ওয়েবসাইটব্লগিং

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করুন এই জনপ্রিয় প্লাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে

নিজের একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন অথবা ইচ্ছা বর্তমানে অনেকেরই থাকে। সেটি ব্যক্তিগত ব্লগ হোক আর ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট। এছাড়াও ওয়েবসাইটের সাহায্যে অর্থ উপার্জন করাটাও বর্তমানে অনেক সহজ। তাই অনেকেই এখন নিজের বা ব্যক্তিগত কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু তারপর অনেকেই ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করতে ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে ওয়েবসাইটগুলো কতটা ব্যয়বহুল তা টের পাচ্ছেন। এসময় অনেকের নিজস্ব বা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট রাখার বা ব্যবহার করার ইচ্ছেটাও হয়তোবা দমে যায়। কিন্তু বর্তমানে অনেক প্লাটফর্মই ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। যার মাঝে বেশ কিছু প্লাটফর্ম ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে বেশ ভালো ও সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাহায্য করে। এগুলোর সাহায্যে যে কেউই সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন। তাই সেগুলোর মাঝে কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম ও তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়েই এই লেখাটি।

সূচিপত্রঃ

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জনপ্রিয় প্লাটফর্ম

ইন্টারনেটের প্রসারের যুগে বর্তমানে অনেকগুলো প্লাটফর্মই ব্যবহারকারীদের ফ্রি তে ওয়েব হোস্টিং এর সুযোগ দিচ্ছে। এদের মধ্যে কোনটি ব্যবহারকারীকে সর্বাত্মক সুবিধা দিয়ে থাকলেও কোন কোনটি ব্যবহার সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেলে নতুন করে আরেকটি তৈরি করা অনেক সময় ও শ্রম সাপেক্ষ। তাই এখানে বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম নিয়ে লেখা হলোঃ

ব্লগার (Blogger)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ ব্লগার (Blogger)

ব্লগিং-এর উত্থান মূলত শুরু হয় ব্লগার (Blogger) এর হাত দিয়েই। গুগল ২০০৩ সালে ব্লগার প্লাটফর্ম কিনে নেয় এবং এর হোস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত গুগলই ব্লগার পরিচালনা করে থাকে। ব্লগার ব্যবহার করা ও এর সাহায্যে ব্লগ তৈরি খুবই সহজ। এমনকি ব্লগারের মাধ্যমে একটি ব্লগ তৈরি করার জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজন একটি গুগল একাউন্টের। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে ব্লগারে ব্লগিং ছাড়া অন্য কোন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কোন ফিচার দেওয়া নেই। তাই এর সাহায্যে ব্যবসা বা অন্য কোন কিছুর ওয়েবসাইট তৈরি করা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ায় এর সাহায্যে ব্লগ তৈরি ও ব্যবহার করার কাজ খুবই সহজ ও একইসাথে কার্যকর। এতে অনেকগুলো টেমপ্লেট থাকায় ওয়েবসাইটটি সাজানোর কাজও ঠিকভাবে ও নিজের পছন্দমতো করা যায়। এতে Drag-and-Drop এর সুবিধা থাকার ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ ও করে নেওয়া যায় ব্লগগুলো। ব্লগারের জন্য বিনামূল্যেই ব্লগস্পট এর সাহায্যে নিজস্ব ডোমেইন নেম দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্লাটফর্মের সাহায্যে ব্যবহারকারী তার প্রতিটি গুগল একাউন্টের জন্য শুধুমাত্র ১০০টি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। তাই এই প্লাটফর্মটি পেশাদার পর্যায়ের ব্লগারদের জন্য আদর্শ নাও হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য প্লাটফর্মে তৈরি ওয়েবসাইটের মতো ব্লগারের সাহায্যে তৈরি ব্লগগুলোর উপর প্লাটফর্মটি ব্যবহারকারীর তেমন একটা নিজস্বতা থাকে না। ফলে অনেক দিন ধরে তৈরি করা কোন এসইও কন্টেন্ট কোন কোন সময় ইন্টারনেট থেকে মুছে যেতে পারে হঠাৎ করেই। এসব কারণে গুগল-এর ব্লগার অনেক বেশী ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় হলেও স্থায়ী ওয়েবসাইটের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি আদর্শ নয়।

সুবিধাঃ

  • সহজে ব্যবহার।
  • কোন ব্লগ তৈরি করতে প্রয়োজন শুধুমাত্র একটি গুগল একাউন্টের।
  • চমৎকার কিছু টেমপ্লেট।

অসুবিধাঃ

  • শুধুমাত্র ব্লগ ছাড়া অন্য কিছু তৈরি করতে পারবেন না। 
  • ফ্রি ভার্শনে ব্লগ স্পট ছাড়া আলাদা ডোমেইন নেম ব্যবহার করতে পারবেন না। 
  • প্রতিটি গুগল একাউন্টের জন্য শুধুমাত্র ১০০ টির বেশি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন না।

উইক্স (Wix)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ উইক্স (Wix)

উইক্স (WIX) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট তৈরি প্লাটফর্ম। উইক্স-এর সাহায্যে তৈরি প্রায় ১৬০ মিলিওনেরও বেশী ওয়েবসাইট বর্তমানে ইন্টারনেটে রয়েছে। যা বিশ্বের অন্যান্য বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্মগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশী। উইক্স মূলত নতুন ও তুলনামূলকভাবে ছোট ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সেরা। এমনকি প্রথমবারের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রেও উইক্স-এর শতাধিক অনন্য কিছু টেমপ্লেট বা লেআউট ব্যবহার করে এবং সেগুলো কাস্টমাইজ করে সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। এই লেআউটগুলোর অধিকাংশই ছোট ব্যবসা, ফটোগ্রাফার, ব্যাক্তিগত ব্লগ বা এধরণের ব্যক্তিদের ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করা। এছাড়াও উইক্স-এর মাধ্যমে খুব সহজেই মোবাইল ফোন দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি ও অন্যান্য কাজ করা যায়। ফলে যে কেউ যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করেই উইক্সের সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবে। এছাড়াও ফ্রি প্ল্যানের মাঝে উইক্সের সাহায্যে তৈরি ওয়েবসাইটের জন্য মোট ৫০০ মেগাবাইট স্টোরেজ দেওয়া হয়। যদিও এই বিষয়টি ছোট ব্যবসা বা ওয়েবসাইটের শুরুতে খুব একটা অসুবিধার সৃষ্টি করে না। কিন্তু ওয়েবসাইটটি বিস্তৃত হলে এতটুকু স্টোরেজের জন্য ব্যবহারকারীকে কিছুটা সমস্যা পোহাতে হতে পারে। এছাড়াও উইক্সের ফ্রি প্ল্যান ব্যবহার করতে হলে কিছু ছোট সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাঝে অন্যতম হচ্ছে নিজের মত ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম দিতে না পারা। উইক্স-এর ফ্রি প্ল্যান ব্যবহার করে তৈরি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম সাধারণত উইক্স থেকেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের একটি অনন্য পরিচয় রাখার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। উইক্স-এর তৈরি ফ্রি ওয়েবসাইটে সবসময়ই ওয়েবসাইটের একদম উপরে উইক্স এর বিজ্ঞাপন ব্যানার আকারে থেকে যাবে। এছাড়াও এর ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে কোন কিছু অনলাইনে বিক্রি করার সুবিধাও নেই। ফলে ব্যবসায়ী উদ্দেশ্য তৈরি ওয়েবসাইটের সাহায্যে কোন কিছু বিক্রি করাও উইক্সের সাহায্যে সম্ভব হবে না।

সুবিধাঃ

  • আগে থেকে বানানো ওয়েবসাইটের অসাধারণ কিছু লেআউট ও টেমপ্লেট।
  • অ্যানিমেশন ব্যবহারের সুযোগ।
  • অ্যাপ মার্কেট ব্যবহার করার সুযোগ। যেখানে ওয়েবসাইটে ব্যবহারের জন্য শতাধিক অ্যাপ রয়েছে।
  • উইক্স-এর আর্টিফিশিয়াল ডিজাইন ইন্টিলিজেন্স প্রযুক্তি।
  • স্বয়ংক্রিয় ওয়েবসাইট ব্যাক আপ।

অসুবিধাঃ

  • ফ্রি-তে ব্যবহার থেকে কোন প্রিমিয়াম প্যাকে যাবার ক্ষেত্রে শুরুর দিকের প্যাকগুলোর দাম অন্যান্য ওয়েবসাইটের তুলনায় কিছুটা বেশী।
  • সহজে ওয়েবসাইটের লেআউট বা টেমপ্লেট পরিবর্তনের সুবিধা নেই।
  • অন্যান্য অনেক ওয়েবসাইটের তুলনায় ধীরগতির লোডিং-এর সময়।

ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম। পৃথিবীর মোট ওয়েবসাইটের প্রায় ৩৯ শতাংশই ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে তৈরি। মুলত ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগিং এর জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে এর বিস্তৃতি মোবাইলে প্রেজেন্টেশন, ব্যবসা, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট সহ সকল দিকেই। ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমেই জেনে নেওয়া উচিত যে ওয়ার্ডপ্রেসের দুইটি ভাগ রয়েছে। প্রথমটি হলো wordpress.com এবং দ্বিতীয়টি wordpress.org। wordpress.com ব্যবহারের বেশ কিছুটা  সীমাবদ্ধতা থাকলেও wordpress.org এদিক থেকে অনেক বেশীই নমনীয়। যদি এটি ব্যবহার করা তুলনামূলক ভাবে wordpress.com থেকে কিছুটা কঠিন। ওয়ার্ডপ্রেসের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে এতে ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরি করলে মোট ৩ গিগাবাইট স্টোরেজ ব্যবহার করা যায়। যা একটি মাঝারি আকৃতির ওয়েবসাইট চালানোর জন্যও যথেষ্ট। যদিও অন্যান্য ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্মের মতো এতেও ওয়ার্ডপ্রেসের বিজ্ঞাপন, নিজস্ব ডোমেইন নেম তৈরি না করতে পারার অসুবিধা রয়েছে। কিন্তু সহজে যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরি করা, কাজ করার ক্ষেত্রে নমনীয়তার জন্য এটি অন্যতম সেরা একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

সুবিধাঃ

  • ব্লগিং-এর জন্য অনেক টুল ও অপশন রয়েছে।
  • সহজে ওয়েবসাইট স্থানান্তর করতে পারবেন। 
  • সহজে ওয়েবসাইট কাস্টমাইজ করতে পারবেন। 
  • অসংখ্য plugins, add-ons ব্যবহারের সুযোগ।

অসুবিধাঃ

  • ফ্রি ভার্শনে Drug-and-drop এডিটর-এর সুবিধা নেই।
  • ফ্রি ভার্শনে ছবি এডিটের তেমন সুবিধা নেই।
  • ফ্রি ভার্শনে নিজে থেকেই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা, ব্যাকআপ, আপডেটের কাজগুলো করা যায়না।

উইবলি (Weebly)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ উইবলি (Weebly)

সহজে ব্যবহার করা যায়, এরকম ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্মগুলোর মাঝে উইবলি (Weebly) এর নাম সবসময়ই প্রথম দিকে থাকবে। বিশ্বব্যাপী উইবলি-এর মাধ্যমে তৈরি প্রায় ৫০ মিলিয়ন ওয়েবসাইট তাদের এই জনপ্রিয়তাকেই নির্দেশ করে। ব্লগিং থেকে শুরু করে ই-কমার্স সহ সকল ধরনের ওয়েবসাইটই উইবলি-এর সাহায্যে তৈরি করা যায়। এর Drag-and-Drop বিল্ডারের সাহায্যে ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় যা দেখা যাবে, সেরকম পেইজেই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা সম্ভব। ফলে এতে কোডিং-এর খুব একটা ঝামেলা নেই। যদিও এর সীমিত কাস্টমাইজেশন-এর সুযোগ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। উইবলির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য খুবই উপযোগী। এর সাহায্যে ব্যবহারকারী সহজেই একটি অনলাইন স্টোরও তৈরি করে নিতে পারবে। এবং এই ফিচারটি এর ফ্রি প্ল্যানেরই অন্তর্ভুক্ত। উইবলি মূলত ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির জন্যই সবচাইতে সেরা। এতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সকল টুলস দেওয়া আছে। এর বিশাল অ্যাপ স্টোরও এক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দেয়। কিন্তু উইবলি-এর অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে ওয়েবসাইটটির ব্যক্তিগত ভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ না থাকা। তাই ওয়েবসাইটটি কোন কারণে নষ্ট বা ডিলিট হয়ে গেলে উইবলি সাপোর্ট টীমের সাথে যোগাযোগ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। এছাড়াও এতে ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিফিশিয়াল ডিজাইন ইন্টেলিজেন্স এর সুবিধা না থাকায় সকল কাজই ম্যানুয়ালি করতে হয়। কিন্তু এর সহজ ব্যবহার, প্রয়োজনে প্রিমিয়াম প্ল্যানে যেতে হলে কম খরচ, কাস্টমাইজ যোগ্য অসাধারণ কিছু টেমপ্লেট একে অন্যতম সেরা একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে। 

সুবিধাঃ

  • আকর্ষণীয় ডিজাইন।
  • ই-কমার্সের সুবিধা।
  • ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান সহজে দেখতে পারবেন।
  • সীমাহীন ডাটা ট্রান্সফার।
  • উচ্চ আপটাইম।
  • ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা অফার সমূহ।

অসুবিধাঃ

  • সীমিত কাস্টমাইজেশন।
  • আর্টিফিশিয়াল ডিজাইন ইন্টেলিজেন্স-এর অনুপস্থিতি।
  • পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ছবির স্টোরেজ কম।
  • ব্যক্তিগতভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ নেই।

জিমডো (Jimdo)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ জিমডো (Jimdo)

একটি প্রোফেশনাল ওয়েবসাইটে যেসকল সুবিধা পাওয়া যায় তার অধিকাংশই বিনামূল্যে পাওয়ার জন্য জিমডো (Jimdo) চমৎকার একটি প্লাটফর্ম। জিমডোর সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরি করা খুবই সহজ কাজ। এর সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোডিং-এর ও তেমন কোন প্রয়োজন নেই। সাধারণ Drag-and-Drop এর সাহায্যে ও প্রয়োজন মাফিক টেক্সট লেখার মাধ্যমেই যে কেউ খুব সহজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবে। জিমডো-এর সাহায্যে ছবি এডিট ও রিসাইজ করাও মাত্র কয়েকটি ক্লিকের ব্যপার। এর ৫০০ মেগাবাইট স্টোরেজও ছোট একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য যথেষ্ট। এতে কিছু টেমপ্লেট ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর ডিজাইন তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বাজে। কিন্তু কেউ সেগুলোর মাঝে কোনটি পছন্দ করে থাকলে তার জন্য ওয়েবসাইটটি প্রায় তৈরিই করা থাকে বলা যায়। জিমডো-এর সাহায্যে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত ব্লগ, ব্যবসা সহ বেশ কিছু প্রকারের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে। কিন্তু জিমডো-এর ফ্রি প্ল্যানের মাঝে কোন কিছু অনলাইনে বিক্রি করার সুযোগ নেই। তাই কেউ পন্য বিক্রির জন্য ফ্রি-তে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে তার জন্য জিমডো আদর্শ নয়।

সুবিধাঃ

  • সহজে ওয়েবসাইট তৈরি।
  • জিমডো ডলফিনের মাধ্যমে আর্টিফিশিয়াল ডিজাইন ইন্টেলিজেন্স-এর সাহায্যে মাত্র কিছু উত্তর প্রদান করেই ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধা।
  • সহজে ছবি এডিট ও রিসাইজ করা।

অসুবিধাঃ

  • ওয়েবসাইট প্রয়োজনে রিস্টোর করার সুযোগ না নেই।
  • বেশ বাজে ডিজাইনের টেমপ্লেট।

স্ট্রাইকিংলি (Strikingly)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ স্ট্রাইকিংলি (Strikingly)

আগে কখনো ওয়েবসাইট তৈরি করেনি এরকম কারো ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সোজাসাপ্টা সম্পাদনা পদ্ধতির স্ট্রাইকিংলি (Strikingly) চমৎকার একটি প্লাটফর্ম। স্ট্রাইকিংলি-এর সাহায্যে যে কেউ সহজে কয়েক ঘন্টার মাঝেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবে। কিন্তু অন্যান্য ওয়েবসাইট যেখানে বহু পৃষ্ঠার ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেয়, স্ট্রাইকিংলি সেখানে আধুনিক এক পৃষ্ঠার ওয়েবসাইট তৈরিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এবং একাজে এক পৃষ্ঠার আধুনিক ওয়েবসাইটের জন্য চমৎকার কিছু টুলসও নিয়ে এসেছে স্ট্রাইকিংলি। ব্যক্তিগত ব্লগ, ব্যবসা, পোর্টফলিও সহ আরো অনেক ধরনের ওয়েবসাইটই এর সাহায্যে তৈরি করা যায়। এছাড়াও এতে খুব সহজেই অনলাইন স্টোরও তৈরি করা যায়। যদিও এর ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে ব্যবহারকারী শুধুমাত্র একটি পণ্যই বিক্রি করতে পারবেন। এতে ২৯টি টেমপ্লেট তৈরি করে দেওয়া আছে। যেগুলো যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। এর টেমপ্লেট প্রিভিউ অপশনের সাহায্যে অন্য একটি টেমপ্লেটে ওয়েবসাইটটি কেমন লাগতে পারে তার ধারণাও সহজেই পাওয়া যায়। এবং প্রয়োজনে ঐ নতুন টেমপ্লেটেও ওয়েবসাইটটি স্থানান্তর করা যায়। কিন্তু এতে টেমপ্লেট কাস্টমাইজেশন করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম। যা কিছু ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটটি নিজের মতো করে তৈরি করার সময় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও স্ট্রাইকিংলি-এর অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে তাদের কাস্টমার সাপোর্ট। ওয়েবসাইটের যেকোনো সমস্যাতেই যেকোনো সময় সহজেই তাদের থেকে লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে সাহায্য পাওয়া যায়।

সুবিধাঃ

  • Drag-and-Drop এডিটর ব্যবহার করার সুযোগ।
  • অসাধারন কাস্টমার সাপোর্ট।
  • সোজাসাপ্টা সম্পাদনা পদ্ধতি।
  • কোন পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সবসময়ই অটোসেভ হয়ে যাওয়া।

অসুবিধাঃ

  • টেমপ্লেট কাস্টমাইজেশন-এর সুযোগ কম।
  • ১০টির বেশি ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • ওয়েবসাইট ব্যাকআপের সুযোগ নেই।

সিম্পলসাইট (Simplesite)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ সিম্পলসাইট (Simplesite)

সহজে ব্যবহার করা ও ওয়েবসাইট তৈরি যদি কারো ওয়েবসাইট তৈরির অন্যতম প্রধান একটি প্রয়োজন হয়ে থাকে, তার জন্য সিম্পলসাইট (Simplesite) খুবই আদর্শ একটি প্লাটফর্ম। এমনকি এই প্লাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের সহজে ওয়েবসাইট সহজে পরিচালনা ও তৈরি করতে দেওয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচারও বাদ দিয়ে দিয়েছে। তার মাঝে একটি হচ্ছে এটির ডিজাইন ও কাস্টমাইজেশনের বিষয়টি। এর ডিজাইনগুলো অধিকাংশই অনেকটা পুরানো ধাঁচের। একই সাথে সিম্পলসাইট কাস্টমাইজেশনের দিক থেকেও তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে। ব্যবসার ওয়েবসাইট তৈরির দিক থেকে অবশ্য এটি বেশ চমৎকার একটি প্লাটফর্ম। সিম্পলসাইটের সাহায্যে ই-কমার্সের ওয়েবসাইট তৈরি ও ব্যবহার খুবই সহজ ও বেশ কার্যকর। কিন্তু অনলাইন স্টোরের ক্ষেত্রে এর সাহায্যে মাত্র ৫টি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়। এবং এই সংখ্যাটি বাড়াতে চাইলে ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ৩০.৪৯ ডলার খরচ করতে হবে। সিম্পলসাইটে ব্যবহারকারী মোট ৫টি ইমেইল এড্রেস যুক্ত করতে পারবেন। যেটি সাধারণত নতুন খোলা ওয়েবসাইটের জন্য যথেষ্টই। সিম্পলসাইটের সাহায্যে বহু পেজের ওয়েবসাইট খোলার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে শুধুমাত্র ১৫ টি পৃষ্ঠা তৈরি ও ব্যবহার করা যায়। ফলে অনেকগুলো পৃষ্ঠার ওয়েবসাইট তৈরি করা এতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সিম্পলসাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর মোবাইলে এডিট করার বিষয়টি। ওয়েবসাইট তৈরি, পরিচালনা ও ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করার সময় সকলেই এই প্লাটফর্মের বিষয়বস্তুগুলো মোবাইল ফোনেই সহজে উপভোগ করতে পারবেন। এবং এর জন্য আলাদা করে কোন অ্যাপ বা অন্য কিছু ডাউনলোড করারও প্রয়োজন নেই।

সুবিধাঃ

  • সোজাসাপ্টা ব্যবহার ও সম্পাদনা করা যায়।
  • মোবাইলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।

অসুবিধাঃ

  • পুরানো ডিজাইন।
  • কাস্টমাইজেশন করার ও প্রয়োজনীয় অনেক ফিচারের অভাব।
  • মাত্র ৫টি পণ্য বিক্রির সুযোগ ই-কমার্সের ক্ষেত্রে।

ওয়েবনোড (Webnode)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ ওয়েবনোড (Webnode)

যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম হচ্ছে ওয়েবনোড (Webnode)। বিশ্বব্যাপী ২২ মিলিওনেরও বেশী ওয়েবসাইট ওয়েবনোডের মাধ্যমে তৈরি। ওয়েবনোডের সহজে ব্যবহার পদ্ধতি, ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক, ই-কমার্স সহ আরো অনেক ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধা এই প্লাটফর্মটিকে অন্যান্য অনেকগুলো প্লাটফর্ম থেকে এগিয়ে রাখছে। যদিও ওয়েবনোড-এর সাহায্যে ব্লগ তৈরি করা কিছুটা সমস্যার। এর কারণ হচ্ছে ওয়েবনোড-এর ব্লগ ফাংশনটি খুবই সাধারণ মানের। ফলে এর সাহায্যে ব্লগ তৈরি করলে ব্যবহারকারীকে কমেন্ট ম্যানেজ করা সহ অনেক ধরনের অসুবিধাতেই পড়তে হতে পারে। ওয়েবনোডের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে এর ফ্রি প্ল্যানেও ব্যবহারকারী নিজস্ব ডোমেইন নেম ব্যবহার করতে পারবে। যা যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার ও প্রচারের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়াও এতে অন্যান্য ওয়েবসাইট তৈরির প্লাটফর্মের মতো বিজ্ঞাপনের সমস্যা পোহাতে হয় না। ফলে এর ফ্রি ভার্শনটিই ব্যবহারকারী ওয়েবনোড-এর ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন ছাড়া উপভোগ করতে পারবে। ওয়েবনোড-এর সাহায্যে ওয়েবসাইট তৈরির আরেকটি অসাধারণ বিষয় হচ্ছে এর শতাধিক টেমপ্লেট ও আগে থেকে তৈরি করা ডিজাইন। যার মাঝে আধুনিক ডিজাইনের ওয়েবসাইট তৈরির মতো অনেকগুলো টেমপ্লেটও রয়েছে। এতে বিল্ট-ইন এসইও (SEO) এর অনেকগুলো ফিচার থাকায় এসইও (SEO) এর বিষয়টিও অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এতগুলো সুবিধার ভিড়ে ওয়েবনোডের একটি অন্যতম অসুবিধা হচ্ছে এর ফ্রি প্ল্যানের স্টোরেজ স্বল্পতা। কোন ব্যবহারকারী ওয়েবনোডের ফ্রি প্ল্যান ব্যবহার করে থাকলে শুধুমাত্র ১০০ মেগাবাইট স্টোরেজ ও ১ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে পারবে। যা একটি সাধারণ ওয়েবসাইট পরিচালনা করার জন্যও অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। 

সুবিধাঃ

  • সহজ ব্যবহার।
  • ব্যক্তিগত ডোমেইন নেম ব্যবহার করা যায়।
  • এসইও (SEO) এর বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা যায়।

অসুবিধাঃ

  • ব্লগিং ওয়েবসাইটের সীমাবদ্ধতা।
  • মাত্র ১০০ মেগাবাইট স্টোরেজ ও ১ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ।

সাইট123 (Site123)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ সাইট123 (Site123)

অসংখ্য অসাধারণ কিছু ফিচারযুক্ত ওয়েবসাইট তৈরির একটি প্লাটফর্ম হচ্ছে সাইট123 (Site123)। ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওয়েবসাইট থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, অনলাইন স্টোর সহ আরো অনেক ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধাই রয়েছে এই প্লাটফর্মটিতে। সাইট123 তে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ১০টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মোট ১৮০টি টেমপ্লেট রয়েছে। যদিও এর টেমপ্লেটগুলোর বেশিরভাগই অনেকটা কাছাকাছি ধরনের। কিন্তু সাইট123 এর অন্যতম একটি অসুবিধা হচ্ছে এই টেমপ্লেটগুলো খুব একটা কাস্টমাইজ করতে না পারা। এখানে থাকা টেমপ্লেটগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রায় একই রকম ভাবে ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে হয়। ফলে নিজের মত একটি ওয়েবসাইটের সুবিধা এক্ষেত্রে অতটা পাওয়া যাবে না। সাইট123 তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ওয়েবসাইট সহজেই খোলা গেলেও সেটি বিস্তৃত করতে ও অন্যান্য ফিচার ব্যবহার করতে হলে প্রিমিয়াম প্ল্যানগুলো ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সাইট123 ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য Drag-and-Drop এর সুবিধা নেই। কিন্তু এর খুবই সহজ এডিটিং বার ব্যবহারকারীকে এই অসুবিধাটি বোধ করতে দিবে না। সাইট123 এর ব্যবহারকারীদের জন্য একটি খুবই সুবিধাজনক বিষয় হলো এর সার্বক্ষণিক লাইভ চ্যাট অপশন ও অসাধারণ কাস্টমার সাপোর্ট। যেকোনো সমস্যায় এখান থেকে ১৬টি আলাদা আলাদা ভাষায় তাদের সাহায্য পাওয়া যাবে। সাইট123 ব্যবহার করে তৈরি করা ওয়েবসাইটের জন্য ৫০০ মেগাবাইট স্টোরেজ দেওয়া হয়। যা সাধারণ ছোট একটি ওয়েবসাইটের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও এতে একটি ফ্রি ইমেজ গ্যালারি ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। এর সাহায্যে কোন ব্যবসা, ফটোগ্রাফি বা এধরণের কোন ওয়েবসাইটের ছবিগুলো সহজেই প্রদর্শন করা যাবে।

সুবিধাঃ

  • অনেকগুলো টেমপ্লেট ব্যবহার করার সুযোগ।
  • সহজ এডিটিং বার।
  • চমৎকার কাস্টমার সাপোর্ট।
  • ফ্রি ইমেজ গ্যালারি।

অসুবিধাঃ

  • টেমপ্লেটগুলো কাস্টমাইজেশন করার সুযোগ কম।
  • Drag-and-Drop ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
  • অনেক প্রয়োজনীয় ফিচার ফ্রি প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত নেই।

গুগল সাইটস (Google sites)

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মঃ গুগল সাইটস (Google sites)

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য গুগলের তৈরি ওয়েবসাইট বিল্ডার হচ্ছে গুগল সাইটস (Google Sites)। খুব দ্রুত সময়ের মাঝে কোন ইভেন্ট, পেশাদারী পোর্টফলিও অথবা কোন ছোট প্রজেক্টের জন্য সাধারণ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য গুগল সাইটস অসাধারণ একটি প্লাটফর্ম। গুগল সাইটস-এর মাধ্যমে যে কেউ পরিচ্ছন্ন ও সাধারণ একটি ওয়েবসাইট সহজেই তৈরি করতে পারবে। গুগলের এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করার সময় গুগলের অন্যান্য সকল অ্যাপই এর সাথে সহজেই সরাসরি সংযুক্ত করা যায়। এমনকি প্রয়োজনে গুগল ড্রাইভ থেকে যেকোনো ফাইল সরাসরি গুগল সাইটস এ যুক্ত করা যায়। গুগল এনালাইটিক্স, এডসেন্সের মত ওয়েবসাইটের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিছু ফিচারও এর সাথে যুক্ত করা যায় নির্বিঘ্নেই। কিন্তু এতে গুগলের সকল ফিচার যুক্ত করা গেলেও এতে কোন থার্ড পার্টি অ্যাপ যুক্ত করার সুবিধা নেই। ফলে এতে অনেক ধরনের ফিচার ব্যবহার করতে অনেকটাই বেগ পেতে হয়। টেমপ্লেটের দিক থেকে গুগল সাইটস-এ ওয়েবসাইট তৈরির জন্য শুধুমাত্র ৯টি টেমপ্লেট দেওয়া আছে। এবং এই টেমপ্লেটগুলোর কোনটাই ব্যবসায়ীক বা অন্য কোন পণ্যের প্রচারের জন্য তৈরি করা নয়। কিন্তু এগুলোর সাহায্যে ব্যবহারকারী চমৎকারভাবে একটি অনলাইন প্রোজেক্টের বা কোন পোর্টফলিও-এর ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবে। সংখ্যার দিক থেকে কম হলেও এর টেমপ্লেটগুলো অনেকখানিই কাস্টমাইজ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গুগল সাইটস-এর প্রধান একটি সমস্যা হলো এতে ব্লগ তৈরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি জন্য কোন ধরনের ফিচার দেওয়া নেই। ফলে এসকল ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি বা পরিচালনা করা গুগল সাইটস এর সাহায্যে অতটা সুবিধাজনক নয়। গুগল সাইটস-এ গুগলের অন্যান্য অ্যাপের মতো অটোসেভ-এর ফিচার থাকায় কাস্টমাইজেশন নষ্ট হওয়ারও সুযোগ নেই সহজে। এতে ভার্শন হিস্টোরি দেখারও সুযোগ থাকায় কি কি পরিবর্তন করা হয়েছে তাও সহজেই জেনে নেওয়া যায়। গুগল সাইটস ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী বিনামূল্যেই আনলিমিটেড স্টোরেজ ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। যা একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য খুবই সুবিধার একটি বিষয়। 

সুবিধাঃ

  • গুগলের সকল অ্যাপ সহজেই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
  • অনেক কাস্টমাইজেশন করার সুযোগ রয়েছে।
  • আনলিমিটেড স্টোরেজ রয়েছে।

অসুবিধাঃ

  • থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • মাত্র ৯ টি টেমপ্লেট এর বেশি ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির সুবিধা নেই।

ফ্রি এবং প্রিমিয়াম ওয়েবসাইট এর পার্থক্য

ফ্রি ওয়েবসাইট কথাটি শুনলেই হয়তো সকল ফ্রি ওয়েবসাইটকেই প্রচন্ড ধীরগতির, নিরাপত্তা বিহীন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কার্যত অনেক ক্ষেত্রেই ফ্রি এবং প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং সমান বা কাছাকাছি মানের নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইথ প্রদান করে থাকে। সাধারণত প্রিমিয়াম হোস্টিং-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্টোরেজ, অনেক ধরনের স্ক্রিপ্ট সাপোর্ট করা, অনেকগুলো ইমেইল একাউন্ট ব্যবহার করার মতো সুবিধা পাওয়া যায়। যেগুলো সাধারণত নতুন কোন ওয়েবসাইটের জন্য বা নতুন খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের জন্য অতটা প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও ওয়েবসাইটটি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বিস্তৃত হলে যে কেউ সহজেই ফ্রি ব্যবহার থেকে প্রিমিয়াম সার্ভিসে যেতে পারবে। অর্থাৎ কারো যদি প্রিমিয়াম সার্ভিসের বিশেষ প্রয়োজন না হয়, সে চাইলে সহজেই ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবে।

শেষকথা

বর্তমান সময়ে কোন কিছু প্রচার ও প্রসারের জন্য একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোন ওয়েবসাইট প্রথমেই প্রিমিয়াম প্ল্যান ব্যবহার করে খুলে ফেলাটা অনেক ক্ষেত্রেই বোকামি। এছাড়াও অনেকের পক্ষেই ওয়েবসাইটের জন্য বাড়তি খরচ করাটাও সহজ নয়। তাই এসকল ক্ষেত্রে আমাদের ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার প্লাটফর্মের প্রয়োজন হতে পারে। সেসব সময় এই লেখাটি আপনাদের যথাযথ ভাবে সাহায্য করবে বলে আশা করছি।

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) ফ্রি প্ল্যানের সাহায্যে তৈরি করা ওয়েবসাইট থেকে কি প্রিমিয়াম প্ল্যানে যাওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ। যেকোনো ওয়েবসাইটেই ফ্রি প্ল্যান থেকে প্রিমিয়াম প্ল্যানে যাওয়া যাবে।

২) ফ্রি প্ল্যান থেকে প্রিমিয়াম প্ল্যানে গেলে কি ওয়েবসাইট আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে?

উত্তরঃ ফ্রি প্ল্যান থেকে প্রিমিয়াম প্ল্যানে গেলে আপনি পূর্বের ওয়েবসাইটটিই ব্যবহার করতে পারবেন। এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিমিয়াম প্ল্যানের ফিচারগুলো যুক্ত করে নিতে পারবেন।

৩) ফ্রি ওয়েবসাইট থেকে কি টাকা উপার্জন করা যায়?

উত্তরঃ ব্লগারসহ অন্যান্য কিছু ওয়েবসাইটের ফ্রি প্ল্যানেই AdSense ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাইলে টাকা উপার্জন করতে পারবে। 

৪) ফ্রি ওয়েবসাইট কি এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে স্থানান্তর করা যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ। বিভিন্ন Plugin এর সাহায্যে কেউ চাইলে তার ওয়েবসাইটটিকে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে নিতে পারবেন। কিন্তু এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিশ্রম সাপেক্ষে একটি কাজ।

৫) ফ্রি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম কি পরিবর্তন করা যায়?

উত্তরঃ ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম একবার রেজিষ্ট্রেশন করা হয়ে গেলে আর পরিবর্তন করা যায় না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button