্ডটি বিকশিত হয়পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ডের টাইপিং এর জন্য এটি তৈরী করা হয়সহজে বাংলা ভাষা টাইপ করতে পারা, অ্যাপ্লিকেশনটির অনেক কম সাইজ, কোনো ধরনের জটিল ফিচার না থাকায় খুব অল্প সময়েই এই কিবোর্ডটি এদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেবর্তমানে অনেক হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কিবোর্ড রপ্তানির সময় তাদের কিক্যাপ গুলোতে ইংরেজি বর্ণমালার পাশাপাশি বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ড অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাও যুক্ত করছে

আমাদের দেশে সরকারি সকল চাকরির ক্ষেত্রেই বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ড ব্যবহার করে বাংলা টাইপ করার নির্দেশ রয়েছেফলে সরকারি সকল ঘোষণা পত্র সহ সকল কাজেই বিজয় বায়ান্ন সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে বাংলা টাইপ করা হয়এমনকি অনেকগুলো সরকারি চাকরির আবেদন করার জন্য বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ডে দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়

এছাড়াও অনেকের নিত্যদিনের প্রয়োজনেই অ্যাডোবি ফটোশপ (Adobe Photoshop) , অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর (Adobe Illustrator) এই দুটি অ্যাপ্লিকেশনের দরকার হয়ে থাকে। এই অ্যাপ্লিকেশন দুটির মধ্যে বাংলা কোনো বর্ণ লিখতে চাইলে বিজয় বায়ান্ন ব্যবহার করে সহজেই তা করা যায়বিজয় বায়ান্ন সফটওয়্যারটির এই সুবিধাগুলোর পাশাপাশি একটি বড় অসুবিধা হচ্ছে এটি ইউনিকোড ব্যবহার করে না। ফলে ইন্টারনেটের বিভিন্ন লেখা ব্যবহার করার সময় সেগুলো প্রায়ই ঠিকভাবে প্রদর্শিত হয় না। সেক্ষেত্রে আলাদা করে ইউনিকোড থেকে বিজয় কনভার্টার ব্যবহার করতে হয়। ঠিক এই একই সমস্যা বিজয় ব্যবহার করে লেখা কোনো কিছু ইন্টারনেটে আপলোড করলেও হতে পারে। সেক্ষেত্রে একইভাবে বিজয় থেকে ইউনিকোড কনভার্টার ব্যবহার করতে হয়।

বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ড সফটওয়্যারটি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করা যায় সহজেইএখানে উল্লেখ্য যে বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ডটির কয়েকটি ভাগ রয়েছেব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রয়েছে ‘পার্সোনাল লাইসেন্স‘। যেটি শুধুমাত্র একটি কম্পিউটারেই ব্যবহার করা যাবেএটি বিজয় বায়ান্ন বিজয় লিনাক্স হিসেবে পাওয়া যায়নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে হবেকোনো সংস্থা অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করার জন্য বিজনেস লাইসেন্সযার সাহায্যে সংস্থার অনেকগুলো কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবেএটি বিজয় একাত্তর নামে পরিচিত

মূল্য

বিজয় বায়ান্ন কিবোর্ডটি অফিসিয়ালি ডাউনলোড করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হবেসেটি পরিশোধ করার পর একটি অ্যাক্টিভেশন কি পাওয়া যাবে, যার সাহায্যে এই অ্যাপ্লিকেশনটি সহজে ব্যবহার করা যাবে

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য

  • বিজয় বায়ান্ন৪০০৳
  • বিজয় লিনাক্স- ১০০৳

কোনো সংস্থা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য

  • বিজয় একাত্তর২৫০০৳৫০০০৳

অভ্র বাংলা কিবোর্ড

অভ্র বাংলা কিবোর্ড
সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আমাদের বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের বাংলা ভাষাভাষীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় একটি বাংলা কিবোর্ড  হচ্ছে অভ্র। ২০০৩ সালের ২৬শে মার্চ ‘ভাষা হোক উন্মুক্ত’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে অভ্র যাত্রা শুরু করে। অভ্র ইন্টারনেটে বাংলা টাইপ করার দিক থেকে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে । উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ইউনিকোডে বাংলা টাইপ করার প্রথম কিবোর্ড অভ্র। এটি ইউনিকোড ও এএনএসআই (ANSI) সমর্থিত বাংলা লেখার জন্য তৈরী একটি সফটওয়্যার। যে কেউ এই সফটওয়্যারটি বিনামূল্যেই ডাউনলোড করে বাংলা টাইপ করতে পারবেন। অভ্র কিবোর্ড এর এতটা বিখ্যাত হওয়ার পেছনের অন্যতম একটি কারণ হলো এর ইউনিকোড ব্যবহার। তবে এটিই প্রধান কারণ নয়। অভ্র এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ফোনেটিক (Phonetic) কিবোর্ড । এর সাহায্যে ইংরেজি উচ্চারণ অনুযায়ী বাংলা লেখা যায়। ফলে কারো আলাদা করে বাংলা কিবোর্ড অথবা বাংলা টাইপিং শেখার প্রয়োজন হয় না।

ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহার করেই সহজে বাংলা লেখা যায়। যেমন- অভ্র ব্যবহার করে যদি ‘Ami banglay gan gai’ লেখা হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা উঠবে ‘আমি বাংলায় গান গাই’। নিচের চিত্রটির সাহায্যে অভ্র কিবোর্ডে ইংরেজি কোন অক্ষর লিখলে বাংলা কোন অক্ষর আসবে তা আরো ভাল করে বুঝতে পারবেন। কোনো কিবোর্ডে টাইপ করে লেখা শেখার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত ইংরেজি টাইপিং করাটাই আগে শিখি। ইংরেজি ভাষায় বর্ণমালার সংখ্যা যেমন কম, তেমনি প্রায় সকল হার্ডওয়্যার নির্মাতা কোম্পানীই ইংরেজি বর্ণমালা অনুযায়ীই কিবোর্ড  ডিজাইন করে থাকে। সে কারণে ইংরেজি টাইপিং শেখাটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহজ হয়। কিন্তু বাংলা টাইপিং এর ক্ষেত্রে ইংরেজি কিবোর্ডের অল্প কয়েকটি কি এর সাহায্যেই বাংলা সবকয়টি বর্ণ লিখতে হয়। ফলে ব্যবহারকারীকে আবারো নতুন করে কিবোর্ড ব্যবহার শিখতে হয়। কিন্তু অভ্রের ফোনেটিক কিবোর্ডে এই ঝামেলার কোনো সুযোগ নেই। সাধারণ ইংরেজি কিবোর্ড থেকে উচ্চারণের সাহায্যেই সহজে বাংলা লেখা সম্ভব এই কিবোর্ডটিতে।

অভ্র সফটওয়্যারটি একদম শুরুতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে সি++ ভাষার সাহায্যে এর একটি লিনাক্স সংস্করণও বের করা হয়। এর ফলে এখন অভ্র ব্যবহার করে অধিকাংশ অপারেটিং সিস্টেমেই বাংলা লেখা যায়। অভ্র ইউনিকোড ব্যবহার করলেও এর একটি সমস্যা রয়েছে। তা হলো বেশ কিছু সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অনেকটাই ঝামেলাদায়ক। যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ এবং অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ইউনিকোড থেকে আনসি কনভার্টার এর মাধ্যমে লেখাগুলো ব্যবহার করতে হয়।

মূল্য

অভ্র কিবোর্ড সফটওয়্যারটি যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই ব্যবহার করতে পারবেন। অভ্র এর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান অমিক্রন ল্যাবের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই ডাউনলোড করা যায় অভ্র কিবোর্ড সফটওয়্যারটি। অভ্র ডাউনলোড করতে এই লিংকে প্রবেশ করুন।

লিপিকার বাংলা কিবোর্ড

লিপিকার বাংলা কিবোর্ড

লিপিকার মূলত ভারতীয়দের তৈরী করা একটি কিবোর্ড সফটওয়্যার। এটি বাংলা টাইপিং এর জন্যও বেশ জনপ্রিয়। এই কিবোর্ডটি একই সাথে অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ডাউনলোড করে আবার ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের সাহায্যেও ব্যবহার করা যায়। এই সফটওয়্যারটির সাহায্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, ইমেইল, অ্যাডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর সহ সকল যায়গাতেই বাংলা লেখা যায়। এই কিবোর্ডটিও অভ্র এর মতো কিছুটা উচ্চারণ অনুযায়ী টাইপ করার সুবিধা দেয়। যদিও এটি অভ্রের মত এতটা ফোনেটিক নয়। কিন্তু তবুও এর সাহায্যে টাইপ করার কাজে সুবিধা পাওয়া যায় অনেক বেশী। এর ফলে এই কিবোর্ড ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে বাংলা বর্ণমালার কি স্টিকারের প্রয়োজন হয় না।

এই কিবোর্ডটি আনসি / আসকি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে। ফলে এতে বিজয় কিবোর্ডের মতো আনসি বা আসকি এর সকল সুবিধাই পাওয়া যাবে। একইসাথে রয়েছে অভ্র এর টাইপিং স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু এতে ইউনিকোড ব্যবহার না করায় স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেটে বেশ কিছু ওয়েবসাইটের লেখা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বা সেগুলোতে লিখতে গেলে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। সে রকম পরিস্থিতিতে আলাদা করে ইউনিকোড কনভার্টার ব্যবহার করে কাজ করতে হবে।

মূল্য

লিপিকার সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে চাইলে প্রথম ৩ দিনের জন্য বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যাবে। এরপরেও ব্যবহার করার জন্য ২৯৯৳ পরিশোধ করে লাইসেন্স করে নিতে হবে। এছাড়া চাইলে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লিপিকার কিবোর্ড  ব্যবহার করা যায়।

ইজি লার্ন বাংলা কিবোর্ড (Easy learn Bangla keyboard)

এই বিশেষ কিবোর্ড সফটওয়্যারটি শুধুমাত্র বাংলা টাইপিং এর জন্যই তৈরী হয় নি। এটি তৈরীর পেছনে মূল লক্ষ্য ছিলো দেশের বাইরে থেকে আসা পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং এদেশের বাইরে বসবাস করা বাংলাদেশী জাতীয়তার শিশুরা। এই সফটওয়্যারটির সাহায্যে বাংলা ভাষার সাথে পরিচিত নয় এমন  কেউও সহজেই বাংলা পড়তে পারবেন। এই কিবোর্ড সফটওয়্যারটি তৈরীর পেছনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের বাইরে বসবাসকারী শিশুরা যেনো নিজেদের ভাষা, নিজেদের শিকড়, নিজেদের ঐতিহ্যকে ভুলে না যায়। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের সাহায্যে তারা যেন কিছুটা হলেও বাংলা ভাষা ও বাঙালী ঐতিহ্য এর সাথে পরিচিত হয়। এবং বাংলা ভাষাকে তাদের যোগাযোগের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্থান দেওয়া যায়।

এই কিবোর্ডের সাহায্যে বাংলা জানেন না এমন কেউ খুবই সাধারণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু ভাষা দ্রুত শিখে নিতে পারেন। যেমন- কাউকে সম্ভাষণ করা, নিয়ম অনুযায়ী বিদায় জানানো, বাংলায় কিভাবে হোটেলে খাবারের অর্ডার দিতে হয় ইত্যাদি। এই কিবোর্ডটি বর্তমানের উইন্ডোজ থেকে অনেক পুরাতন ভার্সনের উইন্ডোজেও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে এর সাহায্যে যেকোনো পরিস্থিতিতেই বাংলা ভাষার ব্যাপারে জানা ও প্রয়োজনে টাইপ করা যায়।

গুগল বাংলা কিবোর্ড (জিবোর্ড)

গুগল বাংলা কিবোর্ড (জিবোর্ড)

গুগল কিবোর্ড পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় একটি কিবোর্ড। এতে অন্যান্য ভাষার মত বাংলা লেখার সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। গুগল কিবোর্ড মূলত মোবাইল ফোনেই ব্যবহৃত হয়। সাধারণত অধিকাংশ মোবাইল ফোনেই ডিফল্ট কিবোর্ড হিসেবে গুগল কিবোর্ড বা জিবোর্ড দেওয়া থাকে। সেকারণে এই কিবোর্ডটি ডাওনলোড করা বা সেটআপ করার জন্য আলাদা করে পরিশ্রমের প্রয়োজন পরে না।

গুগল কিবোর্ডে সাধারণত ভাষা হিসেবে প্রথমে ইংরেজি নির্বাচন করা থাকে সবসময়ই। সেটিংস থেকে এটিতে সহজেই বাংলা যুক্ত করতে নেওয়া যায়। পরবর্তীতে ভাষা বদলাতে কিবোর্ডে ‘Space’ বাটনের বামদিকে থাকা আইকনটিতে ক্লিক করতে হয়। এতে সহজেই বাংলা থেকে ইংরেজি কিবোর্ডে অথবা ইংরেজি থেকে বাংলা কিবোর্ডে যাওয়া যায়। জিবোর্ডের বাংলা কিবোর্ডটির লেআউট অন্যান্য গতানুগতিক বাংলা কিবোর্ডের মতই।

গুগল কিবোর্ডকে যে বিষয়টি অন্যান্য কিবোর্ড থেকে আলাদা করেছে তা হলো এর ‘Auto-correct’ ফিচারটি। এই কিবোর্ডে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স সমৃদ্ধ ‘Auto-correct’ এর ফিচার যুক্ত থাকায় এটি ব্যবহারকারীর টাইপ করা থেকে নিজেই শব্দ শিখে নেয়। পরবর্তীতে টাইপিং এর সময় এটি শব্দগুলোকে শুধরে দেয় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই। ফলে বানান ভূলের বিষয়টি অনেকাংশ ক্ষেত্রেই এড়ানো সম্ভব জিবোর্ড ব্যবহারের সাহায্যে।

অক্ষর বাংলা কিবোর্ড

বাংলা লেখার জন্য আরেকটি অসাধারণ কিবোর্ড সফটওয়্যার হচ্ছে অক্ষর বাংলা। বাংলা কিবোর্ড গুলোর মাঝে এটি বেশ পুরাতন একটি কিবোর্ড । ২০০৩ সালে টেক্সট থেকে স্পিচ পদ্ধতির উপরে ভিত্তি করে তৈরী হয় এই কিবোর্ডটি। যা সেসময় বাংলা কিবোর্ড গুলোর মধ্যে একদমই নতুন। এর সাহায্যে কোনো নতুন টেক্সট টাইপ করা হলে বা ম্যাসেজ আসলে এই কিবোর্ডটি সেটি মানুষের গলার স্বরে পড়ে শোনাতো। এটি সেসময় এই কিবোর্ডটির জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে বেশ বড় একটি ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এই কিবোর্ডটির সাহায্যে ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা যায়। অর্থাৎ এই কিবোর্ডটিও ইংরেজি উচ্চারণ ইংরেজি অক্ষরে টাইপ করলে বাংলায় লিখতে পারে। ফলে এই কিবোর্ড ব্যবহার করে টাইপিং এর কাজ করতে চাইলে আলাদা করে বাংলা কিবোর্ড  এর লেআউট শেখারও প্রয়োজন নেই।

এই কিবোর্ডের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এতে ইউনিকোড এবং আসকি দুটিই ব্যবহার করা যায়। ফলে এতে দুটি স্ট্যান্ডার্ডেই টাইপ করার সুবিধা রয়েছে। একারণে প্রয়োজনে আলাদা করে কনভার্টার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো সফটওয়্যার এবং অ্যাপে এই কিবোর্ড ব্যবহার করা যায় সহজেই। এছাড়াও এই কিবোর্ডটির সাহায্যে মাউস ব্যবহার করেও টাইপ করার সুবিধা রয়েছে। ফলে যারা কিবোর্ড ব্যবহারে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন না তারা এই ফিচারটির সাহায্যে সহজেই মাউস দিয়ে বর্ণ সিলেক্ট করে টাইপ করতে পারবেন। যারা ল্যাপটপে টাচস্ক্রিনের সাহায্যে কাজ করে থাকেন তাদের জন্য এটি অনেক সুবিধাজনক একটি ফিচার। এই কিবোর্ডটির সাহায্যে কোন লেখাকে সরাসরি ছবিতে রূপান্তরিত করা যায়। ফলে প্রিন্ট করার সময়, বা অন্য কাউকে পাঠানোর সময় ফন্ট না থাকায় কাজ করতে না পারার মত সমস্যায় পরতে হয় না। এই কিবোর্ডটির সাথে ইংরেজি থেকে বাংলা ট্রান্সলেটর থাকায় কোন শব্দের অর্থ কি তাও সহজেই বের করে নেওয়া যায়।

মূল্য

এই কিবোর্ড সফটওয়্যারটি বিনামূল্যেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ডাউনলোড করে নিতে হবে। এরপর সেটি ইন্সটল করে নিলে সহজেই অক্ষর বাংলা কিবোর্ড টি ব্যবহার করা যাবে।

স্বরচক্র

স্বরচক্র বাংলা কিবোর্ড

স্বরচক্র বাংলা ভাষার বেশ জনপ্রিয় এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি কিবোর্ড। এই কিবোর্ডটি মূলত অ্যাড্রয়েড ওএস যুক্ত মোবাইল ফোনে ব্যবহারের জন্য তৈরী করা হয়েছে বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দী, গুজরাটি, মারাঠি সহ আরো অনেকগুলো ভাষার জন্যও স্বরচক্রের তৈরী কিবোর্ড সফটওয়্যার রয়েছে। স্বরচক্র এর টাইপিং পদ্ধতি আসলে অন্যান্য গতানুগতিক কিবোর্ড এর থেকে কিছুটা আলাদা। এতে বাংলা বর্ণমালার ব্যাঞ্জনবর্ণগুলো ক্রমানুসারে ক, খ, গ, ঘ… এভাবে সাজানো থাকে। ফলে কেউ অন্যান্য কিবোর্ড ব্যবহার আগে না করে থাকলেও এর সাহায্যে বর্ণ খুঁজে পেতে কোন অসুবিধা হয় না। এটি যারা স্বাভাবিক কিবোর্ড ব্যবহার করে অভ্যস্ত তাদের জন্য কিছুটা সমস্যা তৈরী করলেও, যারা টাইপিং একদমই নতুন শিখছেন তাদের জন্য অনেক সুবিধাজনক।

স্বরচক্র ব্যবহার করে টাইপিং করাটর পদ্ধতিটাও কিছুটা ভিন্ন। টাইপিং করার সময় কিবোর্ড থেকে কোন একটি ব্যাঞ্জনবর্ণকে টাচ করলেই সেটির চারদিকে একটি চাকতির মত উঠে আসে। যেটিতে ঐ বর্ণের সাথে অন্যান্য সকল মাত্রা যুক্ত করে দেওয়া থাকে। এছাড়াও এই চাকতিটিতে একই সাথে ঐ বর্ণ ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর কি কি শব্দ গঠন করা যায় সেটাও দেখানো হতে পারে। সেগুলো নির্বাচন করার জন্য চাকতির ঐ ঘরে আঙ্গুল স্লাইড করে নিয়ে যেতে হয়। এরপরেই ঐ বর্ণ বা শব্দ লেখা হয়ে যায়। স্বরচক্র কিবোর্ডটির সাহায্যে যুক্তবর্ণ ব্যবহার করাও বেশ সহজ একটি কাজ। অন্যান্য কিবোর্ডের সাহায্যে অধিকাংশ যুক্তবর্ণ টাইপ করাটাই কিছুটা জটিল। কিন্তু স্বরচক্র ব্যবহার করে বেশ সহজেই এটি করা যায়। কোন একটি ব্যাঞ্জনবর্ণে টাচ করে চাকতি থেকে হসন্ত বা হস চিহ্ন (্‌)নির্বাচন করলেই সেখানে আরেকটি চাকতিতে ঐ বর্ণের সাহায্যে তৈরী করতে পারা যুক্তবর্ণগুলো প্রদর্শন করে। সেগুলো নির্বাচন করলেই ঐ যুক্তবর্ণগুলো লেখা হয়ে যায়।

মূল্য

স্বরচক্র কীবোর্ডটি যেকোন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন  সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই।

শেষকথা

বর্তমানে আমাদের সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে চাকরিক্ষেত্র পর্যন্ত সব সময়ই ডিজিটালি বাংলা লেখার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এসকল ক্ষেত্রে একটি ভাল বাংলা কিবোর্ড না পেলে পোহাতে হয় অনেক বিড়ম্বনা। সেকারণে এখানে কতগুলো জনপ্রিয় বাংলা কিবোর্ডের ব্যাপারে উল্লেখ করা হলো। আশা করি এ কিবোর্ডগুলোর ভেতর থেকে আপনি আপনার পছন্দসই কিবোর্ড খুজে নিতে পারবেন।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button