গরমে সুস্থ থাকতে আমাদের করণীয়

গরমে সুস্থ থাকতে আমাদের করণীয়

বর্তমানে প্রচন্ড গরম পড়ছে এর ফলে মানুষ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে এই গরমের কারণে। তারপরও আমাদের এই তীব্র গরম কে উপেক্ষা করে প্রতিদিনের কাজকর্ম সকলই করতে হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে আমরা সকলেই কোন না কোন কাজের সাথে জড়িত। সেই কাজগুলো আমাদের নিয়মিত পালন করতে হচ্ছে। যতই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রাকৃতিক সমস্যা থাক না কেন আমরা কেউই ঘরে বসে থাকতে পারি না তাই আমাদের ছুটে চলতে হয়। তবে কতগুলো নিয়ম কানুন মেনে চলবে আমরা এই গরমে সুস্থ থাকতে পারি। তাহলে চলুন আলোচনা করা যাক এই গরমে সুস্থ থাকতে হলে আমাদের যে সকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এবং মেনে চলতে হবে এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে।

গরমের কারণে আমাদের শরীর থেকে প্রচন্ড পরিমাণে ঘাম বের হয়। এর ফলে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। এবং আমরা ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারি তাই গরমে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এবং পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস এবং শরবত ইত্যাদি খেতে পারি। এর ফলে আমাদের শরীরের পানিশূন্যতা দূর হবে। এছাড়া গরমে আমরা প্রচন্ড পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে পড়ি যা ডাবের পানি শরবত বা ফলের জুস খেলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

এছাড়া গরম কালে বাইরে প্রচন্ড পরিমানে রোদ থাকার কারণে বাইরে চলাচল একদম অসহ্য হয়ে পড়ে। তাই এই গরমে যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।এরপরেও রোদে চলাচলের ক্ষেত্রে ছাতা ব্যবহার করা উত্তম। এছাড়া অতিরিক্ত রোদে চলাচল করলে বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যারা অতিরিক্ত রোদে চলাফেরা করে তারা যে শরীরের যে সকল অংশ ঢাকা থাকে না যেমন হাত- মুখ ইত্যাদিতে সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের রোদ থেকে যে সকল ত্বকের সমস্যা হয় তা প্রতিকারের জন্য লোশন পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।

বাংলা এসএমএস

তবে গরমকালে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় যেমন ঠান্ডা লাগা জ্বর সর্দি ইত্যাদি হয় মূলত প্রচণ্ড গরমে আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ঘাম নির্গত হয় এবং প্রচন্ড ঘামের কারণে আমাদের শরীর ভিজে থাকে।এবং ভেজা থাকার কারণে ঠান্ডা লেগে এসকল রোগ দেখা দেয়।এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যেমন ঘামাচি এলার্জিজনিত সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে প্রচণ্ড গরমে পেটে অসুখের দেখা দিতে পারে যেমন ডায়রিয়া,বমি ইত্যাদি। মূলত এ সকল কিছু হয়ে থাকে জীবাণুর কারণে। আমরা প্রচন্ড গরমের কারণে বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করি। এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার খাই। এগুলোর অনেক থাকে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় তৈরি করা। আর এ কারণে পেটে অসুখ এর মত সমস্যা হয়ে থাকে।

তাই আমাদের এসকল খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় পেটে অসুখে আক্রান্ত হয় বেশিরভাগ শিশুরা। কারণ তারা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকে এবং প্রচন্ড গরমে ধুলোবালি ইত্যাদি আমাদের শরীর ঘামে ভেজা থাকার কারণে বেশি জড়িয়ে পড়ে। এবং এর ফলে শরীরের চুলকানি বা এলার্জির সমস্যা দেখা দেয় এবং সে সকল স্থানে চুলকানোর কারণে জীবানু আমাদের হাতে লাগে এবং হাত থেকে পেটে যায়। বড়রা সাবান কিংবা হ্যান্ড ওয়াশ মাধ্যমে খাবার খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করে নিলেও বাচ্চারা এসকল বিষয়ে সতর্ক থাকে না তাই আমাদের অভিভাবকদের উচিত বাচ্চাদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এতে করে হাত থেকে জীবাণু পেটে যেতে পারবে না এবং ডায়রিয়া ও বমির মত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারবে না। গরমের কারণে বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং দূষণ। তাই বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরী।

বাংলা ব্লগপ্রশ্ন উত্তর

গরমকালে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া তেল চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়াই শ্রেয়।অনেকে রাস্তার পাশে ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে অনেক ধরনের খাবার কিনে খায়। এগুলো না খাওয়াই শ্রেয় কারণ গরমকালে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে রোগ জীবাণু থাকে। এবং এগুলো খোলা অবস্থায় থাকার কারণে সে সকল রোগ জীবাণু এসে খাবারের উপর পড়ে। এরপরে তারা পরিবেশনের পাত্রগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির অভাবে ঠিকভাবে পরিষ্কার করে না এবং একই পানি বারবার ব্যবহার করে পরিষ্কার এর কাজে। তাই রোগ জিবানুর আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রচন্ড গরমের কারণে হিটস্ট্রোক এর মত মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং যদি কারো হিট স্ট্রোক দেখা দেয় তাহলে তাকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে এবং ঠান্ডার ব্যবস্থা করতে হবে। হিট স্ট্রোক হলে মানুষের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা করা, প্রচন্ড পানি পিপাসা লাগা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, রোগীর শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ব্যথা হওয়া, রোগীর চেতনা লোপ পেয়ে আবোল তাবোল বলতে পারে। এ অবস্থায় রোগির তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা লোপ পায়। এবং শরীর থেকে ঘাম নির্গত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এগুলো হলে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এবং অবস্থা গুরুতর মনে হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে এই প্রচন্ড গরমে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো। এবং এই গরমে ডিহাইড্রেশন, বিভিন্ন ধরনের রোগ, পেটের অসুখ এবং প্রচন্ড গরমের কারণে হওয়া এটা স্ট্রোক থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

klsohel

Leave a Reply

Your email address will not be published.