top header banner
টেকনোলজিলাইফ স্টাইল

স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫টি বাজে অভ্যাস যা অবশ্যই এড়ানো উচিৎ

স্মার্টফোনের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পথচলাকে আরো সহজ করে তুলছে। কী না করা যায় এই স্মার্টফোন দিয়ে। টাকা পয়সা লেনদেনে আধুনিকতার ছোঁয়া (ডিজিটাল ব্যাংকিং) থেকে শুরু করে, সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ (সামাজিক: ফেসবুক, টুইটার,হোয়াটস অ্যাপ, ইমো ইত্যাদি) ব্যাকআপ বা তথ্য সংরক্ষণসহ অনেক জটিল কিছু সহজেই করা যাচ্ছে স্মার্টফোনে। সাথে সাথে স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের সারাদিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ডে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এখন আমরা সর্বদাই ফোনে আঠার মতো লেগে থাকার কারণে স্মার্টফোন আমাদের উপর যে সমস্ত খারাপ প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কে আমরা সচেতন হতে পারি না।

আজকের প্রবন্ধটিতে আমরা আলোচনা করবো স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ৫ টি বাজে বিষয় সম্পর্কে যা আপনার অবশ্যই ত্যাগ করা উচিৎ।

স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় যেসকল খারাপ অভ্যাস আপনার ত্যাগ করা উচিৎঃ

১) একটানা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা

অবিরাম ফোনের দিকে তাকানো অনেকেরই খুব পরিচিত কু-অভ্যাস। তবে এই অভ্যাস উদ্বেগ ও ভীতির কারণ হতে পারে। গবেষকরা তাদের গবেষণায় বলছে, হতাশা, উদ্বেগ এবং বাধ্যতামূলক আচরণের মতো বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার এবং স্মার্টফোনের আসক্তির কারণে হয়ে থাকে। যেকোন কাজ করার সময় মাঝে মাঝে স্ক্রীনের দিকে তাকালে কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে যায়। এবং সময়মত সেই কাজ শেষ না হলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সুতরাং আপনি যদি কোন কাজ করতে থাকেন তবে আপনার ফোনটিকে একটি ড্রয়ারে বা দৃষ্টির বাইরে রাখুন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি কাজের সময় তাদের ফোন দেখতে পায় না, তারা কাজের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ ও মনোযোগী হয়ে উঠে।

২) কোনো ইভেন্ট উপভোগ করার পরিবর্তে ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা

স্মার্টফোন ব্যবহারের বাজে অভ্যাস কনসার্টে ছবি তোলা

আজকাল অনেকেই কনসার্টের সময় সরাসরি দেখার পরিবর্তে স্মার্টফোনের সাহায্যে ভিডিও ধারণ করে। স্মার্টফোন কনসার্টের জায়গায় ভালভাবে লাইটারকে প্রতিস্থাপন করে। মানুষ কনসার্ট বা কোনো ইভেন্টে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে এতো বেশি মনোনিবেশ করে যে তারা অনুষ্ঠান দেখার আসল মজা পায় না। আপনি নিশ্চয় লাইভ ইভেন্টের জন্য অর্থ প্রদান করেছেন? তাহলে আপনি কেন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে এটি বন্দি করতে আগ্রহী? কনসার্টের আসল মজা নিতে আপনার ফোনটি সরিয়ে রাখুন, গায়ক, গিটারিস্ট, গান, সর্বোপরি চারপাশের পরিবেশের প্রতি মনোনিবেশ করুন, একাগ্র হয়ে ইভেন্ট বা কনসার্টটি উপভোগ করুন। তাহলে কনসার্টের আসল মজা লুফে নিতে পারবেন।

৩) মাতাল- স্মার্টফোনিং

আমাদের মাঝে অনেকের ফোনের অবস্থা দেখে মনে হয়, ফোনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। অনেকেই আছেন উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে সর্বক্ষণ লেগে আছেন স্মার্টফোনের সাথে। শুধু তাই নয়, ফোনে টাইপিং স্পিড অসাধারণ হওয়ায় সম্পূর্ণরুপে অহেতুক এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু বার্তালাপের মতো অপ্রাসঙ্গিক অনুপযুক্ত কাজ করে থাকেন অনেকে।   এটা বিশেষত, বিভন্ন ধরণের মোবাইল গেমস, যেমনঃ পাবজিফ্রি ফায়ার নামক জনপ্রিয় গেম খেলার সময় আবার হঠাৎ করে সজোরে চিৎকার করে উঠেন অনেকে। অনেকেই খেতে বসলেও মোবাইল চাপতে চাপতে খান, রাস্তা দিয়ে হাঁটলেও চ্যাট করতে করতে অথবা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে করতে রাস্তা দিয়ে হাঁটেন।
আবার অনেকে কি দিন কি রাত সবসময়ই ফেসবুক পোস্ট, ম্যাসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম এবং এসএমএসে ডুবে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার নতুন চিন্তা, নতুন প্ল্যান অথবা জীবন সম্পর্কে কিছু ভাবতে শেখায় না। মোবাইল ফোনই মানুষকে এসব চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পাচঁ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে মোবাইল ব্যবহারকারীরা স্থূলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমনকি এতে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। এছাড়া এতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও নানাধরনের ক্যান্সার, এমনকি অকালমৃত্যুও হতে পারে।

৪) ওভারশেয়ারিং

ওভারশেয়ারিং মাতাল-স্মার্টফোনিং এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কখনও কখনও কোনো জিনিস বা কোনো ঘটনা অবাক বা বিস্মৃত হওয়ার মতো না হলেও এইগুলো ওভারশেয়ার করার প্রবণতা অনেকের মাঝে থাকে।
আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে প্রাসঙ্গিক তথ্য শেয়ার করা পুরোপুরি ঠিক, তবে আপনি যখন প্রতিদিনের কাজ যেমন খাওয়া, পরিষ্কার করা, কুকুরের হাঁটাচলা, থালা বাসন ইত্যাদি বিষয়ে ক্রমাগত পোস্ট করা শুরু করেন, তখন জিনিসগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার বোর্ডের উপরে যেতে শুরু করে। আমি বলছি না য্‌ এই মুহুর্তগুলো আকর্ষণীয় এবং শেয়ার করার মতো না। তবে এটি পরিমাণের তুলনায় অত্যধিক। তাছাড়া নিজের সম্পর্কে দুই একটা জিনিস গোপন রাখতে হয়। তাহলে আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের আপনার ব্যাপারে কৌতূহল এবং আপনার সাথে সক্ষ্যতা বজায় রাখতে আগ্রহী থাকবেন।

৫) বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন ব্যবহার

স্মার্টফোন ব্যবহারের বাজে অভ্যাস গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যাবহার করা

ঝুঁকিপূর্ণ মুর্হুতে অতিরিক্ত কিছুর ব্যবহার ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে দেয়। মাল্টিটাস্কের সময় আমাদের পুরো মনোযোগের প্রয়োজন হয়। যেমন: গাড়ি চালানো, একটি ব্যস্ত সময়ে শহর ঘুরে বেড়ানো, অর্থ খরচ করা ইত্যাদি। এ সময় একটু হেরফের হলেই মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। আপনার যদি অবশ্যই এই জাতীয় পরিস্থিতিতে ফোন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে তবে হ্যান্ডস ফ্রি ডিভাইস ব্যবহার অথবা স্মার্ট সহকারী তৈরি করে ঝুঁকিগুলো হ্রাস করতে পারেন।

শেষকথা

বর্তমানে সময়ে ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে স্মার্টফোন ছাড়া মোটেও চলা সম্ভব নয়। তবে স্মার্টফোনের সচেতন ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে যেমন অনেক সহজ করে দেয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার তেমনই ক্ষতি করে। তাই সুস্থ জীবন নিশ্চিতে স্মার্টফোনের খারাপ কিছু অভ্যাস থেকে দূরে থাকার আমাদের সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।

Related Articles

Back to top button