স্বাস্থ্য

পানিতে Coliform, বাঁচার উপায় কি?

পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন জীবানুর সংক্রমনে বিশ্বব্যাপী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । রোগসমূহ কখনও অঞ্চলভিত্তিক মহামারী আকার ধারন করে। পানিবাহিত রোগ সৃষ্টিকারী জীবানুর মধ্যে Coliform অণ্যতম।

Coliform কি?

Coliform এক ধরনের দন্ডাকৃতি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। এরা প্রায় ২ মাইক্রোমিটার লম্বা ০.৫ মাইক্রোমিটার ব্যসযুক্ত হয়ে থাকে । এরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রানীদেহের অন্ত্রে বসবাস করে; খাদ্যদ্রব্য এবং মাটিতেও এদের উপস্থিতি রয়েছে ।

প্রানীদেহে বিদ্যমান Coliform ব্যাকটেরিয়াসমূহ ৩৫ – ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ল্যাকটোজ গাঁজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসিড ও গ্যাস উৎপন্ন করে । এরা কোনো স্পোর তৈরি করে না । Total Coliform সমূহের মধ্যে একটি গ্রুপের ব্যকটেরিয়া হলো Fecal Coliform । তাপসহন ক্ষমতা থাকায় এদেরকে Thermo tolerant Bacteria বলা হয় । Fecal Coliform প্রানীদেহের অন্ত্রে প্রায় ৪৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় Lactose থেকে এসিড ও গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে ।

রোগ সৃষ্টিকারী Coliform কোনটি?

সকল Coliform ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টিকারী নয় । Fecal Coliform গ্রুপের অন্তর্গত এক শ্রেনীর ব্যাকটেরিয়া হলো Escherichia Coli । রোগ সৃষ্টিকারী Coliform ব্যাকটেরিয়া সমূহ Escherichia Coli শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত । এগুলোকে Pathogenic Coliform বলা হয় । Escherichia Coli যুক্ত পানি পান বা খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হতে পারে । সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো Escherichia Coli (O157:H7); এর সংক্রমনে অন্ত্রে রক্তক্ষরন হয় । শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এটি তাদের মৃত্যুর কারনও হতে পারে ।

Coliform সংক্রমনে কি হয়ে থাকে?

সংক্রমনের লক্ষন:

  • বমিভাব ও বমি
  • ডায়রিয়া (রক্ত সহ বা রক্ত ছাড়া)
  • পেটব্যাথা বা অস্বস্থি
  • পাকস্থলি ও অন্ত্রের প্রদাহ
  • জ্বর (১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট)
  • মূত্রাশয় সংক্রমন (প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া অথবা কিডনী সংক্রমন )
  • শ্বাসকষ্ট (নিউমোনিয়া)
  • সেপটিক শক ও মেনিনজাইটিস

কিভাবে Escherichia Coli সংক্রমন হতে পারে?

খাবারের মাধ্যমে:

  • কাঁচা খাদ্য দ্রব্য সবজি, ফল, গাছের পাতা, কান্ড, মূল প্রভৃতি খাবারে দুষিত পানির মাধ্যমে বা মাটি থেকে Escherichia Coli জীবানু লেগে থাকতে পারে ।
  • রান্না করা খাদ্য দ্রব্য যদি দুষিত কাঁচা খাবারের সংস্পর্শে রাখা হয় তাহলে দুষিত খাদ্য দ্রব্য থেকে Escherichia Coli জীবানু রান্না করা খাবারে ছড়াতে হতে পারে ।

পানীয়-র মাধ্যমে:

  • Escherichia Coli যুক্ত পানি পান বা ঐ পানি দ্বারা জুস প্রস্তুত করা হলে ।
  • প্রানীর দুগ্ধে সরাসরি Escherichia Coli এর উপস্থিতির মাধ্যমে ।

পাত্রের মাধ্যমে:

  • খাদ্য ও পানীয় সংরক্ষনকারী পাত্র Escherichia Coli যুক্ত পানি দ্বারা ধৌত করা হলে ।
  • দুগ্ধ সংগ্রহকারী পাত্রে Escherichia Coli উপস্থিত থাকলে ।

আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শের মাধ্যমে:

  • Escherichia Coli সংক্রমিত ব্যাক্তির সাথে করমর্দন বা কোলাকুলি করলে ।

Escherichia Coli মানবদেহের কোন কোন স্থানে সংক্রমিত হতে পারে?

  • মুখগহ্বর (মুখ, গলা ও পরিপাকতন্ত্র)
  • নাসারন্ধ্র (নাক, গলা ও ফুসফুস)
  • মুখমন্ডল (চোখ, ত্বক, কান)

কারা Escherichia Coli সংক্রমনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

  • শিশু
  • রান্নাঘরে যারা কাজ করেন (গৃহিনী,ও রাধুনী)
  • পরিচ্ছন্ন কর্মী
  • সাতারু, জেলে বা মাঝি

Escherichia Coli সংক্রমনের লক্ষন প্রকাশের সময় কত দিন?

  • ১-৪ দিনের মধ্যে

Scherichia Coli সংক্রমনে প্রকাশিত লক্ষনের স্থায়ীত্ব কত দিন?

সর্বোচ্চ ১০ দিন (ব্যবহারযোগ্য পানি দুষণমুক্ত না হলে পূনরায় সংক্রমন হয়ে থাকে, শিশুদের ক্ষেত্রে বার বার সংক্রমনের সম্ভাবনা বেশি)

Escherichia Coli সংক্রমনে আক্রান্ত রোগীর ব্যবস্থাপনাগুলো কি কি?

  • ডায়রিয়া হলে ওরাল স্যালাইন খাওয়াতে হবে ।
  • জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে ।
  • দ্রুত কাছাকাছি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে ।
  • প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হতে পারে ।

পানিতে Coliform (Escherichia Coli) উপস্থিতির কারন কি কি?

  • পয়:নিষ্কাশন (মানুষ বা পশুপাখি) ব্যবস্থাপনার ত্রুটি
  • জৈব সার প্রয়োগ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি
  • পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি
  • অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যহত হয়ে পানি দুষিত হওয়া

পানিতে Coliform (Escherichia Coli) উপস্থিতি নির্নয় করা যায় কিভাবে?

  • Coliform Test Kit এর মাধ্যমে পানি পরীক্ষা করে ।
  • পরীক্ষাগারে Gram Stain পরীক্ষার মাধ্যমে ।

পানিতে উপস্থিত Coliform (Escherichia Coli) ধ্বংস করনের উপায়গুলো কি কি ?

  • তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ৭২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১৬০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় পানিকে কমপক্ষে ১ মিনিট ফোটানো ।
  • হ্যালোজিনেশন: পানিতে হ্যালোজেন (F, Cl, Br, I) ট্যাবলেট বা টিংচার ব্যাবহার করা ।
  • পানির মধ্য দিয়ে অতিবেগুনী রশ্মি (UV) চালনা করা ।
  • ওজোনেশন: পানিতে ওজোন গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে।পানি ফোটাতে সময় নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে । জ্বালনী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র পানি ফোটানোর জন্য আমাদের দেশে প্রতিবছর ৬২ কোটি টাকার জ্বালানী খরচ হচ্ছে ।

হ্যালোজিনেশন: ক্যান্সার ঝুঁকির অন্যতম একটি কারন হলো দীর্ঘ মেয়াদী হ্যালোজেন সমৃদ্ধ পানি পান।

অতিবেগুনী রশ্মি (UV):

অতিবেগুনী রশ্মির (UV) মাধ্যমে জীবানু ধ্বংসকরন পদ্ধতিটি শুধুমাত্র স্বচ্ছ পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য । আবার স্বচ্ছ পানিতেও Coliform ব্যাকটেরিয়া ১০০০/মি.লি. বা Fecal coliform ব্যাকটেরিয়া ১০০/মি.লি. এর বেশি হলে এই অতিবেগুনী রশ্মির (UV) মাধ্যমে সকল জীবানু ধ্বংস হয় না । সুতরাং এই প্রকিয়াটির কার্যকারীতা সীমাবদ্ধ ।

ওজোনেশন:

ওজোনেশন পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল হওয়ায়, শুধুমাত্র পরীক্ষাগারে গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

উল্লেখিত জীবানু মুক্তকরন প্রকিয়ায় জীবানু ধ্বংস হতে পারে কিন্তু জীবানুর দেহাবশেষ অপদ্রব্য হিসেবে পানিতে বিদ্যমান থাকে ।

Note: পানিতে উপস্থিত জীবানু ধ্বংস করন পদ্ধতি সমূহের সীমাবদ্ধতা থাকায়, জীবানু সহ অপ্রয়োজনীয় সকল উপাদান মুক্ত করে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ করতে হলে পানি পরিশ্রাবন (Filtration) পদ্ধতি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই ।

পরিশ্রাবন পদ্ধতি সমূহ ছিদ্রযুক্ত পর্দার (Porous Membrane) উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং পর্দার ছিদ্রের আকৃতির উপর পদ্ধতিটির কার্যকারীতা নির্ভরশীল ।

  • MICRO Filtration (পর্দার ছিদ্রের আকৃতি ০.১ মাইক্রন)
  • ULTRA Filtration (পর্দার ছিদ্রের আকৃতি ০.০১ মাইক্রন)
  • NANO Filtration (পর্দার ছিদ্রের আকৃতি ০.০০১ মাইক্রন)
  • RO Filtration (পর্দার ছিদ্রের আকৃতি ০.০০০১ মাইক্রন)

Note: পর্দার ছিদ্রের আকৃতি সবচেয়ে সূক্ষ্ণ হওয়ায় পরিশ্রাবন পদ্ধতি সমূহের মধ্যে সর্বাধুনিক ও গ্রহনযোগ্য হলো RO Filtration । RO Membrane এর পর্দার ছিদ্রের আকৃতির তুলনায় Coliforms এর আকৃতি বড় হওয়ায় ফিল্টারের ছিদ্রপথ দিয়ে পার হয়ে যেতে পারে না;

RO Filtration পদ্ধতিতে সঠিক মানের RO Membrane এর মাধ্যমে পরিশ্রুত পানিতে Coliforms বা কোনো জীবানুর দেহাবশেষ থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং এই পদ্ধতিতে পানিতে বিদ্যমান ক্ষতিকর সকল ধাতব ও অধাতব পদার্থও দুর হয়ে যায় । সুতরাং নিরাপদ পানি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম RO Water purifier.

Coliform (Escherichia Coli) প্রতিরোধের উপায়গুলো কি কি?

To prevent Coliform

  • কাঁচা খাবার ও রান্না করা খাবার পৃথকভাবে সংরক্ষন করা ।
  • নিরাপদ পানি পান করা ।
  • পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা ও রান্নায় নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ।
  • খাবারের পাত্র পরিচ্ছন্ন করার জন্য নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ।

পানি পরিশ্রাবন পদ্ধতিসমূহের মধ্যে USA technology – Reverse Osmosis (RO) প্রযুক্তিটি USA এর NSF, ANSI এবং EPA কতৃক স্বীকৃত, ISO 9001: 2008 সনদপ্রাপ্ত এবং WHO কর্তৃক সমাদৃত।

RO Technology সমৃদ্ধ RO Water purifier সম্পূর্ন অটোমেটিক এবং ঘরের পানির লাইনে সরাসরি ব্যবহার উপযোগী। ফলে পানি ফুটানো ও ঢালার ঝামেলা থাকে না। শুধুমাত্র সঠিক মানের RO Filtration পদ্ধতিতেই ১০০% নিরাপদ Drinking & Kitchen water Solution ব্যাবস্থাপানা করা সম্ভব । সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে RO Water Purifier । তাই আর দেরী না করে পারিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য Quality যাচাই করে সংগ্রহ করুন RO Water purifier.

ULTIMA RO Water Purifier এ কি কি রয়েছে?

  • Polypropylene (PP) Sediment Filter: Pore size 0.45 micron
  • Granular Activated Carbon (GAC) Filter: Iodine Grade 1100
  • Chlorine Taste and Odor (CTO) Carbon Filter: Iodine Grade 1100
  • 100 GPD Reverse Osmosis (RO) Membrane (Pore size 0.0001 micron): Vontron
  • 100 GPD Booster pump: E-Chen (2 year Guarantee)
  • Mineral Alkaline Cartridge: Transparent
  • Air pressure tank: Food Grade Maintained
  • Stainless Steel (Alloy) Faucet: Double Faucet Opportunity
  • Software automated periodic friendly customer care service
  • Free Installation

সম্পাদনা:

ডা: হেফজুর রহমান

বি ইউ এম এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

এম পি এইচ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)

 

Back to top button
Close