মোটরসাইকেলযানবাহন

মোটরবাইক কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে যখন আপনি দেখেন আপনার পাশ দিয়ে সাই করে সরুপথে কোন একটি মোটরবাইক চলে গেলো, নিজের একটি বাইক নেই বলে তখন নিশ্চয়ই আফসোস বোধ হয়। যদি এটিই আপনার প্রতিদিনের গল্প হয়ে থাকে তবে আর দেরী নয়। আজকের লেখাটিতে আমরা জানাবো নিজের একটি বাইকের গর্বিত মালিক হবার আগে কি কি বিষয়গুলো আপনি মাথায় রাখবেন।

বাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত অবশ্যই বড় একটি বিনিয়োগ। তাই কেনার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই যাচাই করে নেয়াটা অত্যাবশ্যক।

কিছু বিষয় যা আপনাকে আগেভাগেই জানতে হবে

  1. মোটরবাইকের নিরাপত্তাঃ সবার আগে যেটি দেখে নেয়া জরুরী তা হলো যে বাইকটি আপনি চালাবেন সেটি সড়ক মহাসড়কে চলাচলের জন্য নিরাপদ কিনা। যে বাইকটিকে আপনি সঙ্গী বানাবেন বড় রাস্তায় চালানোর আগে যেটির সাথে ধাতস্থ হওয়াটা জরুরী।
  2. মোটরবাইক ইন্স্যুরেন্সঃ এটি বাইকের প্রারম্ভিক কাগজাদির সঙ্গেই এসে থাকে তবুও এটিকে তালিকায় রাখা জরুরী৷ অবশ্যই দেখে নিতে হবে যে বাইকটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন তার সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এছাড়া কাগজগুলো আসল কিনা তা সম্ভব হলে কর্তৃপক্ষ থেকে যাচাই করে নেয়াটাও জরুরী। বাইকটি কোন একটি দূর্ঘটনায় পতিত হলে তখন ইন্স্যুরেন্সই হবে এর বিপদের বন্ধু।
  3. লাইসেন্স এবং রেজিষ্ট্রেশনঃ  ইন্স্যুরেন্স এর সঙ্গে সঙ্গে বাইকটির কাগজ হালনাগাদ এবং রেজিষ্ট্রেশনের কাগজ ঠিক আছে  কিনা সেটা দেখে নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের বিড়ম্বনা থেকে নিঃসন্দেহে এটি আপনাকে দূরে রাখবে।
  4. বেছে নিন আপনার জন্য সেরা ফিটটিঃ প্রত্যেক মোটরবাইকই ফিচার ও বাইরের গঠনের দিক দিয়ে আলাদা। তাই নিজের জন্য ফিট বা আদর্শ বাইক বের করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন সেরা ফিট এর ব্যাপারে আলোকপাত করতে হয় তখন মূলত বাইকটির আরামদায়ক দিক, এর ফিচার, এর লুক এর বিষয়গুলো বোঝানো হয়। মোটরবাইকের সিট কিংবা স্টেয়ারিং এ কোনপ্রকারের অ্যাডজাষ্ট করার সুযোগ নেই। তাই কোন ধরনটি আপনার সঙ্গে মানানসই তা আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে।
  5. জানাশোনা চলুকঃ বাইক কেনার আগে এটির বিশেষ কিছু ফিচারে আপনার নিশ্চয়ই আগ্রহ রয়েছে। তাই এসব ফিচার খুঁজে বের করতে নিজে থেকেই জানাশোনা কিংবা রিসার্চের বিষয়টা সেরে নেয়া জরুরী। যেমন কিছু ব্র্যান্ড গতির জন্য সেরা আবার কিছু দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য। আপনার আগে থেকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে নিজের জন্য কোনটি বেশী প্রয়োজন।
  6. পাওয়ার এর ব্যাপারে ভাবুনঃ বাইকের পাওয়ার এর দিকটি অনেক বাইকারের কাছেই আলাদা আকর্ষনের বিষয়। শহুরে জীবনে ট্রাফিক জ্যাম যেখানে আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী সেখানে অধিক পাওয়ারের বাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত খুব একটা লাভজনক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারন পাওয়ার রেঞ্জের মধ্যে কোন একটি বাইক বেছে নেয়াই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত।
  7. সিটের উচ্চতাঃ এই বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে হলেও এটি তা নয়। মোটরবাইক রাইডের অভিজ্ঞতা অনেকটাই বাইকটির সিটের উচ্চতার উপর নির্ভর করে। একটি মানানসই সিটের উচ্চতা রাইডারকে দেয় আরামদায়ক এক ভ্রমন অভিজ্ঞতা। যেহেতু এই বিষয়টি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে তাই এর উপর ভিত্তি করে মানানসই বাইক ব্যবহারকারীকেই বেছে নিতে হবে।
  8. বাইকের ওজনঃ বাইক কেনার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর ওজন। একটি হালকা গড়নের মোটরবাইক দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ঢাকার উঁচুনিচু রাস্তায় এগুলো একেবারেই মানানসই নয়। তাই বাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্তের সময় কোন ওজনের বাইকটি আপনার জন্য আদর্শ তা আগেই দেখে নিন।
  9. ব্যবহৃত মোটরবাইক কেমন হবেঃ অধিকাংশ নতুন বাইকারদের জন্য ব্র্যান্ড নিউ মোটরবাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত লাভজনক না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোন মোটরবাইক কিনে হাত পাকানোর কাজটি সহজেই সেরে ফেলা সম্ভব এবং শিক্ষানবীশ পর্যায়ে বাইকে স্ক্রাচ কিংবা ডেন্ট হলেও সেটি তেমনভাবে ধর্তব্য নয়।
  10. বাইক কেনার সময় সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ বন্ধুকে সঙ্গী করুনঃ সবাই সব বিষয়ে অভিজ্ঞ নয় এবং এটাই বাস্তব। বাইক ক্রয়কালে শো রুমে সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ বন্ধুকে সাথে করে নিয়ে যাওয়াটা লাভজনক সিদ্ধান্ত। বাইকের নানা ভালো খারাপের দিকগুলো তার মাধ্যমেই জেনে বুঝে নেয়া সম্ভব।
  11. মূল্যঃ এটি বাইক কেনার সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফিচার ও স্পেসিফিকেশনের উপর বাইকের মূল্য নির্ভর করে। তাই মূল্য রেঞ্জ নির্ধারনের আগে এর বিনিময়ে কিসব ফিচার পাওয়া যাচ্ছে তা যাচাই বাছাই করে নিন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় উচ্চ সারি মোটরবাইক, মধ্য সারি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বাইকগুলোর তালিকায় চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
  12. বাইকটি পরীক্ষা করে নিনঃ আগেই বলেছি, বাইক কেনা একটি তুলনামূলক বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। তাই বাইক কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন এটি ভালো কার্যকরী অবস্থায় আছে কি নেই। তাই বাইকের আপাদমস্তক বাইক কেনার সময়েই পরখ করে নিন। পরীক্ষায় পাশ করলে তবেই বাইকটিকে ঘরে তুলুন।

কোন ব্র্যান্ডটি তাহলে আপনার জন্য পছন্দসই?

মোটরবাইকের কথা আসলে কিছু ব্যবহারকারীকে পাওয়া যায় যারা কোন নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ভক্ত। যদি আপনি কোন নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বাইক খুঁজে থাকেন তবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোটরবাইক ব্র্যান্ডের তালিকাটি একবার দেখে নিতে পারেন। বাইক ব্র্যান্ডের কথা আসলেই প্রথমে বাজাজ, হোন্ডা, ইয়ামাহা কিংবা সুজুকির কথা সবার আগে মাথায় আসবে। এসব ব্র্যান্ডের নতুন সব প্রযুক্তিনির্ভর বাইকগুলো সম্পর্কে দেখে নিতে পারেন এবং কোনটি বাজারে ভালো চলছে সেটির ব্যাপারেও জানাশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।

শেষকথা

এতটুকুই ছিলো জানানোর! দিনশেষে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের উপর নির্ভর করছে কোন বাইকটি আপনার জন্য আদর্শ। তবে আশা রাখছি লেকাটি আপনাকে একটি পছন্দসই বাইক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গঠনে সাহায্য করবে। বাইক ক্রয়ের আগে তাই উক্ত লেখায় উল্লেখিত বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখবেন। আর বাইক নিয়ে রাস্তায় নামার আগে সমস্ত নিরাপত্তার দিকগুলো মাথায় রাখবেন।

কিছু সাধারণ প্রশ্নঃ

  • কোথায় আমি মোটরবাইক কিনতে পারবো?

রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে প্রায় প্রত্যেক ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল শো-রুম। আপনি এসব স্থানে সরাসরি গিয়ে বেঁছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের বাইক।

  • আমি কি অনলাইনে বাইক কিনতে পারবো?

যদি আপনি শো-রুমে সরাসরি গিয়ে বাইক কেনার ঝক্কি ঝামেলা থেকে বাঁচতে চান তাহলে অনলাইনই হবে আপনার জন্য সেরা মাধ্যম।

  • বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কেমন?

আপনি কোন ব্র্যান্ডের মোটরবাইক বেছে নিচ্ছেন তার উপর নির্ভর করছে এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কেমন হবে। কিছু ব্র্যান্ডের পার্টসগুলো বাজারে খুব সহজলভ্য অপরদিকে কিছু ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশগুলো বাজার ঘুরে খুঁজতে হয়। দিনশেষে আপনি আপনার বাইকের কেমন যত্ন নিচ্ছেন তার উপরেই নির্ভর করছে এর দীর্ঘস্থায়িত্বতা।

Sawon Saha

Hello everyone! It's Sawon Saha, a Digital Marketer from Bangladesh. I am passionate about Search Engine Optimization (SEO), Social Media Marketing (SMM) and other sectors of Digital Marketing.
Back to top button
Close