অনলাইনে আয়ফ্রিল্যান্সিংসিপিএ মার্কেটিং

সিপিএ মার্কেটিং কি? সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

সিপিএ মার্কেটিং, যত দিন যাচ্ছে ততই এই শব্দ দু’টি ডিজিটাল মার্কেটিং এর দুনিয়ায় আরো বেশি পরিচিত হয়ে উঠছে। মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে যত ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে তার সব কিছুই ডিজিটাল মার্কেটিং এর অর্ন্তভুক্ত। আর সিপিএ মার্কেটিং এই ডিজিটাল মার্কেটিং এরই একটি বিশেষ কৌশল। বর্তমানে অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের অনেকেই আবার কাজ করছেন সিপিএ মার্কেটিং এর সাথে। অনেকেই আবার সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে চাইছেন। হয়তোবা কেউ নিছক এ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারনা পেতে চাচ্ছেন। সিপিএ মার্কেটিং কী, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে করা যায় সিপিএ মার্কেটিং এমন নানা প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের লেখাটি। 

সূচিপত্রঃ

সিপিএ মার্কেটিং কী?

সিপিএ মার্কেটিং কি তা জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে সিপিএ এর পূর্ণরূপ। সিপিএ – কস্ট পার অ্যাকশন (CPA – Cost Per Action)। সিপিএ মার্কেটিং হলো এমন এক ধরনের প্রক্রিয়া যেখানে পণ্য বা সেবা উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান আরেকজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ওই ব্যাক্তি বিজ্ঞাপন করে যদি তার দর্শকদের দ্বারা পণ্য ক্রয় করাতে পারে অথবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করাতে পারে তবেই সে সম্মানী অর্থাৎ টাকা পায়। এই প্রক্রিয়াটিই হলো সিপিএ মার্কেটিং। 

সিপিএ মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

সিপিএ মার্কেটিং কী তা ইতোমধ্যে জেনেছেন। লেখার এ অংশে জানাবো সিপিএ মার্কেটিং ঠিক কিভাবে কাজ করে। সিপিএ মার্কেটিং মডেলে মূলত দুইটি পক্ষ থাকে। প্রথম পক্ষ হলো কোনো পণ্য বা সেবার উৎপাদক। দ্বিতীয় পক্ষ হলো সেই পণ্যের প্রচারক। কারণ ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারেই সকল পণ্যের বিজ্ঞাপন একটি আবশ্যক প্রক্রিয়া। কোনো পণ্য বিক্রয় করতে চাইলে অবশ্যই তা সম্পর্কে ক্রেতাকে অবগত করতে হবে। আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই ক্রেতারা কোনো পণ্য অথবা সেবা সম্পর্কে অবগত হবেন।

সিপিএ মার্কেটিং যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটা অংশ তাই এই মার্কেটিং প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ডিজিটাল মাধ্যমে হয়। ধরা যাক কোনো ইউটিউবারের ১০ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে। একটি টি-শার্ট কোম্পানি তাদের টি-শার্টের বিজ্ঞাপনটি বুস্ট (Boost) করার পাশাপাশি চাইলে এই ইউটিউবারের সহায়তাও নিতে পারে। এক্ষেত্রে টি-শার্ট বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলে সরাসরি বিজ্ঞাপন না দিয়ে ইউটিউবারের সাহায্যে বিজ্ঞাপন দেবে। ইউটিউবার তার ভিডিওতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টি-শার্ট সম্পর্কে বলতে পারেন বা অন্য যেকোনো উপায় ক্রেতাদের এ সম্পর্কে আকৃষ্ট করতে পারেন। এতে করে তার দর্শকেরা তার মাধ্যমে টি-শার্টগুলো সম্পর্কে জানবে এবং হয়তো কিনতে উদ্ভুদ্ধ হবে। তবে সিপিএ মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো শুধু পণ্য বিক্রি করাটাই এর লক্ষ্য নয়। 

সিপিএ মার্কেটিং মূলত তিন ধরনের লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

  • পণ্য বিক্রয়
  • সেবা বিক্রয় 
  • দর্শক বা ক্রেতাকে দিয়ে কোনো কাজ করানো

প্রথমত সিপিএ মার্কেটিং এর অনেক বড় একটি অংশ জুড়েই রয়েছে পণ্য বিক্রয়। আপনি যদি কোনো পণ্যের প্রচারক হন এবং পণ্য উৎপাদনকারীর সাথে যদি আপনার এমন চুক্তি থাকে যে শুধু পণ্য বিক্রি হলেই আপনি টাকা পাবেন তাহলে পণ্য বিক্রয় করাটাই হবে আপনার মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ একজন ইউটিউবার অথবা একজন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারের (Social Influencer) এর কন্টেন্ট (Content) দেখে দর্শকেরা যতগুলা পণ্য কিনবে, সেই ইউটিউবার ততগুলো পণ্যের জন্যই কমিশনের ভিত্তিতে আয় করতে পারবে

দ্বিতীয় লক্ষ্যটি হলো সেবা বিক্রয়। এটি অনেকটাই পণ্য বিক্রয়ের মতই। শুধু এক্ষেত্রে প্রচারকের কথায় প্রচারিত হয়ে তার দর্শক অথবা শ্রোতারা কোনো সেবা কিনছেন। সেটি হতে পারে যেকোনো সেবা, হতে পারে অনলাইনে কোনো কিছু শেখার কোর্স, হতে পারে ইমেইল মার্কেটিং, হতে পারে ওয়েবসাইট বিল্ডিং।

সিপিএ মার্কেটিং তৃতীয় যেই লক্ষ্যটি আছে সেটিই মূলত এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে সিপিএ মার্কেটিং এর প্রধান পার্থক্য গড়ে দেয়। আমরা প্রথমেই জেনেছি যে সিপিএ অর্থ কস্ট পার অ্যাকশন। অর্থাৎ সিপিএ মডেলে টাকা পেতে হলে আপনাকে আপনার দর্শকদের দ্বারা কিছু করাতে হবে। সেটি হতে পারে যেকোনো কিছু। যেমন একজন প্রচারকের কথায় কেউ যদি একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, সেটিও একটি কাজ। এর মাধ্যমে সেই ওয়েবসাইটের মালিক নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিউ পাচ্ছেন। একই ভাবে কেউ যদি কোনো পরিসংখ্যানে অংশগ্রহণ করে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয় তাও একটি কাজ। এভাবেই কোনো চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করা, কোনো নিউজটেলারে সাবস্ক্রাইব করা, কোনো স্থানে নিজের মত প্রকাশ করা এগুলো সবই সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কাজ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পার্থক্য

অনেকেই সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভেতর গুলিয়ে ফেলেন। কারণ এই দুটিই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাছাকাছি দুটি পন্থা। নিচের বক্সের সাহায্যে এদের পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলোঃ

তুলনার ধরন সিপিএ মার্কেটিংএফিলিয়েট মার্কেটিং 
সংজ্ঞা সিপিএ মার্কটিং হলো এমন একটি বিজ্ঞাপনের মডেল যেখানে কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন হলে টাকা প্রদান করা হয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি বিজ্ঞাপনের মডেল যেখানে পণ্য বিক্রয় হলে টাকা প্রদান করা হয়। 
পণ্য বিক্রিসিপিএ মার্কেটিং সবসময় পণ্য বিক্রির ওপর নির্ভরশীল নয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং পুরোটাই পণ্য বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। 
অর্থ প্রদান সিপিএ মার্কেটিং এ গ্রাহকদের দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করালেই প্রচারক টাকা পান। এফিলিয়েট মার্কেটিং এ গ্রাহকদের একটি পণ্য বা সেবা কিনতে হয়। তাহলেই শুধু প্রচারক টাকা পান। 
অর্থের পরিমাণসিপিএ মার্কেটিং এ প্রতি কাজের জন্য পারিশ্রমিকের পরিমাণ সাধারণত এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে কম। এফিলিয়েট মার্কেটিং এ পণ্য বিক্রি হলে তবেই টাকা দেওয়া হয় বিধায় এর পারিশ্রমিকের পরিমাণও বেশি। 

অর্থাৎ সহজ কথায় সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পার্থক্য মূলত টাকা পাওয়ার শর্ততে। সিপিএ মার্কেটিং এ গ্রাহক দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট কাজ করালেই বিজ্ঞাপনদাতা প্রচারককে টাকা দেন। কিন্তু তা হতে পারে যেকোনো কাজ। এর মধ্যে পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে সাধারণ সাবস্ক্রাইব করাটাও অর্ন্তভুক্ত। আর কোন কাজের জন্য কত টাকা দেওয়া হবে তা ঠিক হয় কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সিপিএ মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেক ছোটখাটো কাজও করিয়ে নেওয়া হয় বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এতে পারিশ্রমিকের হার কম থাকে। অপরদিকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজই হলো কোনো পণ্য বিক্রয় করা। আর পণ্য বিক্রয় হলেই যেহেতু কমিশন দেওয়া হয় তাই এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কমিশনের হার কম হলেও পরিমাণটা বেশি।

সিপিএ মার্কেটিং এর উৎসসমূহ 

ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন সিপিএ মার্কেটিং কী ও তা কিভাবে কাজ করে। এখন কেউ যদি সিপিএ মার্কেটিং এর সাহায্যে কোনো কাজ করাতে চান অথবা কেউ যদি সিপিএ মার্কেটিং করতে চান তাহলে কি করণীয়। সিপিএ মার্কেটিং করতে চাইলে প্রথমেই এর উৎসগুলো বের করতে হবে। সাধারণত তিন ধরনের উৎস থেকে সিপিএ মার্কেটিং হয়ে থাকে।

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 
  • ইউটিউব
  • ব্লগ সাইট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সিপিএ মার্কেটিং এর একটি বড় উৎস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে ফেসবুক এর। বর্তমানে অনেকেই ফেসবুক পেজে বিভিন্ন পণ্যের অথবা সাবস্ক্রিপশনের লিংক দিয়ে সিপিএ মার্কেটিং এ অংশগ্রহণ করছেন। 

ইউটিউব

ইউটিউব সিপিএ মার্কেটিং এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং দুটোরই অন্যতম মাধ্যম। সিপিএ মার্কেটিং সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ইউটিউবেই। কারণ এখন অধিকাংশ জনপ্রিয় ইউটিউবার তাদের ভিডিওতে খানিক্ষণের জন্য বিজ্ঞাপনধর্মী কথা বলে। এসব ক্ষেত্রে তাদের ভিডিওর ডেস্ক্রিপশন বক্সে (Description Box) ঐ সম্পর্কিত লিংক দেওয়া থেকে। সেসব লিংক থেকে দর্শকরা হয়তো কোনো অ্যাপ ইন্সটল করেন অথবা কিছুতে সাবস্ক্রাইব করেন। এগুলো সবই সিপিএ মার্কেটিং এর উদাহরণ। 

ব্লগ সাইট

সিপিএ মার্কেটিং এর আরেকটি উৎস হলো ব্লগ সাইট। বর্তমানে মানুষ ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করলেও বেশ বিশাল সংখ্যক মানুষ এখনো নানা কিছু বুঝতে ব্লগের দ্বারস্থ হন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্লগ সাইটগুলো সাধারণ বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো লিংক কৌশলে জুড়ে দিয়ে করে নিতে পারেন সিপিএ মার্কেটিং। 

কিভাবে করবেন সিপিএ মার্কেটিং?

যারা সিপিএ মার্কেটিং এ সময় ও শ্রম দেওয়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্য লেখার এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিপিএ মার্কেটিং করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ হওয়ায় প্রায় যে কেউই এতে অংশ নিতে পারে। সিপিএ মার্কেটিং করতে চাইলে প্রথমেই আপনার একটি প্ল্যাটফর্ম (Platform) লাগবে। প্ল্যাটফর্ম বলতে মূলত বোঝানো হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং এর উৎসগুলোর কথাই। অর্থাৎ সিপিএ মার্কেটিং এ জড়িত হতে হলে আপনাকে মোটামুটি অনেক মানুষ নিয়মিত দেখে এমন একটি পেজ, চ্যানেল অথবা সাইটের মালিক হতে হবে। এক্ষেত্রে সত্যি বলতে শুধু সিপিএ মার্কেটিং করার জন্যই আলাদা করে একটি পেজ বা চ্যানেল দাড়া করানো খুব একটা লাভজনক নয়। তবে অন্য উদ্দেশ্যের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটিকে এমন ভাবে দাড়া করাতে পারেন যাতে সেটি সিপিএ মার্কেটিং এর জন্য আদর্শ হয়।

আপনি যদি মোটামুটি পরিচিত কন্টেন্ট (Content) নির্মাতা হয়ে থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার কন্টেন্টগুলোতে সিপিএ মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। চাইলে দেশি অথবা আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেও করা যেতে পারে সিপিএ মার্কেটিং। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে করতে চাইলে মূলত ইংরেজি ভাষার প্ল্যাটফর্মই হতে হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একটি সুবিধা আছে। সেটি হলো বৈশ্বিক পর্যায়ে বেশ কিছু সিপিএ মার্কেটিং নেটওয়ার্ক আছে। নানা দেশের গ্রাহকেরা সেসব নেটওয়ার্ক থেকে সিপিএ মার্কেটারদের খুঁজে নেন। তেমন কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারলে এবং ক্রমাগত ভাল সেবা দিলে গ্রাহকের অভাব হবে না। কিছু আন্তর্জাতিক সিপিএ নেটওয়ার্কঃ

  • ম্যাক্সবাউন্টি (MaxBounty)
  • প্যান্থেরা নেটওয়ার্ক (Panthera Network
  • ক্লিকবুথ (Clickbooth
  • পিয়ারফ্লাই (PeerFly
  • অ্যাডমিটাড (Admitad

তবে দেশীয় অঙ্গনে এ ধরনের সিপিএ নেটওয়ার্ক অনুপস্থিত। তাই বাংলা ভাষার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুললে বিজ্ঞাপনের জন্য আপনার সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সাথেই যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। 

সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কিত টিপস

যেহেতু আজকাল অনেকেই সিপিএ মার্কেটিং করছে তাই সফল হতে চাইলে হওয়া চাই ব্যাতিক্রমী। সিপিএ মার্কেটিং এ সফল হতে চাইলে একটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো নিজের ক্ষেত্র ঠিক করা। যেমন বাংলাদেশে অনেক টেক ইউটিউবার (Tech Youtuber) আছেন। তারা মূলত প্রযুক্তি পণ্য নিয়েই ভিডিও বানিয়ে থাকেন। এখন তাদের চ্যানেলে স্বভাবতই প্রযুক্তি পণ্যের বিজ্ঞাপন করলেই তা বেশি ফলপ্রসু হবে। কারণ প্রযুক্তি পণ্যের ব্যাপারে ঐ ইউটিউবারের প্রতি দর্শকদের আগে থেকেই আস্থার যায়গা তৈরি হয়েছে। এটি একটি সহজ উদাহরণ হলেও এর মূল বক্তব্য, আপনি যেই বিষয়ে কন্টেন্ট বানিয়ে অভ্যস্ত সেই বিষয়টিতেই সিপিএ মার্কেটিং শুরু করুন। কারণ যেকোনো প্রকার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে দর্শকের আস্থাই পারবে আপনাকে সাফল্য এনে দিতে।

দ্বিতীয় যেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হয় সেটি হলো, বুস্টিং (Boosting) এর খরচ। সত্যি বলতে অনেক সিপিএ মার্কেটার নিজেদের পসার বৃদ্ধি করতে তাদের কন্টেন্টগুলো বুস্ট করে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এটি লাভজনক কোনো পন্থা নয়। কারণ সিপিএ মার্কেটিং করে আপনি যেই অর্থ আয় করবেন তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হবে বুস্ট করতে। কখনো কখনো হাতে গোণা কিছু কন্টেন্ট কৌশলগত কারণে বুস্ট করা যায়। কিন্তু সব সময়ই খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত বুস্টিং এর কারণে যেন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি না হয়। 

সিপিএ মার্কেটিং এর সুবিধাসমূহ 

সিপিএ মার্কেটিং এর অনেকগুলো দিক সম্পর্কে জানা হলেও তার সবই মূলত একজন প্রচারকারীর দিক থেকে। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা অর্থাৎ যিনি সিপিএ মার্কেটিং ব্যবহার করে তার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেবেন, তার দিক থেকেও এর সুবিধাগুলো আলোচনা করা উচিত। এক কথায় বলতে চাইলে, সাধারণ বিজ্ঞাপনের চেয়ে সিপিএ মার্কেটিং অনেক লাভজনক একটি মাধ্যম। মূলত ৩টি ভাগে এর সুবিধাগুলো বর্ণনা করা হলোঃ

ভিন্নধর্মী বিজ্ঞাপন

সিপিএ মার্কেটিং এর অন্যতম একটি দিক হলো ভিন্নধর্মী বিজ্ঞাপন। যেহেতু একেকজন কন্টেন্ট নির্মাতা বিজ্ঞাপনের দায়িত্বটি দেন, তাই স্বভাবতই তিনি তার কন্টেন্টের সাথে মিল রেখে সৃজনশীল কিছু তৈরি করেন। সাধারণ গৎবাঁধা বিজ্ঞাপন থেকে এ ধরনের সৃজনশীল বিজ্ঞাপন গ্রাহকদের অনেকটাই বেশি আকৃষ্ট করে। 

স্বল্প খরচ

সিপিএ মার্কেটিং আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ বিজ্ঞাপন এর মত বা বেশি খরুচে লাগলেও বাস্তবে অনেক স্বল্প খরচের। কারণ সাধারণ বিজ্ঞাপনে আপনার পণ্যটি ক্রেতা কিনবে এমন কোনোই নিশ্চয়তা থাকে না। পণ্য কেনা হোক কিংবা অ্যাপ ডাউনলোড হোক কিংবা যেই কাজটিই হোক, পুরো ব্যাপারটিই থাকে অনিশ্চিত। এক্ষেত্রে হয়তো ১০০ জন বিজ্ঞাপনটি দেখলে ৫ জন পণ্য কেনে। পণ্য ও বিজ্ঞাপনের ধরনের ওপর নির্ভর করে এই হার বাড়তে কমতে পারে। কিন্তু সিপিএ মার্কেটিং এ এমন অনিশ্চিয়তা নেই। এক্ষেত্রে আপনি তখনই প্রচারকারীকে টাকা দিচ্ছেন যখন আপনার পণ্য বা সেবাটি বিক্রয় হচ্ছে। অথবা গ্রাহক আপনার কাঙ্খিত কোনো কাজ করছে। অর্থাৎ কাজ না হলে আপনি একটি টাকাও দেবেন না। আর এখানেই সিপিএ মার্কেটিং এর স্বার্থকতা। আর এতে করেই সব মিলিয়ে এর খরচ অনেক কমে যায়। 

সহজ পদ্ধতি 

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সিপিএ মার্কেটিং খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। আপনার কাজ শুধু প্রচারকারীকে প্রচারের দায়িত্ব ও কিছু নীতিমালা দিয়ে দেওয়া। বাকি কাজ প্রচারকারী নিজেই করবে। এক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত কোনো শ্রম দিতে হবে না। কোন প্রচারকারী কতটুকু শ্রম দিচ্ছে বা কতটুকু সৃজনশীল হচ্ছে সেসব সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার দায়িত্ব একজন প্রচারকারী আপনার কতটুকু কাজ করে দিচ্ছে বা ভবিষ্যতে দিতে পারবে সে বিষয়ে  লক্ষ্য রাখা। 

শেষকথা

পুরো লেখাটিতেই সিপিএ মার্কেটিং এর প্রায় সকল দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সিপিএ মার্কেটিং করতে আগ্রহী এমন কেউ যেমন এ সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবে ঠিক তেমনি কোনো উদ্যোক্তাও এর সুবিধাগুলো বুঝতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বে প্রায় সব কিছুই বহুমুখী। আর তাই কন্টেন্ট তৈরির পাশাপাশি সিপিএ মার্কেটিং করে আরেকটু বেশি লাভের মুখ দেখতে পারেন আপনিও। 

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১। সিপিএ মার্কেটিং বেশি লাভজনক নাকি এফিলিয়েট মার্কেটিং?

উত্তরঃ এই দুইটিই ডিজিটাল মার্কেটিং প্রায় কাছাকাছি দুটি রুপ। সিপিএ মার্কেটিং এ কমিশনের পরিমাণ কম হলেও কাজগুলো ছোট বিধায় বেশি কমিশনের হার বেশি। অপরদিকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কমিশনের পরিমাণ বেশি হলেও হার কম। কোনটি বেশি লাভজনক তা নির্ভর করবে প্রচারকের প্রচার মাধ্যম ও ধরনের ওপর। 

২। বাংলা ভাষায় সিপিএ নেটওয়ার্ক কবে তৈরি হবে?  

উত্তরঃ এখন অবধি এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। 

৩। সিপিএ মার্কেটিং করে মাসিক কত টাকা আয় করা যায়?

উত্তরঃ এটি পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনার প্রচার মাধ্যম কত বড় এবং আপনি কতটা দক্ষতার সাথে দর্শকদের প্রভাবিত করতে পারছেন তার ওপর। 

৪। সিপিএ মার্কেটিং করতে কি কম্পিউটারের প্রয়োজন?

উত্তরঃ আপনার কন্টেন্ট যদি আপনি মোবাইল দিয়ে তৈরি করতে পারেন তাহলে আলাদা করে কম্পিউটারের দরকার নেই। 

৫। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কিভাবে বুঝবো কোন গ্রাহক সিপিএ মার্কেটিং এর মাধ্যমে এসেছেন?

উত্তরঃ প্রচারকারীর লিংকে ক্লিক করে আসলে এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু থাকলে কোন গ্রাহক কোথা থেকে এসেছে তা সহজেই বুঝতে পারবেন। গ্রাহক কাজ সম্পন্ন করলে অথবা পণ্য কিনলে তাও বুঝতে পারবেন। কিন্তু প্রচারকারীর মাধ্যমে জেনে পরে গ্রাহক আলাদা ভাবে সাইটে প্রবেশ করলে সেক্ষেত্রে বোঝার কোনো উপায় নেই।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button