চিকিৎসাস্বাস্থ্য

ডোপ টেস্ট কি? ডোপ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

বর্তমানে পুরো বিশ্বেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির প্রকোপ বাড়ছে খুব দ্রুত। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা কোন কোন ক্ষেত্রে যেমন মাদকের সাহায্যে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করছে আবার কিছু ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির ফলে নিজের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে সমাজের বোঝাতে পরিণত হচ্ছে। তাই বিশ্বের সকল দেশেই বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট করার নিয়ম চালু রয়েছে।  এ রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারও বেশ কিছুদিন ধরে বেশকিছু শ্রেণী ও পেশার মানুষের ডোপ টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে। এতে করে অনেকগুলো পেশায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। তাই আজকে এখানে ডোপ টেস্ট এর ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

সূচিপত্রঃ

ডোপ টেস্ট কি?

ডোপ টেস্ট বা ড্রাগ টেস্ট হলো কোন প্রাণীর শরীরের কোন অংশের নমুনা থেকে ঐ প্রাণীর শরীরে কোন নির্দিষ্ট মাদকের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। কখনো কখনো কোন খেলোয়াড় বা খেলায় অংশ নেয়া অন্যান্য প্রাণীর (যেমন-কুকুর, ঘোড়া) কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকারের ড্রাগ ব্যবহার হয়ে থাকে। ফলে তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো ফলাফল করে। এছাড়াও কখনো ছাত্রছাত্রীরা, বিভিন্ন চাকরীক্ষেত্রের কর্মজীবীরাও মনোযোগ ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন ড্রাগ সেবন করে। যেগুলোর পরবর্তী ফলাফল প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভয়াবহ। সেকারণে এসকল মাদকের ব্যবহার প্রায় সকল দেশেই আইনত দন্ডনীয়। তাই ড্রাগ বা মাদক সেবনকারীদের সনাক্ত করার জন্য পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই ব্যবহৃত পদ্ধতিকে ডোপ টেস্ট বা ড্রাগ টেস্ট বলা হয়।

বাংলাদেশে ডোপ টেস্ট

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ডোপ টেস্ট করার নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ডিএনসি (Department of narcotics control) ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে খসড়া প্রণয়ন করে ফেলেছে। এখন এটি শুধু বাস্তবায়নের পালা। বলা বাহুল্য, এদেশে এখনো কোনো ডোপ টেস্ট বিষয়ক নীতি নেই। তাই এব্যাপারে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে। প্রণয়ন করা খসড়ায় উল্লেখিত ডোপ টেস্ট করা বিষয়ক অনেকগুলো নীতি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর এব্যাপারে গ্যাজেট প্রকাশ করা হবে এবং তারপর আইনটি কার্যকর করা হবে।

বাংলাদেশে কাদের ডোপ টেস্ট করানো হয়?

ডিএনসি এর খসড়ায় উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন চাকরি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট এর ফলাফল গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এগুলো হচ্ছে:

  • চাকরিক্ষেত্রে: সরকারি, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সকল চাকরিতে প্রবেশের জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেটের পাশাপাশি ডোপ টেস্টের সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়াও এসকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদেরও যেকোনো সময় সন্দেহের কারণে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেয়া হতে পারে।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য: ড্রাইভিং লাইসেন্স করার বা নবায়ন করার সময় মেডিকেল সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি ডোপ টেস্ট নেগেটিভ এর সার্টিফিকেট ও প্রয়োজন হবে। 
  • শিক্ষাক্ষেত্রে: বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যও ডোপ টেস্ট ফলাফল পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
  • বিদেশ ভ্রমণে: বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য বা শিক্ষার উদ্দেশ্য অন্য কোন দেশে যেতে হলে ডোপ টেস্ট এর ফলাফল প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
  • অস্ত্রের লাইসেন্স করতে: অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে অস্ত্র লাইসেন্স করিয়ে নিজের কাছে রাখে। অস্ত্র ভুল মানুষের হাতে পরলে তা বিপজ্জনক হতে পারে। সেকারণে অস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ডোপ টেস্ট করার নিয়ম চালু করা হবে।

ডোপ টেস্টের সময় পরীক্ষিত ড্রাগস

বাংলাদেশে ডিএনসি এর প্রণীত খসড়া অনুযায়ী ডোপ টেস্টে নির্দিষ্ট কিছু ড্রাগ পরীক্ষা করা হবে। এসকল ড্রাগ এর রাসায়নিক উপাদান কারো দেহে পাওয়া গেলে তার ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। এখানে  ড্রাগগুলোর তালিকা দেয়া হলোঃ

১) অপিওইডস (Opioids):  এই ধরনের মাদকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হেরোইন, মরফিন, কডেইন। 

২) মেথামফেটামিন (Methamphetamine): এটি মুলত ইয়াবা-এর মূল উপাদান। মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইন মিশ্রিত করে ইয়াবা তৈরী করা হয়।

৩) ক্যানাবিওনিডস (Cannabionids): এধরণের মাদকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গাঁজা বা মারিজুয়ানা, ক্যান্নাবিস, হাশিস।

৪) বেনজোডায়াজেপাইনস (Benzodiazepines): এর মাঝে উল্লেখযোগ্য মাদক হচ্ছে ডায়াজেপাম, ক্লোনাজেপাম, মিডাজোলাম।

৫) অ্যালকোহল: ডোপ টেস্টে ইথাইল অ্যালকোহল পরীক্ষার মাধ্যমে সকল প্রকার মদ ও মদজাতীয় পদার্থ সনাক্ত করা হবে।

ডোপ টেস্ট করার পদ্ধতি

বিভিন্ন মাদক প্রানীদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করে। তাই কোন মানুষ বা প্রাণীর দেহের কোন অংশ পরীক্ষা করে ঐ রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি সনাক্ত করে ঐ ব্যক্তি ঐ নির্দিষ্ট মাদক গ্রহণ করে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ডোপ টেস্ট করার জন্য প্রথমেই কোন ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের কোন অংশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা হিসাবে সাধারণত মূত্র, রক্ত, লালা, চুল, ঘাম ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। মুত্র ও রক্ত ব্যবহার করাটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে হরমোন ও স্টেরয়েডও পরীক্ষা করা হতে পারে। 

ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাদকের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়ঃ

প্রাথমিক পরীক্ষা

বেশিরভাগ দেশেই সাধারণ ডোপ টেস্টের জন্য প্রাথমিক পরীক্ষায় মূত্র থেকে মাদকের উপস্থিতি সনাক্ত করার বানিজ্যিকভাবে তৈরী টেস্ট কিট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। টেস্টগুলো করার সময় সাধারণ ল্যাবরেটরিগুলো বেশকিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির নির্দিষ্ট মান ব্যবহার করে। টেস্টের ফলাফল ঐ মানের নিচে আসলে তাকে ডোপ নেগেটিভ ধরা হয়। এবং ফলাফলের মান তার চেয়ে বেশী আসলে তাকে ডোপ পজিটিভ ধরা হয়। প্রথম পরীক্ষায় অনেক সময়ই মাদক গ্রহণ না করলেও ডোপ পজিটিভ আসতে পারে। এর কারণ সাধারণত বিভিন্ন ঔষধ সেবন বা অন্য কোন শারীরিক গঠন। এগুলোর ফলে দেহে তৈরী হওয়া নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থের কারণে বেশকিছু ড্রাগ সনাক্তকরণ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। তাই প্রাথমিক টেস্টটিকে সাধারণত অনুমান হিসেবে ধরা হয়। 

দ্বিতীয় পরীক্ষা

প্রাথমিক টেস্টের ফলাফল এক বা একাধিক রাসায়নিকের ক্ষেত্রে পজিটিভ আসলে আরেকটি টেস্ট করা হয়। যেটি তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক টেস্টের চেয়ে নির্ভুল ও কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এই টেস্টের সাহায্যে ঐ ব্যক্তির দেহে কোন নির্দিষ্ট মাদকের ফলে সৃষ্ট রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে কিনা তা জানা যায়। এবং ঐ ব্যক্তি মাদকাসক্ত কিনা তা সনাক্ত করা যায়।

ডোপ টেস্ট যেভাবে করাবেন

ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়ে ডিএনসি এর খসড়া অনুযায়ী যদি কারো ডোপ টেস্ট করানোর প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে তাকে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিতে হবে। ফরমে নমুনা প্রদানকারী ব্যাক্তিকে নাম, পিতার নাম সহ ১৯ ধরনের তথ্য দিতে হবে। এরপর ঐ ব্যক্তির দেহের জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করা হবে। নমুনা হিসেবে মূত্র, রক্ত, ঘাম, নখ, প্রশ্বাসের বাতাস, মুখের লালা অথবা মানব দেহের যেকোনো অংশ বা অঙ্গ বা দেহ তরল সংগ্রহ করা হবে। টেস্টের পর নমূনাসমূহ নূন্যতম ৬ মাস সংরক্ষণ করা হবে। ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় ফি সরকার নির্ধারণ করবে। 

ডোপ টেস্টে কাদের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে?

ডোপ টেস্টের প্রাথমিক টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসার অর্থ যে ঐ ব্যক্তি মাদকাসক্ত তা সকল ক্ষেত্রে সত্যি নয়। প্রাথমিক টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসলে তা ব্যক্তির দেহে ঐ মাদকের মতো একই রাসায়নিক উপাদান উপস্থিত আছে তা বোঝায়। এটি শারীরিক গঠন, কোন ঔষধ সেবন সহ অনেক কারণেই হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের পর পজিটিভ আসা সরাসরি মাদকাসক্তি নির্দেশ করে। অর্থাৎ ডোপ টেস্টের দুটি টেস্টেই পজিটিভ ফলাফল আসলে ঐ ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু দিনের মাঝেই কোন নির্দিষ্ট মাদক গ্রহণ করেছে বলে ধরা হয়। তাই যারা ডোপ টেস্টের নির্দিষ্ট সময় পূর্বে কোন মাদক গ্রহণ করে, তাদের ডোপ টেস্টের দ্বিতীয় টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসে।

ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসলে কি হতে পারে?

কারো ডোপ টেস্টের ফলাফল যদি পজিটিভ আসে ঐ ব্যক্তিকে মাদকাসক্ত বলে ঘোষণা করা হবে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকারের কোন কর্মচারী যদি মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে ঐ কর্মচারীকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ ধারায় শাস্তি দেয়া হবে।

যেসকল মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে ডোপ টেস্ট করানো হয়

আমাদের পরিচিত বিভিন্ন নামের মাদকগুলো প্রতিটিই কোন না কোন মাদকের শ্রেণীর অংশ। এখানে পরিচিত বেশ কিছু মাদকের শ্রেনী ও তার অন্তর্ভুক্ত মাদকের নাম উল্লেখ করা হলোঃ

মাদকের শ্রেনী মাদকের নাম
অ্যামফেটামিনমেথামফেটামিন, অ্যামফেটামিন
বারবিট্রেটসফেনোবারবিটাল, সেকোবারবিটাল, পেন্টোবারবিটাল, বাটালবিটাল, অ্যামোবারবিটাল
বেঞ্জোডিয়াজেপাইনডায়াজেপাম, লোরাজেপাম, অক্সাজেপাম, টেমাজেপাম, আলপ্রেজোলাম
ক্যানাবিওনিডসমারিজুয়ানা, হাশিস, ক্যান্নাবিস
কোকেনকোকেন
মেথডোনমেথডোন, ইডিডিপি
অপিওইডসকোডিন, মরফিন, হেরোইন, অক্সিডোডন, অক্সিমোরফোন, হাইড্রোকডোন, হাইড্রোমোরফোন
ফেনসাইক্লাইডিনপিসিপি
হ্যালুসিনোজেনএলএসডি, কেটামিন, মেসকালিন

প্রাণীদেহে মাদকের অবস্থানের সময়

মাদকের কার্যকারিতার দিক থেকে মাদক প্রাণীদেহে কাজ করার সময় যেমন সকল মাদকের সমান নয়। তেমনি মাদকের দেহে অবস্থান করার সময়ও প্রায় প্রতিটি মাদকের আলাদা। মাদকের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মাদকের কিছু রাসায়নিক অংশ দেহে থেকে যায়। কোন মাদকের ক্ষেত্রে সেটি কয়েক দিন হতে পারে, আবার কোনটির ক্ষেত্রে কয়েক মাসও হতে পারে। এখানে মাদক ভেদে কোন মাদক সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত দেহে অবস্থান করতে পারে তার তালিকা দেয়া হলোঃ

মাদকের শ্রেণীমাদকের নামমূত্র চুলরক্ত লালা 
ক্যানাবিওনিডসমারিজুয়ানা৩০ দিন৯০ দিন৪ ঘন্টা৭২ ঘন্টা
কৃত্রিম মারিজুয়ানা৭২ ঘন্টা৯০ দিন৪৮ ঘন্টা৪৮ ঘন্টা
অপিওইডমরফিন৩ দিন৯০ দিন৩ দিন৩ দিন
কোডিন৩ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা৪ দিন
হেরোইন৩ দিন৯০ দিন৬ ঘন্টা১ ঘন্টা
হাইড্রোকডোন৪ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা৩৬ ঘন্টা
মেথাডোন১২ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা১০ দিন
অক্সিকডোন৪ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা৪ দিন
ট্রামাডল৭২ ঘন্টা৯০ দিন৪৮ ঘন্টা৪৮ ঘন্টা
বেঞ্জোডিয়াজেপাইনডায়াজেপাম৬ সপ্তাহ৯০ দিন৪৮ ঘন্টা১০ দিন
আলপ্রেজোলাম৪ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা২ দিন
লোরাজেপাম৬ দিন৩০ দিন৩ দিন৮ ঘন্টা
টেমাজেপাম৬ সপ্তাহ ৯০ দিন২৪ ঘন্টা২৪ ঘন্টা
হ্যালুসিনোজেনএলএসডি৪ দিন৯০ দিন১২ ঘন্টা———–
পিসিপি৪ সপ্তাহ৯০ দিন২৪ ঘন্টা১০ দিন
কেটামিন১১ দিন৯০ দিন৪ দিন———–
মেসকালিন৩ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা১০ দিন
অ্যামফেটামিনমেথামফেটামিন১ সপ্তাহ৯০ দিন৩ দিন৪ দিন
অ্যামফেটামিন৭২ ঘন্টা৯০ দিন৪৬ ঘন্টা৫০ ঘন্টা
কোকেনকোকেন৩ দিন৯০ দিন২৪ ঘন্টা২ দিন
বারবিট্রেটসবারবিট্রেটস৬ সপ্তাহ৯০ দিন৭২ ঘন্টা৩ দিন
অ্যালকোহলইথাইল অ্যালকোহল ৪৮ ঘন্টা৯০ দিন———-৩ দিন

ডোপ টেস্ট থেকে বাঁচার উপায়

ডোপ টেস্টের পজিটিভ ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কখনো তার জন্য অনেক ক্যারিয়ার ও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এবিষয়টি এড়ানোর জন্য মাদকগ্রহণ বন্ধ করা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কেউ মাদকাসক্ত থাকলে ডোপ টেস্টের আগেই মাদক গ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। উপরে দেয়া তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোন মাদক গ্রহণ করে থাকলে ঐ মাদক শরীর থেকে চলে যাওয়ার পর ডোপ টেস্ট করাতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদক গ্রহণ বন্ধের ৩ মাস বা তারও পরে ডোপ টেস্ট করানো উচিত। এতে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার অনেক বেশী সম্ভাবনা থাকবে।

শেষকথা

মাদকের মত অভিশাপের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে ডোপ টেস্ট। বাংলাদেশেও এই বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হতে আর হাতে গোনা কিছুদিনই হয়তো বাকি। তাই ডোপ টেস্ট এদেশে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করতে পারি।

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

ডোপ টেস্ট করাতে কত সময় লাগে?

উত্তরঃ নেগেটিভ ফলাফলের ক্ষেত্রে সাধারণ ২৪ ঘন্টার ভিতরই ডোপ টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায়। কিন্তু পজিটিভ ফলাফল এর ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের ফলাফল পেতে কয়েকদিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। 

সিগারেট খেলে কি ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসার সম্ভাবনা আছে?

উত্তরঃ না। সিগারেটের নিকোটিনকে ডোপ টেস্টে হিসাব করা হয় না। তাই সিগারেট খেলে ডোপ পজিটিভ আসবে না।

পরোক্ষভাবে গাঁজা বা ইয়াবার ধোঁয়া গ্রহণ করলে কি ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসবে?

উত্তরঃ পরোক্ষভাবে ধোঁয়া গ্রহণ (যেমন মাদক গ্রহণকারীর সাথে মাদক গ্রহণের সময় একই রুমে বসে থাকা) সাধারণত অপরাধ হিসেবে ধরা হয় না। তাই ল্যাবরেটরিতে ডোপ টেস্টের সময় শরীরের নমুনাতে গাঁজা, ইয়াবা বা অন্য কোন মাদক পরোক্ষভাবে গ্রহণে দেহে যতটুকু ঘনত্বের ঐ মাদকের রাসায়নিক পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশী ঘনত্বের রাসায়নিক পাওয়া গেলে ডোপ পজিটিভ আসে। তাই পরোক্ষভাবে মাদক গ্রহণে ডোপ টেস্ট এর ফলাফল পজিটিভ আসে না।

ডোপ টেস্টের ফলাফল কি ভুল আসতে পারে?

উত্তরঃ প্রাথমিক পরীক্ষার পর ডোপ টেস্টের ফলাফল ভুল আসার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের পর ফলাফল ভুল আসার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি।

কাউকে না জানিয়ে কি তার ডোপ টেস্ট করা সম্ভব?

উত্তরঃ সন্দেহভাজন কারো ডোপ টেস্ট তাকে না জানিয়েও করা যেতে পারে। গোপনে ডাক্তারের মাধ্যমে রক্ত, চুল বা অন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করে ডোপ টেস্ট করা হতে পারে কখনো কখনো।

ডোপ টেস্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা নমুনা কোনটি?

উত্তরঃ ডোপ টেস্টের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত নমুনা হচ্ছে মূত্র।

ডোপ টেস্টে কি কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নমুনাতে পানি বা অন্যকিছু মিশিয়ে নেগেটিভ ফলাফল পেতে পারে?

উত্তরঃ ডোপ টেস্টের প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য নেয়া নমুনা  হিসেবে মূত্র নেয়ার ৪ মিনিটের মাঝে নমুনাটি ৩৩° থেকে ৩৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় না আসলে সেটিকে পানি মিশিয়ে বা অন্য কোনভাবে ভেজাল মিশ্রিত করা হয়েছে বলে ধরা হয়। এছাড়াও মূত্রে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমান 18mmol/L এর নিচে থাকলেও মূত্রে পানি বা অন্য কোন রাসায়নিক মিশ্রিত করা হয়েছে বলে ধরা হয়। তাই ডোপ টেস্টের নমুনাতে পানি বা অন্য কিছু মিশিয়ে জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। 

ডোপ টেস্ট করতে কত টাকা খরচ হয়?

উত্তরঃ বাংলাদেশে ডোপ টেস্টে প্রতিটি টেস্টের জন্য ৯০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। 

কত দিন ধরে মাদক গ্রহণ করলে ডোপ পজিটিভ আসবে?

উত্তরঃ ডোপ টেস্টের ফলাফল কতদিন ধরে মাদক গ্রহণ করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে না। ডোপ টেস্টের নির্দিষ্ট কিছুদিন আগে মাদক গ্রহণ করলেই ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। 

কারো কোনো ঔষধের কারণে ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসলে তার পরিণতি কি হবে?

উত্তরঃ কোনো ঔষধের কারণে ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসলে ঐ ঔষধ গ্রহণের প্রমাণ ও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। যথাযথ প্রমাণ ও কাগজপত্র দেখাতে পারলে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

১) labtestsonline.org

২) addictioncenter.com

৩) jugantor.com

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

2 কমেন্ট গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button