গাড়িযানবাহন

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু গাড়ির মডেল ও দাম

বাংলাদেশের অটো-মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে খুবই লাভজনক একটি ব্যবসাক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অলরেডী তৃতীয় অবস্থান অধিকার করে নিয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রি লিঃ দেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে পুরাতন গাড়ি তৈরীর কারখানা। Bikroy.com- এর একটি সাম্প্রতিক তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায় যে, বর্তমানে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান, মিতসুবিশি এবং হুন্ডাই ব্রান্ডগুলো বাংলাদেশের পুরো গাড়ির বাজার দখল করে আছে।

বেশিরভাগ ক্রেতার টয়োটার গাড়ি কেনার প্রতি আগ্রহী থাকার কারণ এর তুলনামূলক কম দাম, স্থায়ীত্ব, পার্টস-এর সহজল্ভ্যতা এবং ক্রেতাদের নানা ধরণের চাহিদার সাথে মানানসই এর বিভিন্ন সাইজের এবং ডিজাইনের মডেল। টয়োটার গাড়ির কালেশনের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার, বিজনেস পারপাস কার এবং সেই সাথে নতুন জেনারেশনদের চাহিদার সাথে মানানসই কার। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশের সমগ্র গাড়ি ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ ই টয়োটা ব্রান্ডের গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন। টয়োটার যেসব মডেলগুলা রাস্তাঘাটে হর-হামেশাই দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে- টয়োটা প্রিমিও, টয়োটা করলা, টয়োটা নোয়াহ, টয়োটা এলিয়ন, টয়োটা এক্সিয়, টয়োটা প্রোবক্স, টয়োটা ফিল্ডার এবং টয়োটা বেল্টা।

দেশে জনপ্রিয়তার দিক থেকে টয়োটার পরে আসে জাপানিজ পাব্লিক মাল্টিন্যাশনাল কনগ্লোমরেট কোম্পানির তৈরি হোন্ডা গাড়ির। যেসব ক্রেতাদের কাছে গাড়ি কেনার সময় অন্য যেকোন কিছুর থেকে সবচেয়ে বেশি জরুরী হচ্ছে সুরক্ষা, আরামদায়কতা তারাই মূলত আগ্রহী হোন হোন্ডার গাড়ি কেনার প্রতি। পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দেশের গাড়ি ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৭ ভাগ বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের হোন্ডা গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন।দেশে সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত হোন্ডা মডেলটি হচ্ছে হোন্ডা এয়ারওয়েভ।

বাংলাদেশে তৃতীয় জনপ্রিয় গাড়িগুলো হচ্ছে নিসান ব্যান্ডের। শতকরা প্রায় ৬ ভাগ ক্রেতারা নিসানের গাড়ি ব্যবহারকারী করছেন বর্তমানে। নিসানের গাড়ি গুলোর একই সাথে স্টাইল, ফুয়েল ইকোনমি, সুরক্ষা, রিলায়েবিলিটি এবং কাটিং-এজ অটোমোটিভ টেকনোলজি থাকায় দাম টা অন্যান্য ব্রান্ডের তুলনায় একটু বেশিই পরে যায়। সবচেয়ে বেশি নিসানের যেই মডেলটির প্রচলন দেখা যায় তা হচ্ছে নিসান পালসার। দেশের গাড়ি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অন্যান্য যেসব গাড়ির ব্যবহার দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, মিতসুবিশি এবং হুন্ডাই যা উভয়েই প্রায় ৫% করে। বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট সম্পর্কে আরো ধারণা নেওয়ার জন্য দেখে নিন ২০১৮ এর পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের গাড়ির মার্কেট

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত গাড়িঃ

গাড়ির বাজার Bikroy.com

টয়োটা করলাঃ  

টয়োটা করলা,  যা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয় বরং সমগ্র বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত গাড়ি। এটি সর্বপ্রথম বাজারে আসে ১৯৬৬ সালের নভেম্বর মাসে এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যে এটি টয়োটার অন্য সকল গাড়ির তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার রেকর্ড তৈরি করে। করলা শব্দটি , একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ ‘’ছোট মুকুট”। টয়োটা করলার প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ১০ লাখ টাকা থেকে।

অন্যান্য স্পেশিফিকেশন এবং মডিফিকেশনের উপর নির্ভর করে দামের তারতম্য লক্ষ করা যায়। টয়োটা করলা কেনার পেছনে ক্রেতাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য থাকে এর তুলনামূলক কম দাম। যেসব ক্রেতাগণ একটু সাশ্রয়ী, স্পেশাস ইন্টিরিয়র এবং যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম খোজেন তাদের জন্য টয়োটা করলা অত্যাবশ্যকীয় একটি অপশন। ক্র্যাশ টেস্টে বরাবর-ই হাই স্কোর করা করলা কার লাইন, তার যাত্রীদের সর্বদা ইনসিওর করে হাই এন্ড সেইফটি। রিপেয়ারিং পার্টস এর সহজল্ভ্যতা এবং সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে করলার পর্যাপ্ত চাহিদা, টয়োটা করলা কেনার প্রতি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে থাকে।

টয়োটা নোয়াহঃ

টয়োটা করলার পরে টয়োটার-ই  আরেকটি মডেল যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রাস্তাঘাটে, সেটা হচ্ছে, টয়োটা নোয়াহ। এটি বাজারে প্রথম আসে ২০০১ সালে। টয়োটা নোয়াহ মূলত মিনিভ্যান টাইপ গাড়ি এবং যদিও এটি বাজারে এসেছে প্রায় ১৮ বছর হয়ে গেছে তবুও ক্রেতাদের মাঝে এখনো নোয়াহ এর চাহিদা আগের মতই।  এর পেছনের অন্যতম কারণটি হচ্ছে এর রিস্ট্রাকচারিং এবং প্যাসেঞ্জার-ফ্রেন্ডলি। বলতে গেলে নোয়াহ হচ্ছে টয়োটা লাইট এইস কারের আপডেটেড ভার্সন। ফ্যামিলির সব সদস্যের সাথে দূরের আরামদায়ক জার্নির জন্য ট্রান্সপোর্ট হিসেবে টয়োটা নোয়াহ বেস্ট অপশন। এর প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ২০ লক্ষ টাকা থেকে ।

টয়োটা এলিয়নঃ

টয়োটা এলিয়ন বাংলাদেশে বিক্রিত তৃতীয় সর্বোচ্চ সিডান কার। এটি বাজারে প্রথম আসে সাল ২০০১ এ। টয়োটা এলিয়নের একটি অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে এর এবং টয়োটা প্রিমিও-এর ইঞ্জিন একই যা হচ্ছে – ১এন জেড-এফ ই (1NZ-FE)। এলিয়নের আরামদায়ক এবং গাড়ির ভেতরের বিলাসবহুল ইন্টিরিয়র খুব সহজেই যেকোন ক্রেতার নজর কাড়ে অন্যান্য ব্রান্ডের গাড়িগুলোর তুলনায়। এর প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ২০ লক্ষ থেকে। তবে দামে তারতম্য দেখা যায় গাড়ির রঙ এবং অন্যান্য আনুষাঙিক বিষয়াদির উপর ভিত্তি করে।  

টয়োটা প্রবোক্সঃ

টয়োটা প্রবোক্স, যেটা মূলত ৪ সিট এবং ৫ দরজার লাইট কমার্শিয়াল বেহিক্যাল টাইপ, প্রথমবারের মত বাজারে আসে ২০০২ সালে। এটি বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকায় টয়োটা এর অন্যতম একটি মডেল যা রাস্তাঘাটে সচরাচর দেখা যায়। প্রবোক্স লাইনের গাড়িগুলো ফ্যামিলি ভ্যান ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এর এক্সিলারেশন এবং হাই পারফরমেন্স যা একে করে তোলে অন্যান্য গাড়িদের থেকে আলাদা। টয়োটা প্রবক্স, অফিসের লোকজনের যাতায়াত এবং বেশি সদস্যের পরিবারের যাতায়াতের কাজে বেশি ব্যবহ্রত হতে দেখা যায়। এর প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ৭ লক্ষ টাকা থেকে।

টয়োটা বেল্টাঃ

টয়োটা বেল্টা প্রধানত একটি কম্প্যাক্ট সিডান কার যেটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোয় টয়োটা ভায়োস নামে এবং টয়োটা ইয়ারিস নামে আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মার্কেটে বহুল পরিচিত। বেল্টা বাজারে প্রথম আসে ২০০৬ সালে। টয়োটা বেল্টার জনপ্রিয়তা লাভের প্রধান কারণ হচ্ছে এর ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন, জ্বালানি সুরক্ষা,ডুরেবল সাসপেনশন যার ফলস্বরুপ বেল্টা নিশ্চিত করে স্মুথ রাইড, তারপরে এর প্রিমিয়াম এবং রাজকীয় ইন্টিরিয়র, হ্যান্ডফুল টেকনোলজি ফিচার, জোরালো সেইফটি পারফোর্মেন্স,ইলেকট্রিক কন্ট্রোল, ফুল ইকুইপড এয়ারব্যাগ এবং এর আকর্ষণীয় দাম। বেল্টা সিরিজের প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ৮ লক্ষ টাকা থেকে।

হোন্ডা এয়ারওয়েভঃ

হোন্ডা এয়ারওয়েভ হচ্ছে হোন্ডা ব্রান্ডের একটি সাব-কমপ্যাক্ট গাড়ি যা ম্যানুফ্যাকচার করে জাপানিজ অটোমেকার কোম্পানি “হোন্ডা”। এটি বাজারে প্রথম আসে ২০০৫ সালে। এই স্টেশন ওয়াগনটি ফার্স্ট জেনারেশন সিটি/ফিট এরিয়া-এর আপডেটেড ভার্সন। ক্রেতাদের কাছে এর কদর রয়েছে এর স্টাইলিস লুক, এডভ্যান্স টেকনোলজিক্যাল ফিচার এবং ইঞ্জিনের হাই পারফোর্মেন্সের জন্য। হোন্ডা এয়ারওয়েভের প্রাইস রেঞ্জ শুরু হয় ৯ লক্ষ টাকা থেকে।

মিতসুবিশি পাজেরোঃ

মিতসুবিশি পাজেরো মিতসুবিশি ব্যান্ডের অন্য সকল গাড়ির মডেলের থেকে তুলনামূলক বেশি দেখা যায় বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাটে। পাজেরো মিতসুবিশি তৈরি একটি ফুল সাইজ স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিক্যাল যা স্পোর্টস প্রেমিদের মাঝে বহুল জনপ্রিয়। গাড়ির সাথে ক্রেতা আরো পান ৫ বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা, এক্সিলারেশন, মিডিয়াম থেকে হাই ফুয়েল কন্সাম্পশন সুবিধা এবং বহু সদস্যের পরিবারের জন্য একটি আলটিমেট ট্রান্সপোর্ট। অনেক সুবিধার সমারোহ বলে পাজেরোর  দাম তুনলামূলক একটু বেশি যা শুরু হয় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা থেকে।

মিতসুবিশিকোল্টঃ

মিতসুবিশি কোল্ট , মিতসুবিশি মোটর্স এর নেদারল্যান্ডের ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টে তৈরি, একটি সুপার মিনি সাইজের গাড়ি । এটি প্রথমবার বাজারে আসে সাল ১৯৬২ তে। কোল্ট মিতসুবিশি ব্যান্ডের তৈরি অন্যান্য সব গাড়ির থেকে অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে বেশি ইউজার-ফ্রেন্ডলি এবং কমফর্টেবল প্যাসেঞ্জার কার।  মিতসুবিশি কোল্টে আরো থাকে সিডি প্লেয়ার যার সাথে থাকে স্ট্যান্ডার্ড এম পি থ্রী কানেক্টিভিটি, ইলেকট্রিক জানালা এবং কি লেস এন্ট্রি।

আশা করছি, এই আর্টিকালটি আপনাকে আপনার দরকারের সাথে মানানসই গাড়িটি কেনার সময়কার সকল দ্বিধা দূর করতে সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে।

সেই সাথে আপনি নতুন বা ব্যবহৃত গাড়ি কিনতে চাইলে ভিসিট করুন Bikroy.com। এখানে  আপনি পাবেন নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির এ সকল বেস্ট ডিলের ইন্স্যান্ট সন্ধান। 

ধন্যবাদ Bikroy.com কে আমাদের সাম্প্রতিক গাড়ির মার্কেটের তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে এই আর্টিকেল টি লিখতে সাহায্য করার জন্য।

Leave a Reply

Back to top button