top header banner
লাইফ স্টাইলস্বাস্থ্য

শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, সুখী হওয়ার উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি হল নিজের স্বাস্থ্যের সঠিক খেয়াল রাখা, স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে কোন কিছুতেই সুখী হওয়া সম্ভব নয়।
সুখী জীবনের জন্য স্বাস্থ্যের দেখভাল করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। আপনার স্বাস্থ্য সঠিক পর্যায়ে আছে তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যের যথাযথ যত্ন নেয়ার কয়েকটি উপায় আছে, যেগুলো সর্বাধিক সহায়ক হতে পারে।

এই প্রবন্ধটি থেকে আপনি জানতে পারবেন শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে যা অত্যন্ত কার্যকরী।

শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮ টি কার্যকরী উপায়ঃ

১) সঠিক খাবার খাওয়া

সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের ৪০ ধরনের নিউট্রিয়েন্টসের দরকার পড়ে। কোন একক খাবার তা দিতে পারে না। তাই সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন। পুষ্টিকর খাবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিকর খাবারে উচ্চ ফাইবার,কম ফ্যাট এবং উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্য বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার (যেমন, মুরগি এবং মাছ) খাওয়া যেতে পারে। দিনে অন্ততপক্ষে ছয় থেকে আটটি ফল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত।
আপনি সঠিকভাবে খাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আপনি ঠিক কী খাচ্ছেন সে সম্পর্কে আপনি যদি নিশ্চিত না হন তবে NHS এর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী খেতে পারেনঃ

  1. দিনে পাঁচটি ফল এবং শাকসবজি খাওয়া।
  2. উচ্চমাত্রার আঁশযুক্ত খাবার যেমন আলু, রুটি, চাল এবং পাস্তা।
  3. দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার।
  4. শিম, ডাল, মাছ, ডিম, মাংস এবং অন্যান্য প্রোটিন।
  5. অসম্পৃক্ত তেল এবং অল্প পরিমাণে স্যান্ডউইচ।
  6. দিনে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করা।

তাছাড়া আমাদের পাকস্থলীতে মাইক্রোবায়োম বলে একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের সুস্বাস্থ্যের উপরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তাই এক্ষেত্রে যত বেশি সম্ভব উদ্ভিজ খাবার খেতে পারেন।

২) সবজি ও ফল-ফলাদি

শাক-সবজি, ফলমূল জাতীয় খাবার শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এগুলোতে প্রায় সকল ধরণের ভিটামিন বিদ্যমান থাকে। শরীর সুস্থ রাখতে আপনি যত ধরণের ওষুধ খান বা শরীরচর্চা করুন না কেন, শরীরের ভিটামিন এবং পুষ্টির অভাব মেটাতে শাকসবজি এবং ফলমূল আপনাকে খেতেই হবে। বিশ্বের প্রায় সকল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তাররা সুস্থ থাকতে বেশি পরিমাণে এসকল প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক এসকল খাবার নিয়মিত গ্রহণের ফলে, মানুষের দেহের ভিটামিন, স্নেহ, শর্করা জাতীয় খাদ্যের ভারসাম্য যেমন থিক থাকে তেমনিভাবে এতে সকল ধরণের অসুখ বিসুখ প্রতিরোধ করতে পারা যায়। আর তাই শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মতি পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি ও ফল-ফলাদি জাতীয় প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৩) পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পানির অপর নাম জীবন। একজন মানুষের দেহের প্রায় ৬০-৭০ ভাগই পানি। শুধু যে তৃষ্ণা মেটাতে পানি পান করা হয় তা কিন্তু নয়। পানি পানের আরও অনেক ধরণের উপকারিতাও রয়েছে। পানি আমাদেরকে বদহজম, ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যাথা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের রোগ থেকে রক্ষা করে, এছাড়াও পানির আরও কিছু বিশেষ গুণাবলী রয়েছেঃ

  • গরমে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • হারের জোর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে।

নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পানের ফলে আরো অনেক ধরণের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর মানুষের শরীর সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প কিছু নেই।

৪) যথেষ্ট পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম করুন

শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সঠিক ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা খুবই জরুরী একটি বিষয়। আজ ৫ ঘণ্টা তো কাল ৭ ঘণ্টা ঘুম। এরকম না করে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমান। একজন পরিণত বয়সের মানুষের রাতে গড়ে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের দরকার পড়ে। কিন্তু একটানা যদি ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকে তবে শরীরের উপরে এর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ছাত্রজীবনে সবথেকে বেশী প্রভাব পরতে পারে। যেমনঃ পড়ায় মনোযোগ ক্ষুণ্ণ হয়, বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়, খাবারের রুচি হারিয়ে যায়, ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত এবং ভালো ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে অনেক নিবিড়ভাবে জড়িত। যেমন, কম ঘুমের কুফল শরীরের উচ্চতর ওজনের সাথে যুক্ত হয় আর ভাল ঘুমে কম ক্যালোরি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। ভাল ঘুম আপনার ঘনত্ব এবং উৎপাদনশীলতা উন্নত করার পাশাপাশি আপনাকে কাজকর্ম বা খেলাধূলায় আরও ভাল পারফরম্যান্সের অনুমতি দেয়। তাছাড়া, ভাল ঘুম রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে এবং মেজাজ উন্নত করতে সহায়তা করে।

পযার্প্ত পরিমাণে না ঘুমালে স্থূলতা, বিষণ্নতা, হার্টের রোগ, গ্লুকোজ বিপাক, টাইপ-৩ ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সুতরাং, আপনি দিন দিন খারাপ স্বাস্থ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন তা যদি বুঝতে পারেন তাহলে রাতে আরও ভাল ঘুমানোর চেষ্টা করতে পারেন। ভালো ঘুমানোর জন্য ঘুমের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরী। যে সম্পর্কে আমাদের আরেকটি প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

৫) নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য শরীরচর্চা

নিয়মিত অনুশীলন স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত অনুশীলন ওজন হ্রাসে অবদান রাখা ছাড়াও হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং এমনকি ক্যান্সারের মতো কিছু গুরুতর রোগের ঝুঁকিও ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে আনে এবং ৩০% পর্যন্ত মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করলে সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা যায় এবং ৮৫% স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে। আপনি যত বেশি অনুশীলন করবেন আপনার শরীরে তত বেশি প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা পাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম করতে অনাগ্রহী হলে বাড়িতে একটা পোষা কুকুর রেখে দিতে পারেন। কারণ কুকুরকে যদি দিনে দু’বার অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটাতে হয় তাহলে আপনিও বাধ্য হয়েই নিজে থেকেই হাঁটবেন। ফলে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করার কোনো ঝক্কি ঝামেলা আর ভয় থাকবে না। এভাবেই রোজকার হাঁটার কাজটাও এর সাথে হয়ে যাবে। আর শরীর ও মন দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।

 ৬) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস গ্রহণ

সুস্থ থাকতে আলো-বাতাস গ্রহণ

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস গ্রহণ সুস্বাস্থ্যের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। মূলত সূর্যের আলোতে ভিটামিন-ডি ছাড়াও রয়েছে বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগুণ। যা মানুষের দুর্বল হাড় শক্ত করতে, রক্তচাপ কমাতে, হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়াও পর্যাপ্ত আলো বাতাস গ্রহণের ফলে মানুষের মন মেজাজ ও ভালো থাকে, এবং মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে সুস্থ বোধ হয়। আর এজন্যই নিয়মিত পর্যাপ্ত আলো বাতাস গ্রহণ শরীর সুস্থ রাখতে উপকারী। আপনি যা ঘরটিতে থাকেন তা এমনভাবে স্থাপন করতে পারেন যেনো পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। এছাড়াও প্রতিদিন ভোরবেলা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী ভোর বেলা হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী।

৭) স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করুন

আপনি যখন অসুস্থ বোধ করেন তখন আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত চেক-আপ করুন এবং ডাক্তারের নিয়মিত পরামর্শ নিন। অসুস্থ হয়ে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ার (ফেইসবুক, টুইটার) মাধ্যমে টেলিমেডিসিন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শও নিতে পারেন।

৮) বেশি করে হাসুন

মানুষের মনের সাথে শরীরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ যত বেশি হাসিখুশি থাকতে পারবে, তার সুস্থতাও তত বেশি কার্যকর হবে। হাসি মূলত প্রয়োজন মন মেজাজ ভালো রাখার জন্য। কারণ মানুষের হাঁসিই মানুষের মন ভালো রাখে। তবে, অনেকের মনে ধারণা আসতে পারে এমন যে, কৃত্রিম হাসিতে কি সত্যিই উপকার রয়েছে কিনা। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, আপনি যেমন ভাবেই হাসুন না কেন সবই আপনার জন্য উপকারী, হোক সেটা কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক।

শেষ কথা

শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপরের নিয়মগুলো ভালোভাবে মেনে চলুন। ডায়েট, অনুশীলন, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত ঘুমের সঠিক রুটিনে থাকলে আপনি বহুদিন ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন। তবে এর পাশাপাশি নিয়মিত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে ভুলবেন না।

Related Articles

Back to top button