বিকাশমোবাইল ব্যাংকিং

ভুলবশত বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়

বিকাশের জনপ্রিয়তার ও অনেক ব্যবহারকারী থাকায় বিকাশের বিভিন্ন সমস্যার ভুক্তভোগীও বাড়ছে। বিকাশের তেমনি একটি সাধারণ সমস্যা হচ্ছে ভুল বসত বিকাশ একাউন্ট বন্ধ (disable) হয়ে যাওয়া বা বিকাশের পিন ব্লক হয়ে যাওয়া। বিকাশ তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকায় কোন একাউন্টে কোন ধরনের বিপজ্জনক ও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে এরূপ ঘটনা ঘটলে বিকাশ একাউন্টটি অতি দ্রুত বন্ধ করে দেয়। এটা সাময়িকভাবে কিছু অসুবিধা সৃষ্টি করলেও সামগ্রিক ভাবে অনেক বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়া বলতে বোঝায় যে, আপনি আপনার যে একাউন্ট থেকে লেনদেন করতে চাইছেন তা এখন বন্ধ আছে আপনার জন্য। 

সূচিপত্রঃ

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার কারন

পূর্বের লেখাটিতে আমরা দেখিয়েছি কিভাবে আপনারা বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করবেন, তবে অনেক সময় দেখা যায় অনিচ্ছাকৃতভাবেও একাউন্টটি বন্ধ হয়ে যায়। তাই বিকাশ একাউন্ট খোলার পরে যদি ভুল করে একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় বা লক হয়ে যায় তাহলে নিচের দেওয়া নিয়মে আপনার বিকাশ একাউন্টটি উদ্ধার করতে পারবেন।

তবে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক বিকাশ একাউন্ট বন্ধ বা লক হওয়ার কিছু কারনঃ 

  • বারবার ভুল পিন দিলে

বিকাশ একাউন্টে ব্যালেন্স দেখতে, অন্য কোন ফোন নম্বরে টাকা পাঠাতে বা রিচার্জ করার সময় বারবার ভুল পিন দিলে বিকাশ থেকে আপনার একাউন্টটি নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ করে দেয়া হবে। পিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময়ই আপনাকে বিকাশ থেকে সর্বোচ্চ ৩টি সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ আপনি পরপর ২ বার ভুল পিন দিতে পারবেন। ২ বার ভুল পিন দেওয়ার পর যদি তৃতীয় বার আপনি ভুল পিন দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

  • একই ফোন নম্বরে খুব কম সময়ের মাঝে বারবার রিচার্জ করলে

আমাদের অনেকেই মোবাইল রিচার্জ করার কাজটি প্রায়ই সময় ও শ্রম বাঁচাতে বিকাশ ব্যবহার করে করতে পছন্দ করি। কিন্তু একই ভাবে চাইলে কেউ টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। আবার কখনো ভুল বসত একবার রিচার্জের পরে একই নম্বরে আমরা রিচার্জ করি। এসব কারণে একই ফোন নম্বরে কম সময়ে বারবার মোবাইল রিচার্জ করলে বিকাশ থেকে একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে বিকাশের সময়সীমা হচ্ছে ১৫ মিনিট। অর্থাৎ ১৫ মিনিটের মাঝে একই ফোন নম্বরে আপনি দুইবার টাকা রিচার্জ করতে পারবেন না। করলে তার ফলাফল হিসাবে বিকাশ থেকে আপনার একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়েছে সেটি বোঝার উপায়

বিকাশ উপরে উল্লেখিত কারণ গুলো ঘটলে ব্যবহারকারীর একাউন্ট বন্ধ করে তার নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করে। একটি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ (disable) হলে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ (disable) করা হয়েছে। যেমন:

বিকাশ অ্যাপে লগইন করতে পারবেন না

আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে আপনি একাউন্ট সচল করে নতুন পিন না দেয়া পর্যন্ত বিকাশ অ্যাপে লগইন করতে পারবেন না।

বিকাশ ব্যবহার করে টাকা লেনদেন এ সমস্যা হবে

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে আপনি আপনার একাউন্ট ব্যবহার করে কাউকে টাকা পাঠাতে পারবেন না। যদিও এক্ষেত্রে আপনার একাউন্টে কেউ টাকা পাঠাতে চাইলে আপনি নিজের বন্ধ হওয়া বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করেই টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিকাশের ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন না

আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে আপনি আপনার একাউন্টে কত টাকা ব্যালেন্স আছে তা দেখতে পারবেন না।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়ঃ

কি করবেন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে?

আপনি যখন দেখবেন যে আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করা হয়েছে, তখন আপনাকে দ্রুত একাউন্টটি চালু করতে হবে। এ কাজ আপনি চাইলে বাসায় বসেই করতে পারেন। বেশ কিছু ধাপ অনুসরণ করলে আপনি সহজেই একাউন্টটি চালু করতে পারবেন।

১) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যোগাড় করুন

একাউন্টটি ঠিক করতে হলে আপনার একাউন্টটি খুলতে যে এনআইডি (NID) কার্ডটি ব্যবহার করা হয়েছিলো সেটি প্রয়োজন হবে।

২) প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করুন

বিকাশ একাউন্টটি ঠিক করার সময় বিকাশের প্রতিনিধি আপনার কাছে কিছু তথ্য চাইতে পারে। যেমন: আপনার নাম, আপনার মায়ের নাম, পূর্ববর্তী কয়েকটি লেনদেনের তথ্য, আপনার বিকাশ একাউন্টে বর্তমানে কত টাকা আছে ইত্যাদি। বিকাশ একাউন্ট চালু করার জন্য আপনার এসব তথ্য যোগাড় করে রাখতে হবে আগেই।

৩) বিকাশ হেল্পলাইনে কল করুন

সকল কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে বিকাশ হেল্পলাইন, ১৬২৪৭ এ কল দিন। কলটি কোনো বিকাশের প্রতিনিধি গ্রহণ করলে তাকে আপনার সমস্যা খুলে বলুন। এরপর তারা আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবে, সেগুলোর যথাযথ উত্তর দিন। পূর্ববর্তী ধাপের কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে থাকলে এক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। প্রশ্নের উত্তর সঠিক ভাবে দেওয়ার পর তারা আপনাকে আপনার বিকাশের নতুন পিন নম্বর দিতে বলবে। নতুন পিন দেওয়ার পরেই আপনার একাউন্ট চালু হয়ে যাবে। এরপর থেকে আপনি নতুন পিন ব্যবহার করে আগের মতোই বিকাশ ব্যবহার করতে পারবেন।

শেষকথা

নিরাপত্তার খাতিরে বিকাশ সবসময়ই যথাযথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। তাই যেকোনো সময় আপনার একাউন্ট ও আপনার অর্থের নিরাপত্তার জন্যই বিকাশ আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে। এরকম পরিস্থিতিতে উপরের পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে পুনরায় তা চালু করতে পারবেন।

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

একাউন্ট পুনরায় সচল করার কাজটি কি বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়েও করা যাবে?

উত্তরঃ অবশ্যই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্যাদি নিয়ে আপনি বিকাশের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গেলেও একই ফল পাবেন।

একাউন্টের বর্তমান ব্যালেন্স না জানা থাকলে কি করবো?

উত্তরঃ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে বা পিন লক হলে সাধারণত একাউন্টের ব্যালেন্স দেখা যায় না। তাই অনেকেই বিকাশের প্রতিনিধিকে একাউন্ট ব্যালেন্স জানাতে অপারগ হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্টে কত টাকা আছে তা না জানলে বিকাশের প্রতিনিধিকে ব্যাপারটা খুলে বলুন। তারা তখন অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবে।

যে এনআইডি (NID) কার্ড ব্যবহার করে একাউন্টটি খোলা হয়েছিলো, সেটি সাথে না থাকলে কি একাউন্ট সচল করতে পারবো?

উত্তরঃ এখানে আপনাকে মূলত এনআইডি (NID) নং সরবরাহ করতে বলবে। আপনার কাছে কার্ডটি না থাকলেও আপনি চাইলে শুধুমাত্র এনআইডি নং জেনে নিয়েও একাউন্ট সচল করতে পারবেন।

বিকাশ হেল্পলাইনে কল করলে তা ব্যাস্ত আছে দেখায়, এক্ষেত্রে কি করবো?

উত্তরঃ বিকাশ দেশের সবচাইতে বেশী ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এই কারণে তাদের হেল্পলাইনে ট্রাফিক থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে অপেক্ষা করতে পারেন। অথবা সরাসরি বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button