জন্ম নিবন্ধনপরিচয় পত্র

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম

জন্ম সনদ প্রতিটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সনদ। কারণ জন্ম সনদের মাধ্যমেই মূলত আপনি যে ওই দেশের নাগরিক তা প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়। কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবি করতে ও ঐ দেশের নাগরিক সুবিধাগুলো পেতে জন্ম সনদের ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু তাও অনেক পিতা-মাতাই সন্তানের জন্ম সনদ তৈরিতে অবহেলা করেন। কিন্তু সন্তানের ভাল চাইলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব জন্ম সনদ করে নেওয়া উচিত। কারণ জন্ম সনদ তৈরি না করলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং তা অনেকটাই ঝামেলাদায়ক। 

সূচিপত্রঃ

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ 

জন্ম নিবন্ধের জন্য ঠিক কি কি সনদ বা কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে তা মূলত নির্ভর করে আবেদনটি জন্মের কত দিনের মধ্যে করা হচ্ছে তার ওপর। এই সময়কালকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

  • নবজাতক জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে 
  • সন্তান জন্মের ৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছরের মধ্যে 
  • সন্তানের বয়স ৫ বছরের অধিক হলে 

নবজাতক জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সময়কাল যদি নবজাতক জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে হয় তাহলে সবচেয়ে কম কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। এ সময়কালের ভেতরে সবচেয়ে সহজে জন্ম নিবন্ধন করানো যায়। এক্ষেত্রে যেসব প্রমাণাদির প্রয়োজন পড়বে। 

  • জন্মস্থান এবং জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র। অথবা ওই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া জন্ম সংক্রান্ত সনদের সত্যায়িত অনুলিপি। অথবা বার্থ এটেন্ডেন্ট (Birth Attendant) এর প্রত্যয়ন পত্র কিংবা অন্য কোনো প্রমাণ পত্র। 
  • সন্তানের পিতা-মাতা অথবা দাদা-দাদির নিজ নামে ঘোষিত স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঘোষিত বাড়ির বিপরীতে হালনাগাদ কর পরিশোধের প্রমাণ।
  • সন্তানের পিতা-মাতা অথবা দাদা-দাদির জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা পাসপোর্টে ঘোষিত স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র বা অন্য কোনো প্রমাণপত্র। 
  • স্থায়ী ঠিকানা দ্বৈততা এড়াতে পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের নম্বর। 
  • পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। 
  • আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর। 
  • আগে জন্ম নিবন্ধন করা হয় নাই এই মর্মে আবেদনকারীর ঘোষণা। 

সন্তান জন্মের ৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছরের মধ্যে

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধের জন্য আবেদনের সময়কাল যদি সন্তান জন্মের ৪৫ দিনের পরে হয় অর্থাৎ ৪৬ দিন থেকে শুরু হয় তাহলে নিচে উল্লেখিত প্রমাণাদিগুলোর প্রয়োজন হবে। এটি সন্তানের বয়স ৫ বছরের অধিক হওয়ার আগ অবধি প্রযোজ্য থাকবে। 

  • ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকাল প্রমাণাদি। 
  • এছাড়াও পাঁচ বছরের মধ্যে আবেদন করলে ইপিআই (EPI) কার্ডের অনুলিপি অথবা ইপিআই কর্মীর প্রত্যয়ন পত্র। 
  • আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর।
  • ১ কপি রঙ্গিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি। 

সন্তানের বয়স ৫ বছরের অধিক হলে 

সন্তানের বয়স যদি ৫ বছরে বেশি হয় এবং তখন যদি অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে চান। সেক্ষেত্রে উপরের বর্ণিত সকল প্রমাণাদিরই প্রয়োজন হবে। এছাড়াও যা যা লাগবেঃ

  • বয়স প্রমাণের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসক কর্তৃক বয়সের সনদপত্র। চিকিৎসককে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত নূন্যতম এমবিবিএস (MBBS) অথবা তদুর্ধ্ব ডিগ্রিধারী হতে হবে। 
  • সরকার কর্তৃক পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট এবং শিক্ষা বোর্ড দ্বারা পরিচালিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট অথবা সমমানের কোনো সনদপত্র। সরকারি ও  সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সকল বেসরকারি স্কুলই এর আওতাভুক্ত হবে। 

স্থায়ী ঠিকানা না থাকলে জন্ম নিবন্ধনের উপায় 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য স্থায়ী ঠিকানার ঘর পূরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নদী ভাঙ্গন বা অন্য কোনো কারণে স্থায়ী ঠিকানা বিলুপ্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে  পিতা-মাতা যদি নতুন কোনো স্থানে জমি, বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট কিনে থাকে তবে সেই জমি অথবা বাড়ির ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ওই বাড়ি, ফ্ল্যাট অথবা জমি কেনার দলিল, খাজনা বা কর আদায়ের রশিদ প্রদর্শন করতে হবে। 

আবার যদি একদমই কোনো স্থায়ী ঠিকানা থেকে না থাকে তাহলে জন্মস্থানের নিবন্ধক স্থায়ী ঠিকানার স্থানে ‘অপ্রাপ্য’ লিখে জন্ম নিবন্ধন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আইনের ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত নিবন্ধক প্রত্যয়ন করবেন যে উক্ত ব্যক্তি অথবা তার পিতা-মাতার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নাই। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের নিয়ম 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধের জন্য কি কি প্রমাণাদি তথা কাগজাবলীর প্রয়োজন আছে তা ইতোমধ্যে জেনেছেন। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ঠিক কিভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ফরম পূরণ করবেন। 

ধাপ ১ঃ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ওয়েবসাইটে গমন

বাংলাদেশ সরকার এই দেশের নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সকল কাজ বর্তমানে অনলাইনে সম্পন্ন করে থাকে। এই সকল কাজের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট হলো https://bdris.gov.bd/br/application# । এই লিংকটিতে ক্লিক করলেই খুব সহজে চলে যাবেন সংশ্লিষ্ট সাইটে। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ১

ধাপ ২ঃ জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ঠিকানা নির্বাচন

ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রথমেই নিচের চিত্রের ন্যায় একটি পেজ দেখতে পাবেন। এই পেজটিতে মূলত আপনি কোন ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধনটি করতে চাচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বর্তমান ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। যদি প্রবাসী কারো বিদেশে সন্তান হয়ে থাকে তবে দূতাবাসের মাধ্যমেও জন্ম নিবন্ধন করতে পারেন।অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ২

এবার ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যান।

ধাপ ৩ঃ নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির পরিচয়

এই ধাপে প্রথমত নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির পরিচিত এবং দ্বিতীয় ধাপে জন্মস্থানের ঠিকানা প্রদান করতে হবে। প্রথম ঘরে বাংলায় নিজের নামের প্রথম অংশ বাংলায় লিখতে হবে। দ্বিতীয় ঘরে নামের শেষ অংশ বাংলায় লিখতে হবে। এক্ষেত্রে দুই শব্দের নাম হলে সহজেই লিখতে পারবেন। ৩ শব্দের নাম হলে প্রথম শব্দটি প্রথম ঘরে লিখুন। আবার ৪-৫ শব্দের নাম হলে দুই ভাগ করে লিখুন। যদি নাম ১ শব্দের হয়ে থাকে তাহলে প্রথম ঘরে কিছু লেখার প্রয়োজন নেই। শুধু দ্বিতীয় ঘরে লিখুন। একইভাবে ইংরেজিতেও নিজের নাম লিখুন। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৩

জন্ম তারিখ নির্ধারণ করুন। জন্ম তারিখ নির্ধারণ করলে জন্মের তারিখ হতে বর্তমান তারিখ হিসাব করে সন্তানের বয়স দেখাবে। আর সেই বয়স অনুযায়ী অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি প্রমাণাদি লাগবে তাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখিয়ে দেবে। অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৩, ছবি ২

এই আবেদনের সময় সন্তানের বয়স ৪৫ দিনের কম দেওয়া হয়েছে বিধায় উপর্যুক্ত কাগজগুলো চেয়েছে। “আমার কাছে এই ডকুমেন্টগুলি আছে’ বাটনে ক্লিক করে এই নোটিশটি বন্ধ করুন। অতঃপর নিবন্ধনকারী পিতা-মাতার কত তম সন্তান তা উল্লেখ করুন। একই সাথে লিঙ্গ উল্লেখ করুন।  

‘জন্মস্থানের ঠিকানা’ অংশে প্রথমে দেশ নির্বাচন করুন। এতে একমাত্র অপশন থাকবে বাংলাদেশ। এরপরে বিভাগ নির্বাচন করুন। বিভাগ নির্বাচনের পরে জেলা নির্বাচনের সুযোগ আসবে। জেলাটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হলে নতুন করে ‘সিটি কর্পোরেশন / ক্যান্টনমেন্ট / উপজেলা’ নামক ঘর আসবে। সেখানে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারণ করলে ‘অঞ্চল’ ও “ওয়ার্ড’ নির্ধারনের সুযোগ পাবেন। অতঃপর বাংলা ও ইংরেজিতে ‘ডাকঘর’, ‘গ্রাম / পাড়া / মহল্লা’ ও ‘বাসা ও সড়ক’ এর ঘরগুলো সঠিক ভাবে পূরণ করুন।

ধাপ ৪ঃ পিতা-মাতার পরিচয়

সন্তানের পিতা-মাতার পরিচয়ই জন্ম নিবন্ধন সনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই পেজে প্রথমে পিতা ও পরে মাতা এর জন্ম নিবন্ধন নম্বর, ইংরেজি ও বাংলায় নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও তাদের জাতীয়তা প্রদান করুন। এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৪

তবে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর অনলাইনে থাকলে অবশ্যই তা দেওয়া উচিত। সেই জন্ম নিবন্ধন নম্বর হবে ১৭ সংখ্যার এবং সেটি প্রবেশ করিয়ে ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিতা-মাতার নাম আসবে। সেই নামগুলো তাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন অনুসারে হবে। সেখানে কোনো সম্পাদনা বা এডিট করবেন না। সব ঠিক থাকলে ‘পরবর্তী’ বাটনে আবারও ক্লিক করুন।

ধাপ ৫ঃ স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা

স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনার কাছ থেকে জানতে চাবে যে নিবন্ধনকারীর জন্মস্থানের ঠিকানা স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে চান কি না। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৫

‘কোনোটিই নয়’ ঘরে টিক দিলে নিচের চিত্রের ন্যায় যথাক্রমে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা পূরণের ঘর চলে আসবে। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৫, ছবি ২

আবেদনের এই অংশে বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা দুটিই পূরণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে জন্ম নিবন্ধন আইন ২০১৮ অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা হতে হলে ঐ স্থানে ব্যক্তির নূন্যতম তিন বছর থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ‘জন্মস্থান’ এর ঠিকানা পূরণের প্রক্রিয়ার মতই একই ভাবে ঠিকানা পূরন করতে হবে। ঠিকানা সঠিক ভাবে পূরণ করা হলে ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন। 

ধাপ ৬ঃ আবেদনকারীর প্রত্যয়ন 

আবেদনের এই অংশে আবেদনকারীর প্রত্যয়ন ও আবেদনকারী সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। মূলত যার জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে সে হলো নিবন্ধনকারী। আর যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করছে সে হলো আবেদনকারী। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম। ধাপঃ ৬

এই অংশে নিবন্ধনকারীর অনেক নিকট আত্নীয়ের নাম অপশন হিসেবে দেওয়া আছে। এমনকি ব্যক্তি নিজেও তার জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাই ‘নিজ’ অপশনটিও রয়েছে। তবে নিবন্ধনকারী ব্যক্তী অপ্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তার পক্ষে তার পিতা-মাতা অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সই দেবেন তথা আবেদন করবেন।

আবেদনকারী হিসেবে যেই অপশনটি পছন্দ করা হবে সেই অনুযায়ী নিচের ঘরগুলো পরিবর্তিত হবে। যদি আবেদনকারী হিসেবে ‘পিতা’ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিতার নাম চলে আসবে। ‘নিজ’ নির্ধারণ করলে নিবন্ধনকারীর নামই আসবে। আর ‘অন্যান্য’ নির্ধারণ করলে সেই অন্য ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং নাম অবশ্যই দিতে হবে। এছাড়াও সকল ক্ষেত্রেই একটি ফোন নম্বর অবশ্যই দিতে হবে। এই ফোন নম্বরটি দেওয়ার মাধ্যমেই মূলত আপনি আবেদনটি সম্পন্ন করবেন। একই সাথে একটি ইমেইল সংযুক্ত করে দেওয়াও ভাল।

অতঃপর সংযুক্তির পালা। জন্ম নিবন্ধন আইনের ২(ক) ধারা অনুযায়ী অভিভাবকের উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে হবে। তাই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে সকল ধরনের প্রমাণ সবুজ রঙের ‘সংযোজন’ বাটনে ক্লিক করে একটি একটি করে আপলোড করুন। যদি ভুল ফাইল আপলোড হয়ে গিয়ে থাকে তবে লাল রঙের ‘ডিলিট’  বাটনে ক্লিক করে ওই ফাইলটি ডিলিট করুন। অতঃপর প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি আপলোড করার পর ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন। এর ফলে আবেদনটি সম্পন্ন হবে।

ধাপ ৭ঃ আবেদন প্রিন্ট করা

আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করার একটি অপশন পাবেন। সেখান থেকে আপনার আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করে ফেলুন। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রিন্টার না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলেই ফাইলটি পিডিএফ (PDF) হিসেবে আপনার কম্পিউটারে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

তবে প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রিন্টে আপনার হেডার এবং ফুটার (Header & Footer) এর তথ্যগুলো দেখা যায়। কারণ হেডার ইনফরমেশন (Header Information) এ আপনার আবেদন পত্রের অ্যাপ্লিকেশন আইডি (Application ID) থাকবে। আবেদন পত্রের অন্য অংশে অ্যাপ্লিকেশন আইডি থাকে না। আর অ্যাপ্লিকেশন আইডি ছাড়া অনলাইনে আপনার আবেদনটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এটি প্রিন্ট এ এসেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিত হতে প্রিন্ট অপশন (Print Option) এর মোর সেটিংস (More Settings) এ ক্লিক করলে আরও অনেকগুলো অপশন দেখাবে। নিচের দিকের ‘অপশন’ সেকশনের পাশে Headers and Footer এর পাশে টিকচিহ্ন দিয়ে দিতে হবে। অতঃপর প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আবেদন প্রিন্টের পরে সেই আবেদন পত্রটি নিয়ে যেতে হবে আপনার আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভ অথবা সিটি কর্পোরেশনের অফিসে। আবেদন পত্রের সাথে অবশ্যই সকল প্রমাণাদির আসল কপি নিয়ে যেতে হবে। 

পরবর্তীতে অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদনটি মঞ্জুর হলো কি না তা আপনি নিয়মিত খেয়াল রাখতে পারবেন। এজন্য একই ওয়েবসাইটের ‘অন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা’ অপশনটি ব্যবহার করতে হবে। 

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের খরচ 

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নবজাতক জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনের ফি ০ টাকা। অর্থাৎ জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত পুরোপুরি বিনা ফিসে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন।

জন্মের ৪৫ দিন পার হওয়ার পর ৫ বছর অবধি জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ফিস দেশে ২৫ টাকা এবং বিদেশে ১ মার্কিন ডলার।

জন্মের ৫ বছর পার হওয়ার পর জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ফিস দেশে ৫০ টাকা এবং বিদেশে ১ মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য যে অনলাইনে ফিস পরিশোধের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। 

শেষকথা

জন্ম নিবন্ধন সনদ একজন নবজাতকের অধিকার। আর তার সেই অধিকার আদায়ের দায়িত্ব বর্তায় পিতা-মাতার ওপরে। জন্ম নিবন্ধন সনদ এমন একটি জিনিস যার জন্য আবেদন যত দ্রুত করা যায়, ততটাই সহজ। তাই সবচেয়ে ভাল হয় ৪৫ দিনের মধ্যেই নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করে ফেলা। তা সম্ভব না হলে ৪৫ দিনের পরে করলেও প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিত ৫ বছরের আগে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করে ফেলা। কারণ ৫ বছরের বেশি হলে স্কুলের পাবলিক পরীক্ষা দেওয়ার আগ অবধি সন্তানের কোনো সার্টিফিকেট থাকবে না যার সাহায্যে সে নাম প্রমাণ করতে পারবে। তাই একজন নবজাতকের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক পিতা-মাতারই উচিত যত দ্রুত সম্ভব অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফরম পূরণ করে ফেলা। 

অনবরত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১। জন্ম নিবন্ধন না করলে কি কি সমস্যার মুখোমুখি হবো?

উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে আপনি অধিকাংশ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে আইন অনুযায়ী সকলের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করাটা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশনা না মানলে সে আইনের চোখে অপরাধী এবং তাকে অনধিক ৫০০০ টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করার বিধান আছে। 

২। আমার জন্ম নিবন্ধন করা ছিল, আমার কি আবার অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে?

উত্তরঃ অবশ্যই করতে হবে। ম্যানুয়াল জন্ম নিবন্ধন সনদ গুলো অনলাইনে রুপান্তরের জন্য অনেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যে সকল জন্ম নিবন্ধন সনদ ইতোমধ্যে অনলাইনে রুপান্তরিত হয় নি সেগুলোর জন্য নতুন করে এখন আবেদন করতে হবে। 

৩। নতুন করে আবেদন করলে পুরোনো জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করার কি কোনো সুযোগ রয়েছে?

উত্তরঃ না, এখন পুরোনো নম্বর ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। নতুন আবেদনের পরে নাগরিককে নতুন জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। যদিও এতে তার নাগরিক জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না। 

৪। আগের যে সকল জন্ম নিবন্ধন সনদ শুধু বাংলা ভাষায় আছে তাতে কি ইংরেজি ভাষা সংযুক্ত করা যাবে?

উত্তরঃ নতুন করে ভাষা সংযোজনের সুযোগ নেই। ইংরেজি ভাষা যুক্ত করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধন হিসেবে যুক্ত করতে হবে। 

৫। বিয়ের পরে স্ত্রী জন্ম নিবন্ধন করলে কি পিতার নামের স্থলে স্বামীর নাম লিখতে হবে?

উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধনে আজীবন পিতা-মাতার নামই লিখতে হবে। এখানে স্বামীর নাম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। 

৬। স্ত্রী চাইলে কি স্বামীর ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন?

উত্তরঃ চাইলে স্বামীর ঠিকানায় স্ত্রী জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। আবার চাইলে নিজের জন্মস্থানের ঠিকানাতেও নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন।

রিলেটেড আর্টিকেল গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button