উন্নয়নটেকনোলজিবাংলাদেশ

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২২

নিয়মিত ট্রেন যাত্রীরা প্রায় সকলেই জানেন যে এত বছর ট্রেনের অনলাইনে টিকেট ক্রয়ের সেবা সিএনএস (CNS) দিয়ে আসলেও এখন থেকে তা দেবে সহজ.কম (Shohoz.com)। দীর্ঘকাল সিএনএস সেবা দিয়ে আসলেও কম মূল্যে সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই টেন্ডার জিতে নেয় সহজ। ২০ মার্চ ২০২২ থেকে ২৫ মার্চ ২০২২ অবধি বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইনে টিকেট বিক্রির সেবার বন্ধ থাকলেও ২৬ মার্চ থেকেই আবার শুরু হয়ে গেছে অনলাইন টিকেট সেবা। এক্ষেত্রে আগের মতো প্রায় একই রকম পদ্ধতিতেই সেবা নিতে পারবেন গ্রাহকেরা। কিন্তু তবুও নতুন সাইটে, নতুন নিয়মে কিভাবে ট্রেনের টিকেট কাটবেন তা নিয়ে অনেকের মনে রয়েছে সংশয়। আর সেই সংশয় দূর করতেই আজকের এই লেখাটি।

এই লেখার প্রথম অংশে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার পরবর্তী অংশে রয়েছে  ট্রেনের টিকেট ফেরত দেওয়ার নিয়ম সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী। উল্লেখ্য যে আগের রেলসেবা অ্যাপটির মতো ‘সহজ’ এখনো অনলাইনে ট্রেনের টিকেটের জন্য কোনো অ্যাপ চালু করে নি।

সূচিপত্রঃ

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার সর্বশেষ নিয়ম

ধাপ-১ঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

ওয়েবসাইটের সাহায্যে ট্রেনের টিকেট কাটতে প্রথমেই যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন থেকে ‘e ticket railway’ লিখে সার্চ করুন। তাহলেই কাঙ্খিত সাইটটি দেখতে পাওয়ার কথা। এছাড়াও সরাসরি Bangladesh Railway E-Ticketing Service লিংকে ক্লিক করে চলে যেতে পারেন অনলাইনে টিকেট বিক্রির সাইটে। সাইটে ঢোকার পরেই আপনারা নিচের চিত্রের মতো একটি সুন্দর হোমপেজ দেখতে পাবেন।বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ১

ধাপ-২ঃ একাউন্ট খুলুন

যেহেতু এই সাইটটি নতুন চালু করা হয়েছে তাই সকলেই এখন সাইটটির নতুন ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ পূর্বের সিএনএস বিডির সাইটে একাউন্ট খোলা থাকলেও লাভ হবে না। এই সাইটে নতুন করেই একাউন্ট খুলতে হবে। উল্লেখ্য যে এই সাইটে একাউন্ট খোলার কাজটি মাত্র একবারই করতে হবে। চলুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সাইটটিতে একাউন্ট খুলতে কোন কোন তথ্যের প্রয়োজন হবে। 

  • পূর্ণ নাম 
  • ইমেইল
  • মোবাইল নম্বর 
  • পরিচিতি নম্বর বা আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (Identification Number) 
  • পোস্ট কোড
  • ঠিকানা 

ধাপ-২.১ঃ তথ্য প্রদান করুন

রেইলওয়ে ই-টিকেটের সাইটে একাউন্ট খুলতে সাইটটির হোম (Home) পেজে ওপরে ডান দিকে ৫টি অপশন দেখবেন। এর মধ্যে ‘Register’ নামক তৃতীয় অপশনটিতে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পরেই নিচের পেজটি দেখতে পাবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ২.১

রেজিস্ট্রেশন পেজে এসে যথাক্রমে আপনার নাম, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর প্রবেশ করান। মোবাইল নম্বরটি দ্বিতীয়বার লিখে নিশ্চিত করুন। অন্য সাইটে ব্যবহৃত নয় এবং আপনার মনে থাকবে এমন একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। পাসওয়ার্ড দ্বিতীয়বার লিখে নিশ্চিত করুন। পাসওয়ার্ডের ঘরের নিচেই ‘Identification Type’ নামক একটি ড্রপ-ডাউন মেনু দেখতে পাবেন। আপনার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে থাকে তাহলে সেখান থেকে NID নির্ধারণ করুন। জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে Birth Certificate বা জন্ম নিবন্ধন নির্ধারণ করুন। উল্লেখ্য যে জন্ম নিবন্ধন সনদ এর সাহায্যে একাউন্ট খুলতে চাইলে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সনদটি অনলাইনে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনটি প্রথমেই অনলাইনে যাচাই করে নিতে পারেন।

শেষের দুটি ধাপে আপনার পোস্ট কোড ও ঠিকানা লেখুন। এক্ষেত্রে বর্তমান অথবা স্থায়ী যেকোনো একটি ঠিকানা লিখতে পারেন। সকল তথ্য পূরণ করা হলে নিচে সবুজ ‘SIGN UP’ বাটনটিতে ক্লিক করুন। আর পাশের ‘ALREADY REGISTERED’ বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে লগইন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে। 

ধাপ-২.২ঃ ওটিপি (OTP) এর সাহায্যে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করুন

মোবাইল নম্বর প্রদান করলে তা নিশ্চিত করাটাও বাধ্যতামূলক। মোবাইল নম্বরটি যিনি একাউন্ট খুলছেন তার কাছেই আছে কি না তা নিশ্চিত হতে ওই নম্বরে একটি ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (One Time Pasword) পাঠানো হবে। ৬ ডিজিটের ওটিপিটি নির্ভুল ভাবে সাইটে প্রবেশ করান। মনে রাখবেন এই ওটিপিটি প্রদানের মাধ্যমেই আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের সকল শর্তাবলীর সাথে সহমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ২.২

ওটিপিটি প্রবেশ করিয়ে সবুজ রঙের CONTINUE বাটনে চাপ দিলেই আপনার একাউন্ট নিবন্ধন সফল হবে। এরপর ‘Ýour registration is successful.’ লেখাটি ভেসে উঠবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি সাইটে নিজেকে লগড ইন (Logged In) অবস্থায় পাবেন।

ধাপ-৩ঃ একাউন্টে লগইন (Login) করুন

এই সাইটটির নিয়ম অনুযায়ী একাউন্ট নিবন্ধনের পরেই আপনি লগড ইন অবস্থায় থাকতে পারবেন। কিন্তু কোনো কারণে আপনি লগআউট করতেই পারেন। বা ব্রাউজারটি ভুলবশত কেটে গেলেও লগ আউট (Log Out) হয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সাইটের মেনুবার থেকে ‘Login’ অপশনে ক্লিক করলেই লগইন পেজে চলে যাবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৩

উপরের সুন্দর চিত্রের মতো লগইন পেজটিতে প্রথমে আপনার মোবাইল নম্বর প্রবেশ করান। এরপর আপনার পাসওয়ার্ডটি লিখুন। চাইলে পাসওয়ার্ডের পাশে উঠে থাকা চোখের চিহ্নটি ক্লিক করে দেখেও নিতে পারবেন পাসওয়ার্ডটি ঠিক টাইপ করা হলো কি না। অতঃপর সবুজ রঙের ‘LOGIN’ বাটনে ক্লিক করুন। একাউন্টে লগইন করার পর সাইটের মেনুবারের লেআউট কিছুটা পরিবর্তিত হবে এবং এর ডান দিকে আপনার নাম লেখা থাকবে। নিচের চিত্রের মতো।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৩। ছবি ২

ধাপ-৪ঃ ট্রেনের যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য স্থল ঠিক করুন

মূলত এই ধাপটি থেকেই অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার মূল প্রক্রিয়া শুরু। সাইটে লগড ইন থাকা অবস্থায় চলে যান হোমপেজে। টিকেট কাটতে নিচের ইন্টারফেসটিতে (Interface) তথ্য প্রবেশ করান।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৪

‘From’ ঘরটিতে আপনার যাত্রা শুরুর স্টেশনটির নাম ইংরেজিতে লিখুন। উল্লেখ্য যে স্টেশনের নাম দুই শব্দের হলে অবশ্যই নামের মধ্যে আন্ডারস্কোর ( _ ) ব্যবহার করুন। যেমন Dhaka_Cantonment অথবা Biman_Bandar ।

একই ভাবে ‘To’ ঘরটিতেও আপনার গন্তব্য স্টেশনের নাম লিখুন। যেমন Chittagong । 

‘Date of Journey’ ঘরটিতে ক্লিক করলে একটি ক্যালেন্ডার দেখাবে। ক্যালেন্ডার থেকে আপনার যাত্রার তারিখটি ঠিক করুন।

‘Choose a Class’ ড্রপ-ডাউন মেনুটি থেকে আপনি কোন ক্লাস অর্থাৎ শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন তা নির্ধারণ করুন। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে মোট ৮ ধরনের রেল টিকেট বিক্রি করে থাকে। মানের উচ্চ ক্রমানুসারে সেগুলো হলোঃ

  • AC_B (এসি বার্থ) 
  • AC_S (এসি সিট) 
  • SNIGDHA (স্নিধা)
  • F_BERTH (এফ বার্থ)
  • F_SEAT (এফ সিট)
  • F_CHAIR (এফ চেয়ার)
  • S_CHAIR (শোভন চেয়ার)
  • SHOVAN (শোভন) 

উল্লেখ্য যে সব ধরনের টিকেট সকল ট্রেনের জন্য প্রযোজ্য নয়। ট্রেনের মান ভেদে টিকেটের মানেও তারতম্য আসে। আর টিকেটের মানের সাথে সাথে তার ভাড়াও বৃদ্ধি পায়। আপনি যেই ধরনের টিকেটে বা যেই শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে চান তা নির্ধারণ করুন। অতঃপর সবুজ রঙের ‘FIND TICKET’ বাটনে ক্লিক করুন। 

ধাপ-৫ঃ ট্রেন সার্চ করুন

টিকেট কাটার প্রক্রিয়ার এই ধাপে এসে আপনার যাত্রা শুরুর স্থান থেকে কাঙ্খিত গন্তব্যে যে সকল ট্রেন যায় তার সবকয়টিরই বিস্তারিত দেখতে পারবেন। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৫

ধাপ-৫.১ঃ ফিল্টার নির্ধারণ করুন

পেজটির বাম দিকে রয়েছে ফিল্টারসমূহ (Filters)। এখানে মূলত দুইটি বিষয়কে ফিল্টার হিসেবে ধরা হয়েছে। ‘SEAT TYPE’ ও ‘DEPARTURE TIME’ । যাকে বাংলায় বলে সিটের ধরন ও যাত্রার সময়। 

ট্রেনের টিকেট সার্চ করার সময় প্রথমেই সিটের ধরন নির্ধারন করে দিতে হয়। এই পেজটি মূলত ওই সিট সম্বলিত যেই কয়টি ট্রেন আছে সেগুলোরই তথ্য তুলে ধরে। তবে ফিল্টারের অংশ থেকে চাইলে সিটের আরও ধরনগুলোও নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে এই পেজটিতে ওই সিটের তথ্যগুলোও দেখানো শুরু করবে। 

এছাড়াও আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা শুরু করতে চান তাহলে রয়েছে আরেকটি ফিল্টার। ওই অংশটিতে সকল ট্রেনের সময়সূচিকে মোট ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। আপনি চাইলে যেকোনো এক বা একাধিক ভাগ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। 

ধাপ-৫.২ঃ সাইটের অন্যান্য বাটনগুলো সম্পর্কে জানুন

প্রথমত কোনো কারণে ফিল্টারগুলোয় ভুলে চাপ পড়ে গেলে, ঐ বাটনের ওপর আবার চাপ দিন। তাহলে ফিল্টারটি কেটে যাবে। এছাড়াও ফিল্টার সেকশনের উপরে ‘RESET বাটনটি বেশ সহায়ক। এর সাহায্যে ফিল্টারগুলো রিসেট করে নিতে পারবেন এক ক্লিকেই। এছাড়াও ওয়েবপেজের মাঝামাঝি রয়েছে ‘PREV. DAY’ ও ‘NEXT DAY’  এর অপশন। এর সাহায্যে আপনি যাত্রার তারিখও আগে-পরে করতে পারবেন। এছাড়াও ডান পাশের ‘MODIFY SEARCH’ বাটনে চাপ দিলে আপনার যাত্রার সাথে সম্পর্কিত সকল তথ্যই দেখতে ও পরিবর্তন করতে পারবেন।  বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৫.২

ধাপ-৬ঃ ট্রেন নির্বাচন করুন

ট্রেনের তালিকায় প্রতিটি ট্রেনের নামের পাশেই তা ছাড়ার সময় উল্লেখ করা আছে। তা থেকে দেখ নিন কোন ট্রেনটি আপনার যাত্রার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। আর তার পাশেই দেখতে পাবেন ঐ ট্রেনটিতে আর কয়টি সিট বাকি আছে। পর্যাপ্ত সিট বাকি থাকলে সবুজ রঙের ‘View Seats’ বাটনে ক্লিক করুন। ক্লিক করলে নিচের চিত্রের মতো একটি ইন্টারফেস খুলে যাবে।বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৬

ধাপ-৭ঃ সিট নির্ধারণ করুন

এই ইন্টারফেসটির বাম পাশে ট্রেনের বগির একটি মডেল দেখানো হয়। নিচের চিত্রে ঢাকা-চিটাগং রুটের মহানগর প্রভাতী ট্রেনটির ‘ঢ’ নং বগির একটি মডেল দেখতে পাচ্ছেন। বগি পরিবর্তন করতে চাইলে ‘ঢ’ লেখার উপর ক্লিক করলেই ড্রপ-ডাউন মেনু খুলে যাবে। ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে পছন্দমতো বগি নির্ধারণ করে ঐ বগির মডেল থেকে সিট নির্ধারণ করুন। 

 

সিট নির্ধারণ করতে সিটগুলোর উপর ক্লিক করতে হবে। যেসব সিট ইতোমধ্যে ছাই রঙের সেগুলো নির্ধারণ করা যাবে না। কারণ সেসব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। সাদা সিট থেকে এক বা একাধিক সিট বাছাই করুন। সিটের ওপর মাউসের কার্সর (Cursor) নিলেই সিটের নম্বর দেখতে পারবেন। এক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৪টি সিট বাছাই করতে পারবেন। সিটে ক্লিক করলে সিটটি সবুজ হয়ে যাবে অর্থাৎ সিটটি আপনি নির্ধারণ করেছেন। সিট সবুজ হওয়ার পরে বাম পাশে আপনার ট্রেনের টিকেটের শ্রেণি, সিটসংখ্যা ও ভাড়ার পরিমাণ দেখাবে। সব দেখে নিয়ে ‘CONTINUE PURCHASE’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ-৮ঃ যাত্রীর তথ্য প্রদান করুন

অনলাইনে ট্রেনের একটি টিকেট কিনলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার নামে ইস্যু হবে। কিন্তু আপনি যদি একাধিক টিকেট কেটে থাকেন তাহলে অন্য যাত্রীদের তথ্য আপনাকে আলাদা ভাবে পূরণ করতে হবে। তথ্য হিসাবে আপনাকে তাদের পূর্ণ নাম ও তারা প্রাপ্তবয়ষ্ক না শিশু এই তথ্যগুলো দিতে হবে। নাম লেখার ঘরে নাম লিখবেন। ‘Passenger Type’ ড্রপ-ডাউন মেনুতে ক্লিক করলেই যাত্রী প্রাপ্তবয়ষ্ক নাকি শিশু তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, ৩ থেকে ১২ বছর বয়স অবধি যাত্রীদের বাংলাদেশ রেলওয়ে শিশু হিসেবে গণ্য করে। কোনো যাত্রীর বয়স এর উপরে হলে তাকে অবশ্যই পূর্ণ ভাড়া প্রদান করে টিকেট কাটতে হবে। আরও উল্লেখ্য যে, ৩ বছরের নিচের শিশুদের ট্রেনে ভ্রমণ করতে কোনো টিকেটের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৮

যাত্রীদের তথ্য প্রদানের পর একাউন্ট খোলার সময় যেই মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করেছিলেন সেগুলোই আপনার যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে। 

ধাপ-৯ঃ অনলাইনে ভাড়া পরিশোধ করুন

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট বুক করার পর অনলাইনেই ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অনলাইনে ট্রেনের টিকেটের ভাড়া পরিশোধ করতে একই পেজের নিচের দিকে স্ক্রল করুন। ‘PAYMENT DETAILS’ সেকশনে মোবাইল ব্যাংকিং ও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং হিসেবে শুধু বিকাশ এর সাহায্যেই ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৯

bKash অপশনটি সিলেক্ট করে দিয়ে ‘CONFIRM PURCHASE’ বাটনে ক্লিক করুন। উল্লেখ্য যে এই পেজে এসে ‘CONFIRM PURCHASE’ বাটনে ক্লিক করার জন্য সর্বোচ্চ ৩ মিনিট সময় পাবেন। এর বেশি দেরি হলে পুরো প্রক্রিয়া আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। কনফার্ম করার পর আপনার বিকাশ নম্বরটি লিখুন। আপনার নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) যাবে। তা প্রবেশ করান। অতঃপর আপনার একাউন্টের পিনটি টাইপ করে ভাড়া পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

ধাপ-১০ঃ টিকেট সংগ্রহ করুন

অনলাইনে ভাড়া পরিশোধের পরে এবার টিকেট সংগ্রহের পালা। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটলে ভাড়া পরিশোধের ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার একাউন্টের নামে টিকেট ইস্যু হয়ে যাবে। এই টিকেট আপনি সরাসরি সাইটের ‘Purchase History’ ট্যাব থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। সেখানে ‘Upcoming Journies’ অংশে টিকেটের পিডিএফ থাকবে। এছাড়াও আপনার একাউন্টের ইমেইল এও টিকেটের পিডিএফটি মেইল করে দেওয়া হবে। তবে অনেক সময় মেইলের স্প্যাম (Spam)  বক্সে টিকেটের মেইলটি চলে যায়। আবার অনেক সময় মেইলের সমস্যার কারণে মেইল পৌছায়ই না। কিন্তু মেইল না পৌছালেই যে আপনার টিকেট বাতিল হবে বিষয়টি এমন নয়। আপকামিং জার্নি অংশে আপনার টিকেটের পিডিএফ দেখলেই বুঝে নিতে হবে টিকেট বাতিল হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ১০

ট্রেনে ভ্রমণের জন্য এই পিডিএফ টিকেটের প্রিন্ট করা কপিই যথেষ্ট। তবুও ইচ্ছে হলে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ আগে গিয়ে রেলওয়ে কাউন্টারে পিডিএফ বা এর প্রিন্ট কপিটি দেখিয়ে ছাপানো টিকেট নিয়ে আসতে পারেন। এ সময় জাতীয় পরিচয় পত্র দেখানোর নিয়ম থাকলেও তার প্রয়োজন কখনই হয় না।

ধাপ-১১ঃ টিকেট ভেরিফাই (Verify) করুন

টিকেটের পিডিএফ পাওয়ার পরেই টিকেট ক্রয়ের মূল প্রক্রিয়া শেষ। তবে চাইলে আপনার টিকেটটি সঠিক ভাবে ইস্যু হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে চলে যেতে হবে সাইটের ‘Verify Ticket’ ট্যাবে। এই ট্যাবটিতে যেই মোবাইল নম্বরের সাহায্যে টিকেট কেটেছেন সেটি এবং টিকেটের পিএনআর অথবা টিকেট নম্বর প্রবেশ করাতে হবে। তাহলেই টিকেট সম্পর্কিত সকল তথ্য এই পেজটিতে দেখতে পাবেন। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ১১

মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম 

মোবাইলে ট্রেনের টিকেট কাটতে হলে গ্রাহকদের এই ওয়েবসাইটেরই দ্বারস্থ হতে হবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ’সহজ’ মোবাইলের জন্য কোনো আলাদা অ্যাপ চালু করে নি। মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে টিকেট কাটতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। বুঝতে অসুবিধা হলে মোবাইলের ব্রাউজারকে ডেস্কটপ মোড (Desktop Mode) এ সেট করে নিতে পারেন।

ট্রেনের কেবিন ভাড়া করার নিয়ম

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ধাপঃ ৪

ট্রেনের কেবিন গুলোকে বোঝানো হয় ‘AC_B’ দ্বারা। এর অর্থ এসি বার্থ (AC Berth)। ট্রেনের কেবিন ভাড়া করতে হলে এসি কেবিন গুলোই ভাড়া করতে হবে। প্রতিটি কেবিনে ৬ জন যাত্রী বসতে পারবেন। কেবিন গুলো খুবই পরিষ্কার-পরিছন্ন ও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় খুবই আরামদায়ক।

ট্রেনের কেবিন ভাড়া করতে হলেঃ

ধাপ ১ঃ প্রথমে সাধারন ভাবে ট্রেনের টিকিট কাটার মতই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

ধাপ ২ঃ সাইটের হোমপেজে ভ্রমণের তথ্যাবলী পূরণের সময় ‘Class’ এর স্থলে ‘AC_B’ নির্ধারণ করে দিতে হবে

ধাপ ৩ঃ বাকি প্রক্রিয়াটি সাধারণভাবে অনলাইনে টিকেট কাটার মতই সম্পন্ন করতে হবে।

আশা করি, ট্রেনের কেবিন ভাড়া করার নিয়ম আপনার কাছে এবার পরিস্কার। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে প্রশ্নোত্তর অংশ দেখতে পারেন অথবা কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

ট্রেনের টিকেট ফেরত দেওয়ার নিয়ম

অনেক সময় অনেক কারণেই আমাদের ট্রেন যাত্রা বাতিল হয়ে যেতে পারে। যদি তা নির্দিষ্ট সময়ের আগে হয় তাহলে ভাল। এতে করে টিকেটের ক্রয় মূল্যের কিছু অংশ ফেরত পাওয়া যায়। তবে ট্রেনের টিকেট ফেরত দিলে কতটুকু টাকা পাবেন তা নির্ভর করবে কখন করছেন তার ওপর। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ীঃ

  • যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘন্টা পূর্বে টিকেট বাতিল করলে তাপানূকুল শ্রেণির (AC) ক্ষেত্রে ৪০ টাকা, প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে ৩০ টাকা ও অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে ২৫ টাকা কেটে রাখা হবে। 
  • যাত্রা শুরু হতে ৪৮ ঘন্টার কম কিন্তু ২৪ ঘন্টার বেশি সময় থাকলে প্রত্যেক শ্রেণির টিকেটের ২৫% ক্রয়মূল্য কেটে রাখা হবে। 
  • যাত্রা শুরু হতে ২৪ ঘন্টার কম কিন্তু ১২ ঘন্টার বেশি সময় থাকলে প্রত্যেক শ্রেণির টিকেটের ৫০% ক্রয়মূল্য কেটে রাখা হবে। 
  • যাত্রা শুরু হতে  ১২ ঘন্টার কম কিন্তু ৬ ঘন্টার বেশি সময় থাকলে প্রত্যেক শ্রেণির টিকেটের ৭৫% ক্রয়মূল্য কেটে রাখা হবে। 
  • যাত্রা শুরু হতে ৬ ঘন্টার কম সময় বাকি থাকলে টিকেট বাতিল করা যাবে না। 
  • অনলাইনে প্রতিবার এক বা একাধিক টিকেট ক্রয়ের জন্য ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এটি অফেরতযোগ্য। 
  • টিকেট বাতিল করতে হলে অবশ্যই যেই স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হবে সেই স্টেশনে গিয়ে কাউন্টার থেকে টিকেট বাতিল করতে হবে এবং অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

তবে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে গেলে কখনো এমন হতে পারে যে টাকা কেটে নিলো কিন্তু টিকেট ইস্যু হলো না। এমনটি হলে কেটে নেওয়া টাকা ৮ কর্মদিবসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যেই বিকাশ একাউন্ট বা কার্ড থেকে টাকা পাঠিয়েছিলেন সেখানেই টাকা ফেরত আসবে। এরপরেও যদি ফেরত না আসে তাহলে support@br.gov.bd এই অ্যাড্রেসে আপনার টিকেট ক্রয় এবং ভাড়া পরিশোধের প্রমাণ সহ মেইল করতে হবে। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তারা মেইলের মাধ্যমে উত্তর দেবে এবং আপনার টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে শেষ অবধি টাকা ফেরত পেতে কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত নয়। এছাড়াও টাকা পাঠানোর মাধ্যমের কারণেই যদি টাকার গড়মিল হয় সেক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সাহায্য করবে না।  

ট্রেনে ভ্রমণের অন্যান্য নিয়মাবলী

নিরাপদে ট্রেনে ভ্রমণ করতে হলে শুধু ট্রেনের টিকেট কাটলেই হবে না বরং ট্রেনে ভ্রমণের শর্তাবলীগুলোও জানা চাই। আপনি যখন ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলবেন তখনই আপনি এই শর্তাবলীর সাথে সহমত পোষণ করবেন। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য শর্তাবলী এখানে তুলে ধরা হলোঃ

  • ট্রেনের টিকেট কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ আইনত যার টিকেট সেই শুধু ওই টিকেটে ভ্রমণ করতে পারবে।
  •  অতিরিক্ত মালামাল বহন করলে তার জন্য মাশুল দিতে হবে। এক্ষেত্রে তাপানূকুল শ্রেণির যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৫৬ কেজি, প্রথম শ্রেণির যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৩৭.৫ কেজি, শোভন চেয়ার / শোভন শ্রেণির যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২৬ কেজি ও সুলভ শ্রেণির যাত্রীরা সর্বোচ্চ ২৩ কেজি মাল বিনা মাশুলে বহন করতে পারবেন।
  • বগি অথবা সিট নম্বর যেকোনো মূহুর্তে পরিবর্তিত হতে পারে। 
  • বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো মূহুর্তে যাত্রা বাতিলের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। 
  • বিনা টিকেটে ভ্রমণ করলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ওই অবৈধ যাত্রীকে বিচারের আওতায় আনার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। 

শেষকথা

ট্রেন একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। বর্তমানে এটি যোগাযোগের অন্যতম আরামদায়ক একটি মাধ্যম। বিশেষত বাসের ঝাকুনি, দুলুনি এড়িয়ে ট্রেন হতে পারে দারুণ একটি পন্থা। এটি তূলনামূলক অনেক নিরাপদও বটে। অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার মাধ্যমে আমরা সহজেই ট্রেনের সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারি। তাই আসুন বিনা টিকেটে ভ্রমণ না করি, প্রয়োজনে অনলাইনে টিকেট কিনে ট্রেনে ভ্রমণ করি। 

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার সময় কখন?

উত্তরঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার সময় সকাল ৮ঃ০০ থেকে রাত ১১ঃ৩০। এর পরে রাত ১১ঃ৪৫ থেকে সকাল ৭ঃ৫৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকেট বিক্রির সেবা বন্ধ থাকে।

২) বিকাশ ছাড়া অন্য মোবাইল ব্যাংকিংগুলোর সাহায্যে কবে ট্রেনের টিকেটের মূল্য পরিশোধ করা যাবে?

উত্তরঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট বিক্রির প্রক্রিয়ায় কবে নাগাদ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংগুলো যুক্ত হবে সে সম্পর্কে বর্তমানে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

৩) সর্বোচ্চ কতদিন আগে থেকে অগ্রিম টিকেট কেনা যায়?

উত্তরঃ আপনি সর্বোচ্চ ৫ দিনের অগ্রিম টিকেট কিনতে পারবেন। এর মধ্যে বর্তমান দিন থেকে শুরু করে আগামী চার দিনের টিকেট কাটার সুযোগ রয়েছে। 

৪) টিকেট বিক্রির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার কোনো উপায় আছে কি?

উত্তরঃ কারিগরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন support@eticket.railway.gov.bd এই মেইল ঠিকানায়। টিকেট ইস্যু না হলে অর্থ ফেরত পেতে মেইল করুন support@br.gov.bd এই ঠিকানায়। 

৫) কম্পিউটার দিয়ে টিকেট কাটলে কি ফোনের বিকাশের সাহায্যে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবো?

উত্তরঃ অবশ্যই পারবেন। কম্পিউটারে বিকাশ নম্বরটি লিখে প্রাপ্ত ওটিপি প্রবেশ করান। অতঃপর আপনার পিনটি প্রবেশ করালেই ভাড়া পরিশোধ হয়ে যাবে। তবে এ প্রক্রিয়া নিজ কম্পিউটার ছাড়া প্রয়োগ করবেন না। কারণ দোকানের কম্পিউটারগুলোতে আপনার বিকাশের পিন আপনার অলক্ষ্যে সংরক্ষণ করতে পারে। 

৬) একাউন্ট খোলা ছাড়া সরাসরি কি ই-টিকেট কাটতে পারবো?

উত্তরঃ না। টিকিট কাটতে হলে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তাই ই-টিকেট কাটতে একাউন্টের বিকল্প নেই।

৭) একাউন্ট খোলা ছাড়া কি আমি কাউন্টার থেকে কেনা টিকেট যাচাই করতে পারবো?

উত্তরঃ না। একাউন্ট ছাড়া কাউন্টার থেকে টিকেট কেনা গেলেও যাচাই করতে একাউন্ট লাগবে।

৮) একাউন্ট খোলার সময় মোবাইল ভেরিফিকেশন কোডটি প্রবেশ করাতে পারি নি। এখন কি করণীয়?

উত্তরঃ রেলসেবার হেল্পলাইন “৩৩৩” নাম্বারে ফোন করে আপনার সমস্যার কথা বলুন।

৯) আমি যদি অনেক বেশি টিকেট কাটতে চাই তাহলে কি করবো?

উত্তরঃ নির্ভর করে আপনি কয়টি টিকেট কাটতে চান। ধরা যাক ১০ টি টিকেট কাটবেন। সেক্ষেত্রে অন্তত ৩ জনের একাউন্ট প্রয়োজন হবে। কারণ একটি একাউন্টে সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট একবারে কেনা যায়।

১০) এক সপ্তাহে কতবার টিকেট কাটতে পারবো?

উত্তরঃ এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার টিকেট কাটতে পারবেন। এক্ষেত্রে দুইবারে মাত্র দুইটি টিকেট কেটেছেন নাকি ৮টি টিকেট কেটেছেন তা মুখ্য নয়।

১১) টিকেট কেটেছি এবং টাকাও কাটা হয়েছে কিন্তু ইমেইল আসে নি। এক্ষেত্রে কি করণীয়?

উত্তরঃ আপনার একাউন্টের ‘History’ ট্যাবে যান। ‘Upcoming Journeys’ সেকশনে টিকেটের বিস্তারিত থাকবে। সেখান থেকেও চাইলে একটি PDF কপি ডাউনলোড করা সম্ভব।

১২) আমার টাকা কেটেছে কিন্তু টিকেট কাটা সম্পন্ন হয় নি। এক্ষেত্রে কি করণীয়?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৮ কর্মদিবসের মধ্যে আপনার টাকা ফেরত আসার কথা। না আসলে হেল্পলাইন ৩৩৩ নাম্বারে কল করে বিস্তারিত বলুন।

১৩) আমি টিকেট কেটেছি কিন্তু যাত্রার দিন পরিবর্তন করতে চাই। এক্ষেত্রে কি করণীয়?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে করণীয় কিছু নেই। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করুন এবং নতুন টিকেট কাটুন।

১৪) কাউন্টার থেকে ছাপানো টিকেট সংগ্রহ না করে শুধু অনলাইন টিকেটের প্রিন্ট কপি দিয়ে কি যাত্রা করা সম্ভব?

উত্তরঃ এটি না করাই শ্রেয়। দয়া করে যাত্রা শুরুর ৩০ মিনিট আগে টিকেট কাউন্টার থেকে ছাপানো টিকেট সংগ্রহ করে নিন।

১৫) যাত্রার সময় কি জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে থাকা বাধ্যতামূলক?

উত্তরঃ না। টিকেট কাটার সময়ই আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে নেওয়া হবে। যাত্রার সময় শুধু টিকেটটি সাথে থাকলেই চলবে।

 

ছবি ও তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে ই-টিকেটিং সার্ভিস 

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

46 কমেন্ট গুলো

  1. আমি গত ১৩ তারিখ এবং ১৪ তারিখে টিকেট কাটি। কিন্তু আজ ২১ তারিখেও টিকেট কাটতে গিয়ে লিমিট শেষ দেখাচ্ছে এর কারণ কি? সপ্তাহ-তো শেষ।

  2. আমি অনলাইনে যাত্রা শুরুর স্থান ঃকমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে টিকিট কেটে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে প্রিন্ট করতে পারব কি????

    1. অনলাইনে কাটা ট্রেনের টিকেট ফেরত দিতে হলে যেই স্টেশন থেকে টিকেটটি ক্রয় করেছেন সেই স্টেশন এর টিকেট কাউন্টারে যোগাযোগ করুন।
      ধন্যবাদ।

  3. ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য ২টি টিকেট এপস দিয়ে আলাদাভাবে কিনলাম।
    এখন ১৪ তারিখ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার টিকেট কিনতে চেষ্টা করলে, sorry your mobile exceed ticket ——– এ রকম আসছে।কি করা যায়।

    1. প্রতি সপ্তাহে মোট দুইবার টিকেট কিনতে পারবেন। আপনি যেহেতু আলাদাভাবে দুইটি টিকেট কিনেছেন এতে করে আপনার ওই সপ্তাহে টিকেট কাটার লিমিট শেষ হয়ে গিয়েছে। এজন্য এমন দেখাচ্ছে। কিছু করার নেই।

  4. গত ২৬/১০/২১ তারিখে ৩১/১০/২১ তারিখের ১ টা টিকিট ১ বার কেটেছিলাম। আজকে ৩/১১/২১ তারিখে টিকিট কাটার চেষ্টা করছি কিন্তু বারবার exceed booking limit দেখাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে?

    1. এমনটা হওয়ার কথা নয়। এক সপ্তাহে দুইবারের বেশি টিকেট কেনার চেষ্টা করলে এমনটা হয়ে থাকে।

  5. আমি একসাথে ২ train এর টিকেট computer er 2 টা ট্যাব open করে ১ টি id দিয়ে করতে পারব ??? ১৫ মিনিট অপেক্ষা করা লাগবে ???

    1. কাটতে পারবেন। এবং হ্যা একটির পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আরেকটার আগে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

  6. যেকোনো স্টেশন থেকে কি অনলাইন এ কাটা টিকিট সংগ্রহ করা যায় ? যেমন আমি লাকসাম থেকে সিলেট যেতে চাই কিন্তু লাকসাম স্টেশন এর টিকিট না পেলে আমি ফেনী স্টেশন এর টিকেট কিনলে আমি কি লাকসাম স্টেশন এর কাউন্টার থেকে লাকসাম এর আগের স্টেশন ফেনী থেকে কাটা অনলাইন টিকিট দেখিয়ে লাকসাম এর টিকিট কাউন্টার থেকে কি আসল টিকিট সংগ্রহ করতে পারবো?

    1. যেই স্টেশন যাত্রা শুরুর স্টেশন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন ওই স্টেশন থেকেই প্রিন্ট টিকেট কাটতে হবে৷

  7. আমার এক মেয়ের বয়স ১৩ আর আরেক মেয়ের বয়স ১৬। তাদের জন্য কি child কাটতে হবে, নাকি adult টিকেট কাটতে হবে?

        1. না। দেড় বছরের বাচ্চার জন্য টিকেটের প্রয়োজন নেই। তবে বাচ্চার বয়স ৩ বছর থেকে ১২ বছর অবধি হলে শিশু টিকেট এর প্রয়োজন হবে।

  8. ১ আইডিতে ১মাসে মোট কয়টা টিকিট কাটা যাবে?

    1. একটি একাউন্টে প্রত্যেক সপ্তাহে ২ বারে সর্বোচ্চ ৮টি টিকেট কাটা যায়। অর্থাৎ মাসে ৮*৪ = ৩২টি টিকেট কাটতে পারবেন।

  9. ভাই আমি গতকাল রাত ৭ টার দিকে সিলেট হতে ঢাকা যাওয়ার টিকেট ক্রয় করি মোট ৪ টা অনলাইনের মাধ্যমে।পেমেন্ট করি বিকাশে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন টিকেট মেইল পাই নি।কি করবো ভাই?Apps এর History তে যেয়েও কিছু পেলাম না। সলিউশন কি ভাই?ওদের হটলাইন ও বন্ধ।

    1. এক্ষেত্রে আপনার বিকাশ পেমেন্টের ট্রানজেকশন আইডি সহ ওদের হটলাইনে যোগাযোগ করুন। হটলাইন বন্ধ থাকলে বার বার চেষ্টা করুন।

  10. অনলাইনে টিকিট কাটালে কি কোন রূপ জটিলতায় পরার সম্ভাবনা আছে?

    1. অনলাইনে টিকেট কাটলে সাধারণত কোন জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় না। তবে সার্ভার অনেক চাপের মুখে থাকলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন টাকা কেটে নিলেও টিকেট না পাওয়া। এক্ষেত্রে হটলাইন ৩৩৩ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

  11. আমি টিকেট করেছি আমার খালার জন্যে। যাবে ও উনি। কিন্তু ইনফরমেশন সব আমার এতে কি উনার কনো সমস্যা হবে যাওয়ার সময়

  12. কাউন্টার থেকে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ না করে শুধু অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা টিকিট দিয়ে কি ভ্রমন করতে পারব?

    1. একই সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার টিকেট কাটা যাবে। একই দিনে দুইবার টিকেট কাটতে পারবেন। উল্লেখ্য যে দুইবারে সর্বোচ্চ ৮টি টিকেট কাটতে পারবেন।
      Progress Bangladesh এর সাথেই থাকুন।
      ধন্যবাদ। 😀

  13. সাপ্তাহে কয়বার লেনদেন বা ট্রেনের টিকেট কাটা দয়া করে বলবেন কি? ২বার কাটার পর আর নতুন কোন টিকেট কাটতে পারছি না বলছে you have exceeded your limit এখন কি করণীয়??

    1. অন্য কারো জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাউন্ট খুলে টিকেট কাটুন।
      Progress Bangladesh এর সাথেই থাকুন।
      ধন্যবাদ। 😀

  14. অনলাইনে কাটা টিকেট ক্যানসেল করবো কিভাবে যেখানে ৭৫% টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়মি প্রযোজ্য হবে?

    1. অনলাইনে ট্রেনের টিকেট ফেরত দেওয়ার সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে স্টেশনে গিয়ে টিকেট ফেরত দিতে হবে। তাহলে আপনি ৭৫% টাকা ফেরত পাবেন।
      Progress Bangladesh এর সাথেই থাকুন।
      ধন্যবাদ। 😀

      1. উপরে তো বলা হয়েছে ৪৮ ঘন্টা পূর্বে ফেরত দিলে শুধু সার্ভিস চার্জের টাকা কেটে রাখা হবে। অর্থাৎ এসির ক্ষেত্রে ৪০ টাকা, ১ম শ্রেণী ৩০ টাকা এবং অন্যান্য ২৫ টাকা।

  15. আমার বাচ্চার বয়স ৮ মাস তাহলে কি তারও টিকিটের প্রয়োজন আছে?

    1. ৩-১২ বছরের শিশুর জন্য ট্রেনের হাফ টিকেট কাটা বাধ্যতামূলক। আপনার ৮ মাস বাচ্চার জন্য টিকেট কাটার প্রয়োজন নেই।
      Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 😀

    1. “Mobile Quota Seats Not Available” আসার মূল কারন হল, আপনি যে রেলওয়ে স্টেশন নির্বাচন করেছেন সেই স্টেশন এর জন্য পর্যাপ্ত আসন বরাদ্দ নেই।

      Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  16. ধরুন আমি আগামি ৪ তারিখের অগ্রিম টিকেট অনলাইনে কাটবো, ৪ তারিখের টিকেট কখন বা কোন সময় প্রথম পাবলিশ হবে জানাবেন?

    1. ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কাটার নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন থেকে কমিয়ে ৫ দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতএব, আপনি যদি ৪ তারিখের ট্রেনের টিকেট কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ৩১ তারিখ ভোর ৬ টার দিকে রেল সেবা ওয়েবসাইটে টিকেট ছাড়বে এবং আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব টিকেট কেটে নিতে হবে।
      Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  17. আমি অনলাইনে টিকিট কাটতে চাচ্ছি, তো ট্যাবে অনলাইন আসন সংখ্যা 00/ কাউন্টার 27 দেখাচ্ছে। কিন্তু এখন তো কাউন্টারে টিকিট দিচ্ছে নে, এক্ষেত্রে কি করতে পারি

    1. “Purchase” এ ক্লিক করে কাউন্টারের ঐ টিকিট ও অনলাইনেই কাটতে পারবেন।
      ট্রেনের টিকেট
      Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

      1. ট্রেনের বগি কিভাবে নির্বাচন করবো?

        1. কোন যাত্রীর সাধারণত বগী নির্বাচন করার অনুমতি থাকে না। প্রতিটি রেলওয়ে স্টেশনের জন্য নির্দিষ্ট বগী রেলওয়ের টিকেট নিয়ন্ত্রণকারী দ্বারা নির্বাচন করা হয়ে থাকে। তবে আপনি আপনার স্টেশনের জন্য নির্বাচিত বগী থেকে রেলসেবা অ্যাপ ডাউনলোড করে সেই অ্যাপ থেকে পছন্দমত আসন নির্বাচন করতে পারবেন।
          Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  18. বিকাশের সিম যদি থাকে অন্য ফোনে তাহলে কি ট্রেনের টিকেট কাটা যাবে?

    1. হ্যাঁ! বিকাশের সিম যদি থাকে অন্য ফোনে থাকে তাহলে অবশ্যই ট্রেনের টিকেট কাটা যাবে।
      Progress Bangladesh এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button