চাকরিপড়াশুনাপেশাশিক্ষা

প্রত্যয়ন পত্র কী? প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

নাগরিক জীবনে চলার পথে আমাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন পড়ে। নাগরিক, প্রাতিষ্ঠানিক অথবা সামাজিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকেই প্রত্যয়ন পত্রের ভূমিকা আছে। তবে এই প্রত্যয়ন পত্র সম্পর্কে অনেকের ধারণাই বেশ অস্পষ্ট। তাই  প্রত্যয়ন পত্র সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিয়ে এর প্রয়োজনীয়তা ও সংগ্রহের উপায় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে আজকের এই লেখাটিতে। 

সূচিপত্রঃ

প্রত্যয়ন পত্র কী? 

প্রত্যয় শব্দের আভিধানিক অর্থ আস্থা। প্রত্যয়ন পত্রের সাথেও ‘আস্থা’ জড়িত। মূলত প্রত্যয়ন পত্র হলো এমন একটি সনদ যার সাহায্যে কোনো ব্যাক্তির কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে সত্যায়িত করা হয়। যেমন চরিত্র। কোনো ব্যাক্তির চরিত্র সম্পর্কে অপর একজন গণ্যমান্য ব্যাক্তি প্রত্যয়ন করতে পারেন। অর্থাৎ কোনো ব্যাক্তির চরিত্র সুন্দর এই নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারেন। এই নিশ্চয়তা দেওয়াই হলো প্রত্যয়ন। আর এই প্রত্যয়ন করার উপায় হলো ‘প্রত্যয়ন পত্র’। প্রত্যয়ন পত্র সর্বদা প্রত্যয়নকারী প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যাক্তির নির্ধারিত প্যাডে হতে হবে। এতে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির স্বাক্ষর ও সিল থাকতে হবে। 

প্রত্যয়ন পত্রের একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। শৈশবে কোনো বিদ্যালয় পরিবর্তন করলে অথবা যেকোনো বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলে অবশ্যই আপনার একটি প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে। এতে আপনার ছাত্রত্ব ও চরিত্র সম্পর্কে কিছু ছকবাঁধা কথা লেখা থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিই একজন সাধারণ বাংলাদেশী নাগরিকের জীবনে প্রথম প্রত্যয়ন পত্র।

প্রত্যয়ন পত্রের ধরন

প্রত্যয়ন পত্র অনেক ধরনের হতে পারে। তবে নিচে কিছু বহুল প্রচলিত প্রত্যয়ন পত্রের ধরন উল্লেখ করা হলোঃ

  • চারিত্রিক সনদ
  • উত্তরাধিকার সনদ
  • জাতীয়তা সনদ
  • উপজাতি সনদ
  • বার্ষিক আয়ের সনদ 
  • মাসিক আয়ের সনদ 
  • বিবাহিত সনদ 
  • অবিবাহিত সনদ 
  • পুনঃবিবাহ সনদ
  • বেকারত্ব সনদ
  • ভূমিহীন সনদ 
  • এতিম সনদ 

এর বাইরেও আরো অসংখ্য ধরনের প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজন অনুসারে নানা ধরনের প্রত্যয়ন পত্রের চাহিদা প্রকাশ করে থাকে।

প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা

প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা শিক্ষা ও চাকরি জীবনেই সবচেয়ে বেশি। তবে এর বাইরে ব্যাক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও নানারকম প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

শিক্ষা জীবনে প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা

শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপেই প্রত্যয়ন পত্রের উপস্থিতি রয়েছে। বিদ্যালয় পরিবর্তন কিংবা কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো সাধারণ কাজেও প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র আবশ্যক। এর বাইরে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও কখনো কখনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হতে পারে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রত্যয়ন পত্রের উপস্থিতি না থাকলেও আবেদন করে তা পাওয়া যেতে পারে।

চাকরি জীবনে প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা

চাকরি জীবনেই প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই অন্তত দুইজন প্রথম শ্রেণীর চাকরিজীবী কর্তৃক আবেদনপত্র সত্যায়িত করা লাগে। অতঃপর চাকরিতে যোগদানের পূর্বে নানা ধরনের প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়। চাকরিভেদে যা ভিন্ন। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও প্রায় একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত চারিত্রিক, শারীরিক, মানসিক ও নাগরিক সনদের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট চাকরির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চাহিদা থাকলে সে সংক্রান্ত প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন পড়তে পারে। এছাড়া কোটার সাহায্যে চাকরি পেলে অবশ্যই সেই কোটার স্বপক্ষে এক বা একাধিক প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হয়।

নাগরিক ও সামাজিক জীবনে প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজনীয়তা

প্রাতিষ্ঠানিক তথা চাকরি জীবনের বাইরেও নাগরিক জীবনে অনেক ধরনের প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন জাতীয়তা সনদ। এটি এমন একটি প্রত্যয়ন পত্র যা আপনার জাতীয়তার প্রমাণে সহায়তা করবে। অর্থাৎ আপনি আদৌ বাংলাদেশের নাগরিক কি না তা প্রমাণে কখনো কখনো এই সনদের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য যে সকল সুবিধা রয়েছে তা পেতে হলেও প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন। যেমন মুক্তিযোদ্ধা ও এতিমদের সুবিধাসমূহ পেতে হলে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও এতিম সনদ থাকতে হবে। এছাড়াও উপজাতি সনদ, ভূমিহীন সনদ ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিক জীবনে নানা প্রকারের সুবিধা ভোগ করা যায়।

সামাজিক জীবনেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন বিবাহিত সনদ। বাংলাদেশের সমাজে সাধারণত কাবিননামা দেখিয়েই বিবাহিত প্রমাণ করা যায়। তবে এর বাইরেও চাইলে আলাদা করে বিবাহিত সনদ পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও পুনঃবিবাহ এমনকি অবিবাহিতদের জন্যও সনদের ব্যবস্থা রয়েছে।

এর বাইরেও নানা ভাবে নানা রকম প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন পড়তেই পারে। প্রয়োজন অনুসারে প্রত্যয়ন পত্র পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মুখাপেক্ষি হওয়া ছাড়া কিছু করার নেই।

প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনে করার নিয়ম

প্রত্যয়ন পত্র যেহেতু সবসময়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা কোনো গণ্যমান্য ব্যাক্তি থেকে নিতে হয় তাই এর জন্য লিখিত আবেদনের প্রয়োজন হতেই পারে। তার জন্য জানা চাই সঠিক উপায়ে আবেদনপত্র লেখার কৌশল। 

শিক্ষা জীবনের প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনের নিয়ম

আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে শিক্ষা জীবনের কথা। শিক্ষা জীবনে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোলেই আপনি আবশ্যিকভাবে একটি প্রত্যয়ন পত্র পাবেন। কিন্তু অন্য কোনো কারণে প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হলে দরখাস্ত লিখতে হবে। যার একটি নমুনা নিচে দেখানো হলোঃ

০২/০৯/২০২১

বরাবর,

প্রধান শিক্ষক,

‘ক’ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,

মিরপুর, ঢাকা।

বিষয়ঃ প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন। 

জনাব, 

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমেও আমার উপস্থিতি সরব। সেই ধারা বজায় রাখতেই আমি আগামি ‘বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড‘ এ অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমি আশা রাখি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে আমি এই প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবো। তবে উক্ত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র আমার বিশেষ প্রয়োজন।

অতএব, আমার আবেদনটি বিবেচনা করে আমাকে ‘বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড’ এ অংশগ্রহণের জন্য একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

আপনার বাধ্যগত ছাত্র,

‘খ’

চাকরি জীবনে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনের নিয়ম

শিক্ষা জীবনের পরে আসে চাকরি জীবন। চাকরিতে ঢোকার আগে থেকে শুরু করে চাকরির প্রতিটি পদোন্নতি, বদলির জন্য প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়। এমনকি পুরোনো চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরিতে ঢুকতে হলেও পুরোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ‘অনাপত্তি পত্র’ এর প্রয়োজন হয়। এটি এক ধরনের প্রত্যয়ন পত্র।

এটি পাওয়ার জন্য আবেদনের একটি নমুনা নিচে উপস্থাপন করা হলোঃ

০২/০৯/২০২১

বরাবর,

ম্যানেজিং ডিরেক্টর,

‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিস,

মতিঝিল, ঢাকা। 

বিষয়ঃ অনাপত্তি পত্র প্রদানের জন্য আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। আমি গত ২০ জুলাই, ২০২০ তারিখে আপনার প্রতিষ্ঠানে ‘অডিট অফিসার’ পদে যোগদান করি।  আমি বর্তমানেও সেই পদেই অধিষ্ঠিত আছি। আমার চাকুরীর চুক্তিপত্র অনুযায়ী আমাকে নূন্যতম ১ বছর ‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিসের চাকুরীতে বহাল থাকতে হতো। যার মেয়াদ গত ২০ জুলাই, ২০২১ তারিখে শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর আমি  ‘খ’ ব্যাংকে চাকুরীর ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ করি। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদের জন্য আমাকে নির্বাচিত করেছে। তবে এই চাকুরীতে যোগদানের পূর্বে আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে একটি অনাপত্তি পত্রের প্রয়োজন।

অতএব, আমার চুক্তির মেয়াদ পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে একটি অনাপত্তি পত্র প্রদান করলে বাধিত থাকবো। 

আপনার অনুগত,

‘অ’।

সামাজিক ও নাগরিক জীবনে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনের নিয়ম

শিক্ষা ও চাকরি বাদেও সামাজিক পর্যায়ে নানা রকম প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বহুল কাঙ্খিত হলো চারিত্রিক সনদ। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়ন পত্র।

নিচে চারিত্রিক সনদ চেয়ে করা একটি আবেদনের নমুনা দেওয়া হলোঃ 

০২/০৯/২০২১

বরাবর,

মাননীয় চেয়ারম্যান,

উপজেলা পরিষদ,

‘ক’ উপজেলা, বাগেরহাট। 

বিষয়ঃ চারিত্রিক সনদ প্রদানের আবেদন। 

জনাব, 

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি ‘ক’ উপজেলা এর ‘খ’ নং ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা। আমার নাম ……, বয়সঃ ….. পিতার নামঃ ……, মাতার নামঃ ……..। আমি কোনরকম অসামাজিক, অনৈতিক বা বেআইনী কাজের সাথে জড়িত নই। আমি আমার প্রতিবেশীদের সাথে সবসময় সুন্দর ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। আমি সর্বদা বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট রয়েছি। বর্তমানে আমার একটি চারিত্রিক সনদপত্রের বিশেষ প্রয়োজন। 

অতএব আমার আচার-ব্যবহার বিবেচনা করে আমাকে একটি চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

আপনার অনুগত,

‘অ’

সর্বোপরি প্রত্যয়ন পত্র অসংখ্য রকমের হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রত্যয়ন পত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আবেদন পত্রের উদাহরণ এখানে দেখানো সম্ভব নয়। তবে জীবনের তিনটি অংশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনের নমুনা এই লেখাতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ধাচের দরখাস্ত প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করে নিলে অনেক ক্ষেত্রেই তা যথার্থ হবে বলে আশা করি।

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

প্রত্যয়ন পত্র লেখা সাধারণ নাগরিকের কাজ নয়। পূর্বেই বলেছি, সাধারণত প্রত্যয়ন করার দায়িত্বটা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা গণ্যমাণ্য দায়িত্বশীল ব্যাক্তির উপরেই বর্তায়। তবুও এই লেখাতে প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখতে হয় তা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে। বোঝার সুবিধার্থে উদাহরণগুলো উপর উল্লিখিত প্রতিটি নমুনা আবেদনপত্রের সাথে মিল রেখে লেখা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্র প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, ‘খ’  বয়সঃ ……., পিতাঃ ……,  মাতাঃ ……. ‘ক’ বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্র। সে বিদ্যালয়ের সাধারণ পড়ালেখার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক। আমার জানামতে, তার কোনো চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি নাই। আমি তার সর্বাত্মক মঙ্গল ও সফলতা কামনা করি। 

প্রধান শিক্ষক 

‘ক’ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মিরপুর, ঢাকা।

চাকরি ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, জনাব ‘অ’, পিতাঃ ………  ‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিস এর একজন কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার যোগদানের তারিখ ২০ জুলাই, ২০২০। যোগদানের সময় তার পদবী ছিল ‘অডিট অফিসার’। অত্র প্রতিষ্ঠানে তার পরিচিতি নংঃ …….. । অত্র ২রা আগস্ট, ২০২০ তারিখে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। অব্যাহতি নেওয়ার সময় তার পদবী ছিল ‘অডিট অফিসার’। তিনি নিষ্ঠার সাথে ‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করেছেন। তার সম্পর্কে ‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিস এর কোনো অভিযোগ নাই।

আমি তার সর্বাত্মক মঙ্গল ও সফলতা কামনা করি।

ম্যানেজিং ডিরেক্টর 

‘ক’ কুরিয়ার সার্ভিস

মতিঝিল, ঢাকা।

সামাজিক ক্ষেত্র প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, ‘অ’  , পিতাঃ ……………, মাতাঃ ……………, গ্রাম/মহল্লাঃ ……………, ডাকঘরঃ ……………, থানাঃ ……………, ইউনিয়নঃ ……………, ওয়ার্ডঃ ……………, উপজেলাঃ …………… , জেলাঃ ……………। আমার নিকট সে ব্যাক্তিগত ভাবে পরিচিত। আমার জানা মতে সে কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত নয়। তার স্বভাব চরিত্র ভাল।

আমি তার সর্বাত্মক মঙ্গল ও সফলতা কামনা করি।

চেয়ারম্যান 

উপজেলা পরিষদ

‘ক’ উপজেলা, বাগেরহাট।

সরকারি প্রত্যয়নপত্র/সনদসমূহ 

সরকারি সনদ তথা প্রত্যয়ন পত্রসমূহ অসংখ্য ধরনের হতে পারে। তবে লেখার এই অংশে মূলত বাংলাদেশ সরকারের অনলাইনে প্রত্যয়ন পত্রসমূহ প্রদানের সেবা সম্পর্কে উল্লেখ করে হয়েছে। তবে উল্লেখ্য যে, অনলাইনে প্রত্যয়ন পত্র প্রদানের সেবাটি দেশের সকল অংশের জন্য এখনো তৈরি হয় নি।

অনলাইন সেবার আওতায় রয়েছে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। রয়েছে ১০ টি পৌরসভা। সেগুলো হলোঃ বোয়ালমারী পৌরসভা, নগরকান্দা পৌরসভা, হারাগাছ পৌরসভা, হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভা, বোদা পৌরসভা, রামগতি পৌরসভা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, আমতলী পৌরসভা, ঝিনাইদহ পৌরসভা। এছাড়া ইউনিয়ন হিসেবে বর্তমানে এই সেবার আওতায় আছে, মরজাল ইউনিয়ন, রামজীবন ইউনিয়ন, ৯নং কান্দি ইউনিয়ন, চরগাজী ইউনিয়ন, নোয়াখলা ইউনিয়ন, কমলছড়ি ইউনিয়ন, চিত্রকোট ইউনিয়ন, ৪ নং কালচোঁ (দঃ) ইউনিয়ন, বোয়ালমারী ইউনিয়ন, বারইখালী ইউনিয়ন। এই সকল অঞ্চলের বাংলাদেশী নাগরিকেরা চাইলে অনলাইনে সরকারি প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে যেসব প্রত্যয়ন পত্র অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে তার একটি ছবি নিচে দেওয়া হলো।সরকারি প্রত্যয়নপত্র/সনদসমূহ 

সরকারি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য আবেদনের উপায়

সরকারি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য প্রথমেই চলে যেতে হবে নির্ধারিত সাইটঃ https://prottoyon.gov.bd/ । এই সাইটটিতে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন তারা কি কি সেবা দেয়। তবে এর সেবা নিতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে এই সাইটে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ ফ্রি। একাউন্ট খুলতে সাইটের উপরে বাম দিকের অংশে ‘ফ্রি একাউন্ট খুলুন’ বাটনে চাপ দিলেই দুটি অপশন আসবে। সাধারণ জনগনের নাগরিক ও কর্তৃপক্ষের লোকজনের জন্য প্রশাসনিক একাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে।সরকারি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য আবেদনের উপায়‘নাগরিক’ বাটনে চাপ দিলেই আপনি চলে যাবেন পরবর্তী পেজে। সেখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে খুলতে পারবেন একাউন্ট।সরকারি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য আবেদনের উপায়ঃ ২উল্লেখ্য যে জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলেও একাউন্ট খোলা যাবে। সেক্ষেত্রে আপনার নাম ইংরেজিতে ও বাংলায় পূরণ করতে হবে। একটি ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। অতঃপর একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করে তা নিশ্চিত করতে হবে। সব শেষে একটি ক্যাপচা কোড পূরণ করে নিবন্ধন করতে হবে।সরকারি প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার জন্য আবেদনের উপায়ঃ ধাপ-৩একাউন্ট খোলার পর আপনি চাইলে অনলাইনে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে একাউন্টে লগইন করুন। অতঃপর সাইটের সেবাসমূহ ড্রপ ডাউন মেনুতে ক্লিক করে যেই সনদটি চান তা নির্ধারণ করুন। সনদের জন্য আবেদন করতে আপনার নানা ধরনের তথ্যের প্রয়োজন পড়বে। যেমন উত্তরাধিকার সনদের জন্য আবেদন করতে হলে আপনার প্রয়োজন পড়বেঃ

  • আপনার ছবি 
  • আপনার ভোটার আইডি
  • আপনার পিতা মাতার নাম
  • আপনার বর্তমান ঠিকানা
  • আপনার স্থায়ী ঠিকানা
  • মৃত ব্যক্তির বিবরণ
  • ওয়ারিশ গণের বিবরণ

কিন্তু চারিত্রিক সনদের জন্য আবেদন করতে প্রথম ৫টি তথ্যই যথেষ্ট। অর্থাৎ কি কি তথ্যের প্রয়োজন পড়বে তা আবেদনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে। ফলে আবেদন করার প্রক্রিয়াও ভিন্নরুপ হবে। তবে সকল আবেদনেই সনদপত্রের ভাষা, সরবরাহের মাধ্যম, প্রয়োজনীয়তার মাত্রা ও সেবা খরচ পরিশোধের মাধ্যম নির্ধারণ করার উপায় থাকবে। উল্লেখ্য যে, আবেদন ফি পরিশোধের জন্য বিভিন্ন ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। টাকা প্রদান সফল হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার আবেদনটি চলে যাবে। অতঃপর তারা আবেদনটি অনুমোদন করে দিলে আপনি আপনার প্রত্যয়ন পত্রটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সরকারি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের উপায়

সরকারি প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহের দুইটি উপায় রয়েছে। মূলত আপনার আবেদনের সময়েই উপায়টি নির্ধারণ করে দিতে হবে। যদি আপনি সশরীরে পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রত্যয়ন পত্রটি সংগ্রহ করতে চান সেক্ষেত্রে তা নির্ধারণ করে দেবেন। যদি ডাকযোগে পেতে চান তবে তা নির্ধারণ করবেন। তবে ডাকযোগে পেতে সময় একটু বেশি লাগবে। মনে রাখতে হবে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে তবেই শুধু আপনি তা সংগ্রহ করতে পারেন। আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে সাইটের ‘আবেদনের অবস্থান জানুন’ ট্যাবে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার আবেদনের আইডি নং প্রবেশ করিয়ে ‘খুঁজুন’ বাটনে চাপ দিলেই আপনার আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন। যদি প্রত্যয়ন পত্রটি জরুরী দরকার হয়ে থাকে তবে কাউন্সিলর বা চেয়ারম্যানের অফিসে সরাসরি ফোন করে অনুরোধ করতে পারেন।সরকারি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের উপায়

শেষকথা 

প্রত্যয়ন পত্র সম্পর্কে নানা অপষ্ট ধারণা আশা করি এই লেখার পড়ার পরে কেটেছে। প্রত্যয়ন পত্র আমাদের জীবনের খুবই সাধারন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু। সঠিক সময়ে সঠিক প্রত্যয়ন পত্র না থাকলে হতে হবে অনেক ঝামেলার সম্মুখীন। তাই সঠিক সময়ে সঠিক প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদনে হতে হবে সচেষ্ট।

অনবরত জিজ্ঞসিত প্রশ্নাবলী 

১) প্রত্যয়ন পত্র উঠানোর জন্য কি আমাকে কোনো ফি দিতে হবে?

উত্তরঃ এটি নির্ভর করবে আপনি কোথা থেকে প্রত্যয়ন পত্র উঠাচ্ছেন। যদি চাকুরিরত প্রতিষ্ঠান থেকে উঠান তাহলে এমন কিছু লাগবে না। কিন্তু সরকারি প্রত্যয়ন পত্র উঠাতে হলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। যদিও তার পরিমাণ খুব অল্প। 

২) ‘প্রত্যয়ন’ এর সাইট থেকে কি সনদের সফট কপি নামাতে পারবো?

উত্তরঃ জ্বি, পারবেন।

৩) ‘প্রত্যয়ন’ এর অনলাইন সেবা সারা দেশে কবে নাগাদ পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই।

৪) আমি কি কাউকে প্রত্যয়ন পত্র দিতে পারবো?

উত্তরঃ আপনার পদবী ও আপনি কি প্রত্যয়ন পত্র দেবেন তার উপর এর উত্তর নির্ভর করবে। আপনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হলে অবশ্যই পারবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সরকারি প্রত্যয়ন পত্র দিতে পারে না। 

৫) সরকারি সনদ যাচাই এর কোনো উপায় আছে কি?

উত্তরঃ প্রত্যয়ন অনলাইন সেবা থেকে প্রাপ্ত সনদগুলো যাচাই এর জন্য আপনি এর সাইটে গিয়ে ‘সনদ যাচাইকরণ’ বাটনে ক্লিক করলেই সনদ যাচাই এর উপায় পাবেন। এক্ষেত্রে আপনার সনদটি আবেদনের আইডি নং অথবা সনদ নং এর প্রয়োজন পড়বে। 

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

2 কমেন্ট গুলো

  1. আমরা ৬ ভাই বোন, আমাদের সবার আইডি কর্ডে বাবার নাম দেওয়া আঃহক গাজী।কিন্তু আমার মায়ের আইডি কার্ডে আমার বাবার নাম দেওয়া গাজী আঃ হক।যেহেতু আমার বাবা মৃত তাই এই নাম সংশোধন করা সম্ভব না। এখন আঃ হক গাজী এবং গাজী আঃ হক যে একই ব্যাক্তি সেটা প্রমাণের জন্য আমি কি প্রত্যয়ন পএ নিতে পাড়ি,এবং সেটা কোথায় গেলে পাব।

    1. প্রত্যয়ন পত্রের ব্যাপারে প্রাথমিক ভাবে আপনার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির সাথে কথা বলে দেখুন৷
      Progress Bangladesh এর সাথেই থাকুন।
      ধন্যবাদ। 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button