কম্পিউটারটেকনোলজিল্যাপটপহার্ডওয়্যার

প্রসেসর কি? প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

কম্পিটারের প্রাণকেন্দ্র বা মস্তিষ্ক, যেই নামেই ডাকা হোক না কেন, বস্তুটি প্রসেসর (Processor)। প্রসেসর নামটি আমরা সকলেই শুনেছি। মানব শরীরে সকল চিন্তা-ভাবনা ও সিধান্ত নেওয়ার কাজ যেমন মস্তিষ্কের দায়িত্ব, ঠিক তেমনই কম্পিউটার বা অন্য যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্বটি পালন করে প্রসেসর। দিন যত যাচ্ছে, মানুষের প্রযুক্তি পণ্য কেনা ততই বাড়ছে। আর এমন সকল পণ্যের ভেতরেই রয়েছে প্রসেসর। কম্পিউটারে তো বটেই। তাই এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে প্রসেসরের আদ্যোপান্ত। গতানুগতিক তথ্য নয়, বরং প্রসেসরের কার্যপদ্ধতি ও কিভাবে একটি প্রসেসর ভাল কি না মন্দ সে সিধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্যই থাকছে আজকের লেখাতে। 

সূচিপত্রঃ

প্রসেসর কী?

প্রসেসর বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (Central Processing Unit) হলো এমন একটি লজিক সার্কিট (Logic Circuit) যা কম্পিউটার চালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল হিসাব-নিকাশ সহ অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা প্রেরিত সকল অ্যারিথমেটিক, (Arithmatic) লজিক (Logic) ও ইনপুট/আউটপুট (I/O) অপারেশন সম্পন্ন করে থাকে। 

প্রসেসর বলতে বর্তমানে সাধারণত সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটকেই বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এটি সঠিক নয়। কারণ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট ছাড়াও আরও অনেক ধরনের প্রসেসর খোদ কম্পিউটারেই বিদ্যমান। সে সকল প্রসেসরই আবার সেন্ট্রাল প্রসেসর ইউনিটের উপর নির্ভরশীল। যেমন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (Graphics Processing Unit)। এছাড়া কম্পিউটার বাদেও মোবাইল সহ আরও বিভিন্ন ডিভাইসে নানা ধরনের প্রসেসর রয়েছে। কিন্তু বোঝার স্বার্থে এ লেখাটিতে প্রসেসর হিসেবে মূলত কম্পিউটার প্রসেসর নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।  

প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

প্রসেসরের কোনো কাজ সম্পাদনের প্রয়োজন হলে প্রসেসর প্রথমেই র‍্যাম থেকে সেই কাজটির নির্দেশনা সংগ্রহ করে নির্দেশনাটিকে ডিকোড করে এবং সে অনুযায়ী হিসাব নিকেশ সম্পাদন করে। প্রসেসরের এই কাজ করার প্রক্রিয়াটিকে মূলত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়, ফেচ (Fetch), ডিকোড (Decode) এবং এক্সিকিউট (Execute)। 

তবে এই তিনটি ধাপের সাথে জড়িত থাকে প্রসেসরের অসংখ্য অংশ। আর প্রসেসরের কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে বুঝতে চাইলে অবশ্যই জানতে হবে সে সকল অংশের কাজ সম্পর্কে। মূলত প্রসেসরের একাধিক অংশের ভিন্ন ভিন্ন কাজের মাধ্যমেই প্রসেসর সার্বিক ভাবে কাজ করে থাকে।

প্রসেসরের অংশসমূহ

প্রসেসরের প্রধান অংশ তিনটি। এর বাইরে অসংখ্য অংশ থাকলেও সকল অংশের কাজ বিস্তারিত জানাটা প্রয়োজনীয় নয়। প্রসেসরের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ সম্পর্কে ধারনা পেলেই প্রসেসরের সার্বিক কাজ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া সম্ভব। 

কন্ট্রোল ইউনিট (Control Unit) 

প্রসেসরের সার্বিক কাজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ইউনিটটিকে বলা হয়ে থাকে ‘কন্ট্রোল ইউনিট’। প্রসেসরের কার্যাবলীর জন্য র‍্যাম থেকে নির্দেশনা সংগ্রহ করা, গৃহীত নির্দেশনাকে ডিকোড করে প্রেরণ করা এবং প্রসেসরের সকল কাজের মধ্যে সংহতি রাখা, এ সব কিছুই কন্ট্রোল ইউনিটের দায়িত্ব। কন্ট্রোল ইউনিট সার্বিক ভাবে যে সকল কার্য সম্পাদন করে থাকেঃ 

  • ফেচ (Fetch): কন্ট্রোল ইউনিট র‍্যাম থেকে ইন্সট্রাকশনস (Instructions) বা নির্দেশনা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একেই বলে ফেচ। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় পিসি (PC) বা প্রোগ্রাম কাউন্টার এর হিসেব অনুযায়ী। প্রোগ্রাম কাউন্টার হলো এমন এক ধরনের রেজিস্টার যাতে কোন প্রোগ্রামের পর কোন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে হবে, অর্থাৎ কোন নির্দেশনার পর কোন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
  • ডিকোডিং (Decoding): নির্দেশনা গ্রহণ করার পর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আসলে কি কি করতে হবে সেটি ডিকোড করে বের করার দায়িত্ব কন্ট্রোল ইউনিটের। 
  • মাইক্রো-অপারেশন সিকোয়েন্সিং (Micro-Operation Sequencing): নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার দায়িত্বটা কন্ট্রোল ইউনিটের না। কিন্তু লজিক ইউনিট সে কাজ শুরু করার আগে বেশ কিছু ছোট ছোট অপারেশন চালু করতে হয়। সেই মাইক্রো-অপারেশন গুলো চালু করার দায়িত্ব কন্ট্রোল ইউনিটের। 
  • ক্লক সিংক্রোনাইজেশন (Clock Synchronization): প্রসেসরের সকল কাজ একই তালে সম্পন্ন করার জন্য কন্ট্রোল ইউনিট টাইমিং সিগনাল দিয়ে থাকে। একেই বলে ক্লক সিংক্রোনাইজেশন। এর মাধ্যমে প্রসেসরের সকল কাজ একই সময়ে ঘটে। 
  • পেরিফেরাল (Peripheral Device) ডিভাইস নিয়ন্ত্রণঃ কম্পিউটারের বাইরে থাকা ডিভাইসসমূহকে পেরিফেরাল ডিভাইসও বলা হয়ে থাকে। বাহিরের এ সকল ডিভাইসের সাথে প্রসেসরের সংযোগ রক্ষার কাজও কন্ট্রোল ইউনিট করে থাকে। 

অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (Arithmetic Logic Unit)

অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট হলো প্রসেসরের হিসাব করার অংশ। অর্থাৎ একটি কম্পিউটারে যত ধরনের প্রোগ্রাম চালানো হয়, সে সংক্রান্ত সকল হিসাব প্রসেসরের এই অংশটিতেই হয়ে থাকে। মূলত এই হিসাব-নিকাশের কাজটিই হলো এক্সিকিউশন (Execution), যা করে থাকে অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট।  নামের সাথে মিল রেখে, এই অংশে সকল অ্যারিথমেটিক এবং লজিকাল হিসাব গুলো সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট যেই অপারেশন গুলো সম্পন্ন করে থাকে। 

  • অ্যারিথমেটিক অপারেশনঃ এই ধরনের অপারেশনকে গাণিতিক অপারেশনও বলে। এক্ষেত্রে মাত্র চার ধরনের গাণিতিক অপারেশন সম্পন্ন হয়। যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ। মাত্র এই চার ধরনের গাণিতিক হিসাবের সাহায্যেই কম্পিউটার তার সকল হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে থাকে।
  • লজিকাল অপারেশনঃ লজিকাল অপারেশনের ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের অপারেশন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দুইটি ডাটার মধ্যে তুলনা করা হয় যে কোনটি বড়, কোনটি ছোট অথবা সমান। 

ধরা যাক, আপনি কম্পিউটারকে দুইটি সংখ্যা যোগ করতে দিলেন। এক্ষেত্রে প্রথম সংখ্যাটিকে রাখা হবে একটি ইনপুট রেজিস্টারে। আরেকটি সংখ্যা থাকবে অপর আরেকটি ইনপুট রেজিস্টারে। অতঃপর অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট সংখ্যা দুটিকে যোগ করে ফলাফল জমা করবে অ্যাকুমুলেটর (Accumulator) এ। এভাবেই মূলত কম্পিউটারের সকল হিসাব নিকাশ হয়ে থাকে।

রেজিস্টার (Register)

রেজিস্টার হলো প্রসেসরের সাথে থাকা অত্যন্ত দ্রুত গতির কিছু স্টোরেজ যা বিভিন্ন নির্দেশনা, ডাটা অথবা প্রসেসরের হিসাব নিকাশের পর প্রাপ্ত ফলাফলকে সাময়িক ভাবে ধারন করে। অনেকে একে র‍্যাম অথবা ক্যাশ মেমোরি এর মতো মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্টোরেজ ডিভাইস যার গতি সবচেয়ে বেশি। এই ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস গুলোর ধারন ক্ষমতা খুবই অল্প এবং এগুলো প্রসেসরের সাথে বিল্ট-ইন অবস্থাতেই থাকে। রেজিস্টারকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে প্রসেসরের কন্ট্রোল ইউনিট। ইউনিটের নির্দেশে রেজিস্টার প্রসেসরের জন্য ইন্সট্রাকশন তথা নির্দেশনা সংরক্ষণ করতে পারে। আবার হিসাবকৃত ফলাফল ও সাময়িক ভাবে ধারন করে। তবে একেক কাজের জন্য একেক ধরনের রেজিস্টার রয়েছে। এদের ভেতর চার ধরনের রেজিস্টার উল্লেখযোগ্যঃ 

  • অ্যাকুমুলেটর রেজিস্টার (Accumulator Register): অ্যাকুমুলেটর রেজিস্টারে অ্যারিথমেটিক লজিকাল ইউনিটেরর হিসাবকৃত ফলাফল জমা থাকে। 
  • অ্যাড্রেস রেজিস্টার (Address Register): র‍্যামের কোন অংশে কোন নির্দেশনা বা ডাটা জমা থাকবে, তার হিসেব রাখে অ্যাড্রেস রেজিস্টার।
  • স্টোরেজ রেজিস্টার (Storage Register): নামের মতই এই রেজিস্টারের কাজ প্রসেসরের জন্য স্বল্প সময়ে ডাটা সংরক্ষণ করা।
  • জেনারেল-পারপস রেজিস্টার (General-Purpose Register): জেনারেল-পারপস রেজিস্টার এমন এক ধরনের রেজিস্টার যার নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় এই রেজিস্টার। 

কিভাবে প্রসেসর প্রোগ্রাম চালনা করে? 

ইতোমধ্যে আপনারা একটি প্রসেসরের অংশ সমূহ ও তাদের কাজ সম্পর্কে ধারনা পেয়েছেন। মূলত এ সকল মূলনীতি মেনেই একটি প্রসেসর যেকোনো প্রোগ্রাম রান করে। এক্ষেত্রে সময়ের ভিত্তিতে সকল কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 

আই-টাইম

ফেচ এবং ডিকোড, এই দুইটি কাজ মূলত আই-টাইম এর ভেতর পড়ে। কোনো প্রোগ্রাম চালানো হলে প্রোগ্রামের ইন্সট্রাকশন বা নির্দেশনা গুলো প্রথমেই র‍্যামে লোড করে নেওয়া হয়। অতঃপর প্রসেসরের কন্ট্রোল ইউনিট র‍্যাম থেকে তা ‘ফেচ’ প্রক্রিয়ায় প্রসেসরে গ্রহণ করে। অতঃপর ‘ডিকোড’ প্রক্রিয়ার সাহায্যে নির্দেশনাতে আসলে কি কি বলা আছে তা নির্ধারণ করা হয়। এই দুইটি প্রক্রিয়ার জন্য যেই সময় প্রয়োজন সেটি হলো আই-টাইম। 

ই-টাইম 

আই-টাইম এর মতো ই-টাইমও দুইটি ধাপের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথম ধাপে অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে তার এক্সিকিউশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অতঃপর সেগুলোকে রেজিস্টারে প্রেরণ করা হয়। এই দুইটি ধাপ মিলেই হয় ই-টাইম। আর আই-টাইম ও ই-টাইম, এই দুইটি ধাপের সম্পূর্ণ সময়টিকে বলে মেশিন সাইকেল (Machine Cycle)। 

প্রসেসরের বৈশিষ্ট্য সমূহ 

প্রসেসরের কার্যপদ্ধতি তো জানলেন, এবার আসুন জানা যাক কি দেখে একটি প্রসেসর কিনবেন। এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে প্রসেসরের বৈশিষ্ট্য সমূহের মধ্যে। প্রসেসরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থেকেই বোঝা সম্ভব যে প্রসেসরটি আদৌ আপনার চাহিদা মেটাতে পারবে কি না। 

কোর (Core) 

‘ইন্টেল কোর আই’ এই কথাটি শুনতে অনেকেই অভ্যস্থ। তবে ‘কোর’ দিয়ে মূলত বোঝায় একটি প্রসেসরের একটি প্রসেসিং ইউনিট। আদি যুগে একটি প্রসেসরের চিপে শুধু মাত্র একটি কোর থাকলেও এখন প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে সার্ভার কম্পিউটার বা মেইনফ্রেইম কম্পিউটারের প্রসেসরের কথা বাদ দিলেও, সাধারণ মানুষ ক্রয় করতে পারে এমন প্রসেসরের কোর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৬৪টি হতে পারে। তেমন একটি প্রসেসর হলো ‘এএমডি থ্রেড্রিপার প্রো ৫৯৯৫ এক্স’ (AMD Threadripper Pro 5996X)। 

ইতোমধ্যেই আপনারা প্রসেসরের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জেনেছেন। এ কার্যপদ্ধতিতে প্রসেসর র‍্যাম থেকে ডাটা নিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকে। একটি প্রসেসরে যদি শুধু একটি কোর থাকে, তাহলে এমন শুধু একটি প্রক্রিয়াই সম্ভব। কিন্তু একটি কোরে যদি একাধিক কোর থাকে, তাহলে যতটি কোর থাকবে ততটি প্রক্রিয়া একই সময়ে চালনা করা সম্ভব। অর্থাৎ সহজ ভাষায়, একটি কোরের প্রসেসর যদি এক সময়ে একটি প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তাহলে চার কোরের প্রসেসর একই সময়ে চারটি প্রোগ্রাম চালাতে পারবে। এভাবে কোর যত বেশি হয়, একটি প্রসেসর তত বেশি প্রোগ্রাম একই সময়ে চালাতে সক্ষম হয়। অথবা প্রোগ্রামটি ভারী হয়ে থাকলে একই প্রোগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন অংশ একই সময়ে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। তাই কেনার সময় একই জেনারেশনের প্রসেসরের কোরের সংখ্যা যত বেশি হবে, প্রসেসর হবে তত ভাল। কোরের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রসেসরের ধরনঃ 

ধরন কোর সংখ্যা 
সিঙ্গেল-কোর (Single Core)
ডুয়েল-কোর (Dual-Core)
কোয়াড-কোর (Quad-Core) 
হেক্সা-কোর (Hexa-Core) 
অক্টা-কোর (Octa-Core)
ডেকা-কোর (Deca-Core) ১০ 

যদিও এখানে মাত্র ১০টি কোর সম্পন্ন প্রসেসরের নামকরণ করা হয়েছে, কিন্তু কোর সংখ্যা ১২, ১৪, ১৬, ২০, ২৪, ৩২, ৪০, ৬৪টি পর্যন্ত হতে পারে। 

থ্রেড (Thread) 

কাজ সম্পন্ন করার সময় একটি প্রসেসর একই সাথে যেই কয়টি ধারায় ইন্সট্রাকশনস বা নির্দেশনা নিতে পারে সেই সংখ্যাটিকে বলে থ্রেড। যেকোনো প্রসেসরে সাধারণত ১টি অথবা ২টি থ্রেড থাকে। মূলত থ্রেড হলো ইন্সট্রাকশন গ্রহণ করার একেকটি সিকোয়েন্স (Sequence) বা পথ। যদি একটি কোরে একটি থ্রেড থাকে তাহলে ওই কোরটি একটি পথেই ইন্সট্রাকশন বা ডাটা গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু যদি দুইটি থ্রেড থাকে তাহলে পথ হবে দুইটি। এক্ষেত্রে সেই কোরটির কর্মদক্ষতাও বেড়ে যাবে অনেক খানি। 

অনেক সময় অনেক ভারী প্রোগ্রামে একই সাথে অনেক গাণিতিক হিসাব নিকাশ করতে হয় এবং পাশাপাশি আরও বেশ কিছু কাজ করতে হয়। দুইটি থ্রেড থাকলে এ ধরনের সফটওয়্যার গুলো কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা পায়। একটি থ্রেডের মাধ্যমে একটি হিসাব চলতে থাকে এবং অপর থ্রেডটি অন্যান্য কাজের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই অবশ্যই সবসময় একাধিক কোরের দ্বিগুণ সংখ্যক থ্রেড সমৃদ্ধ প্রসেসর কেনা উচিত। তবে একটি কোরের জন্য দুইটি থ্রেড ব্যবহারের প্রযুক্তিও কিন্তু আবার দুইটি। একটি হলো হাইপারথ্রেডিং, আরেকটি হলো মাল্টিথ্রেডিং। 

সিঙ্গেল-কোর পারফর্মেন্স (Single-Core Performance) 

সিঙ্গেল কোর পারফর্মেন্স দিয়ে একটি প্রসেসরের শুধু একটি কোরের পারফর্মেন্স বা কর্ম দক্ষতাকে বোঝায়। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যে, একটি প্রসেসরে একাধিক কোর থাকতে পারে। আর প্রতিটি কোরই একটি প্রসেসরের ন্যায় কাজ করে। এক্ষেত্রে একটি আলাদা কোর আলাদা ভাবে কেমন কাজ করছে তা বোঝার জন্যই রয়েছে মূলত সিঙ্গেল কোর পারফর্মেন্স। সিঙ্গেল কোর পারফর্মেন্স যাচাই করার জন্য রয়েছে অনেক সাইট। এর ভেতর সিপিইউ বেঞ্চমার্ক (CPU Benchmark) নামক ওয়েবসাইটে যেয়ে আপনার প্রসেসরের নাম লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার প্রসেসরের কোর প্রতি কর্মদক্ষতা। 

মাল্টি-কোর পারফর্মেন্স (Multi-Core Performance) 

মাল্টি-কোর পারফর্মেন্স এর সাহায্যে একটি প্রসেসরের সম্পূর্ণ কর্মদক্ষতাকেই যাচাই করা হয়। একটি প্রসেসরে যেই কয়টি কোর রয়েছে, সব কয়টি কোর একত্রে কিরকম কাজ করতে পারে তা নির্ণয়ের জন্যই রয়েছে এই ধরনের পারফর্মেন্স টেস্ট। সাধারণত কোনো প্রসেসর বাজারে আসার আগেই তাদের সিঙ্গেল-কোর ও মাল্টি-কোর পারফর্মেন্স বের হয়ে যায়। যেই প্রসেসরের দুইটিই ভাল, সেটিই কেনা উচিত। 

ক্লক স্পিড (Clock Speed) 

একটি প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কতটি মেশিন সাইকেল সম্পন্ন করতে পারে, সেই সংখ্যাটিকে বলে ক্লক স্পিড। আমরা ইতোমধ্যে মেশিন সাইকেল সম্পর্কে জেনেছি। র‍্যাম থেকে ইন্সট্রাকশন নিয়ে কন্ট্রোল ইউনিট যখন সেটিকে ডিকোড করে পাঠায় এবং অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট যখন এক্সিকিউট করে, সেই প্রক্রিয়াকেই বলে সাইকেল। আর বর্তমানে এমন সাইকেল প্রসেসর গুলো প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বার করতে পারে। 

বর্তমানে সকল প্রসেসরের সাথেই বেজ ক্লক (Base Clock) উল্লেখ করা থাকে। যেমন ২.৭ গিগা হার্টজ (Ghz), ৩.২ গিগা হার্টজ, ৩.৯ গিগা হার্টজ। অনেক আগে প্রসেসর গুলো এই ক্লক স্পিড দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে কত মিলিয়ন সাইকেল সম্পন্ন করতে পারবে সেটি বোঝাতো। কিন্তু বর্তমানে হিসাবটা হয় বিলিয়নে। অর্থাৎ ৩.২ গিগা হার্টজের একটি প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে ৩.২ বিলিয়ন সাইকেল সম্পন্ন করতে পারবে। যদিও শুধু ক্লক স্পিড দিয়েই প্রসেসর কেনার সিধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আগের জেনারেশনের অনেক প্রসেসর আছে যাদের ক্লক স্পিড বেশি কিন্তু নতুন জেনারেশনের প্রসেসরের সাথে কর্মদক্ষতায় পারবে না। তবে একই কোম্পানির একই জেনারেশনের প্রসেসর হলে বেশি ক্লক স্পিডের প্রসেসর ক্রয় করাটাই যুক্তিযুক্ত। 

ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory)

ক্যাশ মেমোরি হলো প্রসেসরের সাথে সংযুক্ত অত্যন্ত দ্রুত গতির কিছু মেমোরি যা প্রসেসরের বার বার ব্যবহার করা ডাটা গুলো সাময়িক ভাবে সংরক্ষিত রাখে। এর কার্যাবলি অনেকটাই রেজিস্টারের সাথে মিলে গেলেও, পুরোপুরি এক নয়। 

cache
সূত্রঃ গিকস ফর গিকস (Geeks for Geeks) 

কম্পিউটারের ডাটা ট্রান্সফারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি চারটি ধাপে বিভক্ত। চতুর্থ ধাপে রয়েছে সাধারণ বা সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস (Secondary Storage Device) যা আমরা হার্ড ড্রাইভ ও এসএসডি নামে চিনি। তৃতীয় ধাপে রয়েছে প্রাথমিক স্টোরেজ ডিভাইস বা র‍্যাম। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে এই ক্যাশ মেমোরি এবং প্রথম ধাপে রয়েছে রেজিস্টার। আমরা জানি, প্রসেসর র‍্যাম থেকে ডাটা গ্রহণ করে কাজ করে। কিন্তু এই র‍্যাম ও প্রসেসরের মধ্য মধ্যবর্তী হিসেবে কাজ করে এই ক্যাশ মেমোরি। যে সকল ডাটা প্রসেসর বার বার ব্যবহার করে থাকে, সেই সকল ডাটা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই ক্যাশ মেমোরিতে সংরক্ষিত থাকে। তবে এই ডাটা এর পরিমাণ হয় খুব কম। মাত্র কয়েক মেগা বাইট। কিন্তু ক্যাশ মেমোরি গুলো সরাসরি প্রসেসরের সাথে যুক্ত করা বিধায় অত্যন্ত দ্রুত গতির। ফলে প্রসেসরকে আর বার বার তথ্য খুঁজতে হয় না। এক্ষেত্রে ক্যাশ মেমোরিকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এল ১ (L1), এল ২(L2) এবং এল৩ (L3। এল ১ ক্যাশ মেমোরির আকার অত্যন্ত ছোট কিন্তু এর গতিও অসম্ভব বেশি। এল ২ এর আকার তুলনামূলক বেশি কিন্তু গতি কম। অপর দিকে এল ৩ ক্যাশ মেমোরির আকার অনেকটাই বেশি আবার গতিও অনেকটাই কম। তবে কম গতির হলেও এল ৩ ক্যাশ একটি সাধারণ ডির‍্যামের থেকে অত্যন্ত দ্বিগুণ গতিতে কাজ করতে পারে। 

প্রসেসরের ধরন 

উপরের যেই কয়টি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনেছেন, তার প্রতিটির ভিত্তিতেই প্রসেসর সমূহকে আলাদা আলাদা ধরনে ভাগ করা যায়। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে প্রসেসর সমূহকে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমনঃ 

আর্কিটেকচার (Architecture)

কম্পিউটারের আর্কিটেকচার সম্পর্কে বুঝতে চাইলে অসম্ভব জটিল আলোচনায় যেতে হবে। সেই জটিল আলোচনাকে এড়িয়ে সহজ করে বলতে চাইলে, কম্পিউটারের আর্কিটেকচারকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১৬ বিট আর্কিটেকচার, ৩২ বিট আর্কিটেকচার এবং ৬৪ বিট আর্কিটেকচার। ১৬বিট আর্কিটেকচার অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে, ৩২ বিট আর্কিটেকচার কম্পিউটারও এখন প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমানে সবাই ৬৪ বিট আর্কিটেকচার ব্যবহার করে থাকে। চলুন জানা যাক ৩২ বিট এবং ৬৪ বিট আর্কিটেকচারের প্রধান কিছু পার্থক্য। 

৩২ বিট ৬৪ বিট 
১। ৩২ বিট আর্কিটেকচারে প্রতিটি সংখ্যা বাইনারিতে ৩২ অঙ্কের হয়ে থাকে। ২। ৬৪ বিট আর্কিটেকচার প্রতিটি সংখ্যা বাইনারিতে ৬৪ অঙ্কের হয়ে থাকে। 
২। একই সময়ে এ ধরনের কম্পিউটার তুলনামূলক অনেক কম কাজ করতে পারে। ২। একই সময়ে এই ধরনের কম্পিউটারের কর্মদক্ষতা তুলনামূলক অনেক বেশি হয়। 
৩। ৩২ বিট আর্কিটেকচার কম্পিউটার বিলুপ্ত প্রায়। ৩। বর্তমানে সকলে ৬৪ বিট আর্কিটেকচারের কম্পিউটারই ব্যবহার করছে। 

কম্পিউটারের ধরন 

কম্পিউটারের ধরনের উপর নির্ভর করেও প্রসেসরের ধরন পরিবর্তিত হয়। ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ দুটিই কম্পিউটার। কিন্তু এদের প্রসেসরের ধরন আলাদা। 

  • মোবাইল প্রসেসরঃ ল্যাপটপের প্রসেসরের গুলোকে বলা হয়ে থাকে মোবাইল প্রসেসর। এসব প্রসেসর সমূহ তুলনামূলক অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং একই সাথে অনেক কম শক্তিশালী।
  • সাধারণ প্রসেসরঃ ডেস্কটপের প্রসেসর গুলোকে আলাদা করে কোনো নাম দেওয়া হয় নি। মূলত সাধারণ প্রসেসর বলতে ডেস্কটপের প্রসেসরকেই বোঝানো হয়।

কাজের ধরন

কাজের ধরনের উপর নির্ভর করেও প্রসেসরের নানা প্রকারভেদ আছে। যেমনঃ 

  • কনজ্যুমার গ্রেড প্রসেসর (Consume-grade Processor): সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা যে সব প্রসেসর কিনে থাকি। 
  • ওয়ার্কস্টেশন প্রসেসর (Workstation Processor): সার্বক্ষণিক অনেক ভারী কাজ করার জন্য যেই প্রসেসর ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ এএমডি থ্রেড্রিপার (AMD Threadripper)। 
  • সার্ভার প্রসেসর (Server Processor): সার্ভার কম্পিউটার পরিচালনার জন্য যে সকল প্রসেসর ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ ইন্টেল জিয়ন (Intel Xeon)।

বাংলাদেশে প্রসেসরের দাম 

বাংলাদেশে প্রসেসরের দাম সবসময় উঠা নামা করে তাই নিশ্চিত ভাবে দাম সম্পর্কে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। এছাড়াও অনেক পুরোনো প্রসেসরের দামও অনেক বেশি হয়ে থাকে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নিচে বর্তমান সময়ের কিছু জনপ্রিয় প্রসেসরের দাম যুক্ত করা হলো। 

ইন্টেল (Intel) প্রসেসরের দাম 

ইন্টেল প্রসেসরের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০ম জেনারেশন থেকে বর্তমানের ১৩শ জেনারেশন পর্যন্ত তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। 

প্রসেসর সিরিজ জেনারেশন দাম 
ইন্টেল কোর আই থ্রি (Intel Core i3) ১০ম ৮২০০-১২০০০ টাকা 
১১শআউট অফ স্টক 
১২শ১১২০০-১৩৩০০ টাকা 
১৩শ ১৪০০০-১৬৫০০ টাকা 
ইন্টেল কোর আই ফাইভ (Intel Core i5১০ম ১২৫০০-১৫৩০০ টাকা 
১১শ১৪৫০০-১৭০০০ টাকা 
১২শ১৮০০০-৩২৫০০ টাকা 
১৩শ ২৪০০০-৩৫০০০ টাকা 
ইন্টেল কোর আই সেভেন (Intel Core i7) ১০ম ২৭০০০-৩১৫০০ টাকা 
১১শ২৯৫০০ টাকা 
১২শ৩৫০০০-৪৩৫০০ টাকা 
১৩শ ৪৪৮০০-৪৭০০০ টাকা 
ইন্টেল কোর আই নাইন (Intel Core i9) ১২শ ৫৬৯০০-৭৩৫০০ টাকা 
১৩শ৬২৫০০-৬৯৫০০ টাকা 

এএমডি (AMD) প্রসেসরের দাম 

এএমডি প্রসেসরের ক্ষেত্রে শুধু মাত্র রাইজেন প্রসেসরের ৩০০০.৪০০০,৫০০০ ও ৭০০০ সিরিজ যুক্ত করা হয়েছে। 

প্রসেসর সিরিজ জেনারেশন দাম 
এএমডি রাইজেন থ্রি (AMD Ryzen 3) ৩০০০ সিরিজ ১২০০০ টাকা 
৪০০০ সিরিজ ১০৩০০ টাকা 
এএমডি রাইজেন ফাইভ (AMD Ryzen 5) ৩০০০ সিরিজ ১২০০০-১৩৫০০০ টাকা 
৪০০০ সিরিজ ১২০০০-১৩২০০ টাকা 
৫০০০ সিরিজ ১১৫০০-২০০০০ টাকা 
৭০০০ সিরিজ ৩০৫০০ টাকা 
এএমডি রাইজেন সেভেন  (AMD Ryzen 7) ৩০০০ সিরিজ ২০০০০ টাকা 
৫০০০ সিরিজ ২০০০০-৪১৫০০ টাকা 
৭০০০ সিরিজ ৪০৫০০-৫৪৫০০ টাকা 
এএমডি রাইজেন নাইন (AMD Ryzen 9) ৩০০০ সিরিজ ৪৩০০০ টাকা 
৫০০০ সিরিজ ৪০৫০০-৬২৫০০ টাকা 
৭০০০ সিরিজ ৫২০০০-৬৯৮০০ টাকা 
এএমডি থ্রেড্রিপার প্রো (AMD Threadripper Pro)৫০০০ সিরিজ ২৭২০০০-৬৮৫০০০ টাকা 

বিঃ দ্রঃ সকল দাম লেখার সমসাময়িক এবং জনপ্রিয় রিটেল ওয়েবসাইট স্টারটেকের অফিসিয়াল সাইট থেকে নেওয়া হয়েছে। 

শেষকথা 

আপনি যদি লেখাটির শেষ অবধি পড়েই ফেলেন, তাহলে আশা করা যায় প্রসেসর সম্পর্কে আপনার জ্ঞান অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রসেসর একটি কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এই প্রসেসর কেনার আগে তাই এ সম্পর্কে জানাটা অবশ্যই জরুরী। আশা করি এই লেখাটি পড়ার মাধ্যমে আপনাদের প্রসেসর ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে। 

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১। সিপিইউ কোন ধরনের ডিভাইস? 

উত্তরঃ সিপিইউ বা প্রসেসর একটি প্রসেসিং ডিভাইস। অনেকে এটিকে আউটপুট ইনপুট উভয় ধরনের ডিভাইস বলে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষ এদের আউটপুট ও ইনপুট উভয়ের ক্ষমতা থাকলেও একে বলা হয় প্রসেসিং ডিভাইস। 

২। ওভারক্লকিং (Overclocking কি? 

উত্তরঃ কম্পিউটারের প্রসেসরে বিদ্যুতের যোগান বাড়িয়ে দিয়ে প্রসেসরকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লক স্পিডে চালানোর প্রক্রিয়াকে বলে ওভারক্লকিং। 

৩। গেমিং এর জন্য সিপিইউ এর গুরুত্ব কেমন? 

উত্তরঃ কম্পিউটারের সকল কাজের জন্যই সিপিইউ এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে গেমিং এর ক্ষেত্রে কথাটি একটু বেশি প্রযোজ্য। কারণ বেশির ভাগ গেমসই সমসাময়িক শক্তিশালী প্রসেসর গুলোর কথা মাথায় রেখে বানানো হয়। 

৪। নিজের প্রসেসরের পারফর্মেন্স মাপার উপায় কি? 

উত্তরঃ সিঙ্গেল-কোর এবং মাল্টি-কোর, দুই ধরনের পারফর্মেন্স মাপার জন্যই মাইক্রোসফট স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারেন সিনেবেঞ্চ (Cinebench) নামক সফটওয়্যারটি। 

তথ্যসূত্র 

১। রেড হ্যাট (Red Hat) 

২। টিউটোরিয়ালস পয়েন্ট (Tutorials Point)

৩। দ্যা ক্রেজি প্রোগ্রামার (The Crazy Programmer)  

৪। এইচ পি (HP)

৫। লিকুইড ওয়েব (Liquid Web)  

৬। ইন্টেল (Intel)

৭। টেক টার্গেট (Techtarget) 

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Back to top button